পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব— সাকরাইন

ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিণত হয়েছে ‘সাকরাইন’। সাকরাইন হচ্ছে বাংলাদেশের পুরান ঢাকার অলিগলিতে উড়ানো ঘুড়ি উৎসব। রঙ-বেরঙের নানা ঘুড়ি উড়ানো আর দিনভর নানা আয়োজনে প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির দিন আয়োজিত হয় এটি। পৌষ সংক্রান্তি হল পৌষ মাসের শেষ দিন। এটি মকর সংক্রান্তি নামেও পরিচিত।

মূলত এই দিনটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় উৎসব হলেও এখন এটি পরিচিত ঘুড়ি উৎসব হিসেবে। ঠিক প্রথম কবে এই উৎসব চালু হয় তা সঠিকভাবে না জানা গেলেও ধারণা করা হয় মুগল আমলে ঢাকার অভিজাত লোকজনের বিবিধ বিনোদনের মধ্যে ঘুড়ি উড়ানো ছিল অন্যতম।

কোনো কোনো সূত্রমতে, ১৭৪০-এর দশকে নায়েব-ই-নাজিম নওয়াজিশ মুহম্মদ খানের আমলে ঘুড়ি উড়ানো উৎসব একটা ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছিল। তখন থেকেই বাণিজ্যিক আকারে ঘুড়ি তৈরি শুরু হয় এবং বাড়ির ছাদ, খোলা জায়গা বা উন্মুক্ত ময়দান থেকে আকাশে প্রচুরসংখ্যক ঘুড়ি উড়তে দেখা যায়।

সাকরাইন উপলক্ষে পুরান ঢাকার মানুষদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। এক সময় ঘুড়ি হতে শুরু করে সুতা বানানো সবই হাতে করা হত। যুগের পরিবর্তনে এখন দোকানে মেশিনে তৈরি করা ঘুড়ি, সুতা, নাটাই পাওয়া যাবার জন্যে এই ঐতিহ্য কিছুটা বিলুপ্ত। তবে এখনো অনেকেই সুতা নিজেরাই তৈরি করে নেন।

সাধারণ সুতা এবং ঘুড়ির সুতার মধ্যে একটি বিশাল প্রভেদ আছে। ঘুড়ির সুতা অনেক মোটা এবং ধারালো হয় যাতে ঘুড়ি উড়িয়ে অন্য ঘুড়ির সাথে কাটাকুটি খেলতে উবিধা হয়। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ সুতাকে ঘুড়ির উপযোগী সুতাতে পরিণত করা হয় তাকে বলা হয় মাঞ্জা। এই প্রক্রিয়ায় ভাতের মাড়, কাঁচের সুক্ষ গুঁড়া এবং পছন্দসই রঙ সাধারণ সুতার সঙ্গে মেশানো হয়।

এরপর শুকিয়ে নিলেই হয়ে গেল ঘুড়ির সুতা। সাকরাইনে পুরান ঢাকার একএকটা বাড়ি একএক দলের ঘাঁটিতে পরিণত হয়। প্রতিযোগিতা চলে এক বাড়ির সঙ্গে অন্যান্য সব বাড়ির। ঘুড়ি উড়িয়ে অন্য উড়ন্ত ঘুড়ির সুতা কাটাটাই হল প্রতিযোগিতা। আর সুতা কাটা ঘুড়ি হল বিজয়ী দলের পুরস্কার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই প্রতিযোগিতা। নিজেদের উৎসাহ উদ্দীপনা দেয়ার জন্য ছাদে ছাদে চলে গান বাজনা।

সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক পটকা ফুটানো। ছোট-বড় নানা রকম পটকা বাজি, আতশবাজি, তারাবাত্তি আর ফানুস উড়ানোর মধ্য দিয়ে যার সমাপ্তি। তবে এই আলোকক্রিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হচ্ছে আগুন নিয়ে খেলা দেখানো। স্থানীয়রা যেটাকে নিজেদের শৌর্যের প্রদর্শনী বলে মনে করে।


জীবনযুদ্ধে থেমে নেই জয় মালা
নাম জয়মালা বেগম স্বামী মৃত হালু মিয়া। সংসারে চার মেয়ে
বিস্তারিত
সফল উদ্যোক্তা আলিয়াহ ফেরদৌসি
চেনা গণ্ডির সীমানা ভেঙে বেরিয়ে আসছেন নারীরা। কৃষিকাজ থেকে শুরু
বিস্তারিত
রংপুর তাজহাট জমিদার বাড়ি ইতিহাস-ঐতিহ্যের
রংপুর মহানগরীর  দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত তাজহাট জমিদার বাড়ি। রংপুর মূল
বিস্তারিত
ডায়াবেটিক প্রতিরোধে স্টেভিয়া: চিনির চেয়ে
বিরল উদ্ভিদ স্টেভিয়া এখন বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায়
বিস্তারিত
কাউনিয়ায় বালু জমিতে বস্তায় বিষ
বালু জমিতে বস্তায় বিষ মুক্ত লাউ চাষ করে এলাকাবাসীকে তাক
বিস্তারিত
গফরগাঁওয়ে কেঁচো সার উৎপাদনে ভাগ্য
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সাবেক মেম্বার আবুল হাশেম নিজেই কেঁচো সার (ভার্মি
বিস্তারিত