তাবলিগের বিভিন্ন বিভাগ

যেভাবে জাগতিক জীবনের সেসব বিভাগকে বিলুপ্ত করে শুধু একটি বিভাগ বহাল রাখার পরামর্শদান যেমনÑ কেবল ‘শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিভাগ বহাল রেখে বাকি সব বিভাগ বিলুপ্ত করে সেসব বিভাগে কর্মরত সবাইকে এই একই বিভাগে কাজে লাগানো হোক’ Ñএমন দাবি করা মারাত্মক বোকামি ও যুক্তিবিরুদ্ধ

যেভাবে পৃথিবীর রাষ্ট্রগুলোর নিজ নিজ রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ও জরুরি কর্মকা- সুষ্ঠু-সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদন এবং ব্যবস্থাপনার স্বার্থে মৌলিক ও সহায়ক কাজ বিভিন্ন ভাগে বণ্টন করে এক-একটি বিভাগের অধীনে ন্যস্ত করা হয়Ñ কোনো বিভাগ শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যের, কোনোটি মন্ত্রিপরিষদ ও বিচার বিভাগ, কোনোটি যোগাযোগ বিভাগ, আবার কোনটি স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিভাগ ইত্যাদি এসবের অধীনে আবার বিভিন্ন শাখা-সেল হয়ে থাকেÑ সেভাবে ‘ইসলাম’ ধর্মের শিক্ষাদীক্ষা, আমল, ইসলাহ-সংশোধন, হেফাজত-সংরক্ষণ, স্থায়িত্ব ও প্রচার-প্রসারের নিমিত্ত ধর্মীয় কাজ ও সেবাগুলোকে বিভিন্ন বিভাগে বণ্টনের বিকল্প নেই। কোনো বিভাগ শিক্ষা ও শিক্ষাদানের, কোনোটি ফাতওয়া ও বিধিবিধান গবেষণার, কোনোটি ফাতওয়া শিক্ষাদান ও তা অনুশীলনের, কোনোটি ইসলাহ-সংশোধনের লক্ষ্যে হাতেকলমে অনুশীলনের, কোনোটি সর্বসাধারণের মাঝে ওয়াজ-উপদেশ দান ও ‘তাবলিগ’ করার জন্য, কোনোটি অস্ত্র-হাতিয়ারের দ্বারা যুদ্ধ-জিহাদ চালিয়ে যাওয়ার, আবার কোনোটি কলম-লেখা, রচনা-গ্রন্থনা-গবেষণার মাধ্যমে প্রচার-প্রসারের জিহাদ ও তাবলিগ চালিয়ে যাওয়া এবং ধর্মের সব ধরনের বিরোধিতাকে প্রতিহত করে তা সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা। আবার এসব বিভাগের আওতায় বিভিন্ন শাখাপ্রশাখা হয়ে থাকে।
যেভাবে জাগতিক জীবনের সেসব বিভাগকে বিলুপ্ত করে শুধু একটি বিভাগ বহাল রাখার পরামর্শদান যেমনÑ কেবল ‘শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিভাগ বহাল রেখে বাকি সব বিভাগ বিলুপ্ত করে সেসব বিভাগে কর্মরত সবাইকে এই একই বিভাগে কাজে লাগানো হোক’ Ñএমন দাবি করা মারাত্মক বোকামি ও যুক্তিবিরুদ্ধ। সেভাবে ইসলামধর্মের বহুমুখী কর্মকা-ের বিভিন্ন বিভাগের সবাইকে সবকিছু ছেড়ে তাবলিগের কাজে অংশগ্রহণ করতে বলাও ধর্ম বিষয়ে সার্বিক জ্ঞানের অনুপস্থিতির পরিচায়ক এবং নিরেট বোকামির নামান্তর। বরং বাস্তবতা হচ্ছে, ধর্মের ওই সব বিভাগই তাবলিগের একেকটি বিভাগের নামান্তর। পার্থক্য শুধু এটুকু, ধর্মপ্রচারের পরিচিত এই তাবলিগ বিভাগটি সাধারণ জনগণের ময়দানে কাজ করে; আর বাকি বিভাগগুলো বিশেষ বিশেষ ময়দানে কাজ করে। তাবলিগের এই বিশেষ বিভাগগুলো হচ্ছে শিক্ষাদান বিভাগ, ধর্মীয় গ্রন্থ প্রকাশনা, রচনা, গবেষণা, অনুবাদ-ব্যাখ্যা-ফাতওয়া বিভাগ এবং আত্মিক-আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংশোধন তথা পীর-মুরিদি বিভাগ, মসজিদ-মাদ্রাসা পরিচালনা বিভাগ ইত্যাদি। তাবলিগের এ বিশেষ বিভাগগুলো কয়েকটি কারণে সর্বসাধারণের ময়দানে পরিচিত ও প্রচলিত ‘তাবলিগ’ এর চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণগুলো নিম্নরূপÑ 
এসব মৌলিক ও ‘বিশেষ শ্রেণি’র তাবলিগের মাধ্যমে ধর্মের মৌলিক সেবাগুলো সম্পাদন করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, পবিত্র কোরআন ও হাদিসের সহি-সঠিক ভাব-ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ ও নির্ধারণ করা হয়। মহান আল্লাহ্ ও রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিতÑ হুকুম-আহকাম, বিধিবিধানের স্পষ্টীকরণ ও নির্ধারণ, ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত, দৃষ্টিভঙ্গিগত সমালোচনা-অপবাদের ফেতনাগুলোর শিকড় উপড়ে ফেলে ইসলামের দুর্গগুলোর হেফাজত ও দৃঢ়ীকরণ ইত্যাদি।
এসব ক্ষেত্রে সেসব লোকের তাবলিগ করা হয়, যারা দূরদূরান্ত থেকে পিপাসা নিয়ে আসে। আর এটা জানা কথা, যারা দ্বীন শেখা ও জানার পিপাসা নিয়ে উপস্থিত হয়, তাদের বাদ দিয়ে অন্যদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া বা অন্যদের পেছনে মেহনত বা প্রাধান্য দান জায়েজ নয়। যেমনটি সূরা ‘আবাসা’, অন্ধ সাহাবি ইবনে উম্মে মাকতুমস কোরআন-হাদিসের অনেক আয়াত ও ঘটনা থেকেই প্রমাণিত।
 এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ধর্মের মৌলিক সেবাগুলো সম্পাদনের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়ে থাকে। ধর্মের এসব মৌলিক সেবার গুরুত্ব ক্রমিক-১ এ বলা হয়েছে।
ওই আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে, যেসব আলেমকে আল্লাহ্ তায়ালা ইসলামের সেসব জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়ের তাবলিগ ও হেফাজত করার যোগ্যতা নসিব করেছেন, তাদের পক্ষে তা ছেড়ে ‘সাধারণ তাবলিগ’ এর জন্য বেরিয়ে পড়া মোটেও জায়েজ নেই। একইভাবে সেসব শিক্ষার্থীর পক্ষেও বেরিয়ে পড়া জায়েজ নেই, যাদের মধ্যে তেমন যোগ্যতা অর্জিত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তবে মাঠেময়দানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে মাঝে মধ্যে ছুটির দিনগুলোয় ছাত্ররা তাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। এছাড়া যাদের বেলায় তেমন প্রত্যাশা করা যায় না, তাদের জন্য ওই সাধারণ তাবলিগে বেরিয়ে পড়া জরুরি। এদের পক্ষে মাদ্রাসায় পড়ে থেকে সময় নষ্ট করা জায়েজ নয়। এ দায়িত্ব মাদ্রাসাগুলোর পরিচালকদের ওপর বর্তায়। তাদের জন্য ফরজ, এমন অযোগ্য-অকর্মা ছাত্রদের মাদ্রাসায় ভর্তি করা ও আটকে রাখার পরিবর্তে, তাদের সাধারণ তাবলিগে বা অন্য কোনো ধর্মীয় কাজে লাগিয়ে দেওয়া।

লেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন 


অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে কোরবানি
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।
বিস্তারিত
অস্বচ্ছ লেনদেন এবং কোরবানি প্রসঙ্গ
বাবার হাতে ছেলে তার উপার্জনের টাকা তুলে দেবেÑ এতে আর
বিস্তারিত
জবাইসংক্রান্ত মাসআলা
মহিলার জবাই পুরুষের জবাইয়ের মতো। পুরুষের জবাইকৃত পশু যেমন হালাল,
বিস্তারিত
পশু কেনায় প্রতারণা থেকে বাঁচার
আসছে ঈদুল আজহা। এলাকায় এলাকায় বসবে পশুর হাট। মানুষ যাবে
বিস্তারিত
ইবরাহিম আদহামের জীবন কথা
ইবরাহিম আদহাম ছিলেন বলখের বাদশাহ। বলখের ভৌগলিক অবস্থান ছিল বৃহত্তর
বিস্তারিত
সুফিকোষ
আবদাল আরবি শব্দ। এটি বদল শব্দমূল থেকে গঠিত। আবদাল শব্দটি
বিস্তারিত