সবজি চাষে কুলসুমার বছরে লাখ টাকা সঞ্চয়

বাহুবল উপজেলার মিরপুর পয়েন্ট থেকে ধুুলিয়াখাল বাইপাস সড়ক দিয়ে এগিয়ে গেলেই লামাতাসী ইউনিয়নের ভুলকোট গ্রাম। নিবিড় ছায়াঘেরা এ গ্রামের মাঠে শুধু সবুজ ফসল। হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে জমিতে কাজ করছিলেন কুলসুমা খাতুন। তিনি সব ফসলই ফলান। দেখাদেখি এলাকার অন্যান্য কৃষকও নানা জাতের ফসল ফলাতে শুরু করেছেন। তিনি এলাকার কৃষকের অনুপ্রেরণা।

আলাপকালে কুলসুমা জানান, বাড়ির ভিটেমাটি ছাড়া কোনো নিজস্ব জমি নেই। এজন্য জীবিকার তাগিদে এক লোকের কাছ থেকে বাড়ির পাশের কিছু জমি বন্ধক নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন। এতে বেশ লাভ হয়। এরপর আরও কিছু জমি নিয়ে সবজি চাষ করার ইচ্ছা হয় তার। কিন্তু টাকা ছিল না। এ সময় তিনি সন্ধান পান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশের বাহুবল উপজেলার মিরপুর শাখার ফিল্ড অফিসার জামরুল খন্দকারের। তার মাধ্যমে তিনি একটি ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেন। এ টাকা তিনি বিনিয়োগ করেন কৃষি কাজে। এতে ধীর ধীরে সফলতা আসতে শুরু করে। সবজি বিক্রি করে এ টাকা পরিশোধ করে দেন তিনি।

পরে এ সংস্থা থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে জমি বন্ধক রাখেন কুলসুমা। সব মিলিয়ে বর্তমানে ১ একর জমিতে তিনি চাষাবাদ করছেন। বছরজুড়ে এ জমিতে বারোমাসি সবজি চাষ হচ্ছে। সব খরচ ও সংসারের ব্যয় নির্বাহের পরও বছরে তার প্রায় লাখ টাকা সঞ্চয় হচ্ছে।

কুলসুমা জানান, তার সব কাজে সহযোগিতা করেন স্বামী সফর আলী মিয়া। তার রয়েছে তিন কন্যাসন্তান। তারা স্কুলে পড়াশোনা করছে। তিনি জানান, বর্তমানে তার খেতে সবজির মধ্যে রয়েছে আলু, ধনেপাতা, মরিচ, শসা-ক্ষিরা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, মুলা, টমেটো ইত্যাদি। তার স্বামী সফর আলী এলাকার লোকজনকেও এ ধরনের সবজি চাষে উৎসাহিত করছেন।

তিনি বলেন, নারী হয়েও কুলসুমার সবজি চাষে অংশগ্রহণ দেখে এলাকার কৃষক পুরোদমে কৃষিতে মনোযোগী হয়েছেন। সবজি চাষে তার স্ত্রী কুলসুমাকে পাশে পেয়ে তিনি উজ্জীবিত। স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলে বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জমিতে প্রয়োগ করছেন গোবর। তাদের দেখাদেখি এলাকার মোস্তফা মিয়া, সনজব আলী, সমুজ মিয়া, ফুল মিয়াসহ অন্যান্য কৃষক উৎসাহিত হয়ে বিষমুক্ত সবজি চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। এবার অতিবৃষ্টিতে সবজির কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এরপরও তারা থেমে নেই। নিজেদের মেধা ও শ্রম কাজে লাগিয়ে কৃষিতে এগিয়ে চলেছেন তারা।

আরডিআরএস বাংলাদেশের এলাকা ব্যবস্থাপক মোঃ মোমিনুল ইসলাম জানান, সংস্থাটি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে অল্প সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে কৃষির উন্নয়ন ঘটাতে প্রকৃত কৃষককে মধ্যে ঋণ দিচ্ছে। এখানে মিরপুর শাখা থেকে কুলসুমাকে দ্বিতীয় দফায় ঋণ দেওয়া হয়েছে। এ ঋণের টাকায় কুলসুমার সাফল্য এসেছে। তার মতো অন্যান্য কৃষানিকেও ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, হবিগঞ্জের মাটিতে প্রচুর সবজি চাষ হচ্ছে। এখানকার কৃষক পরিশ্রমী। কৃষকের উন্নয়নে প্রয়োজনে আমরা মাঠে গিয়ে কাজ করছি। এতে কৃষক উৎসাহিত হচ্ছেন। আমরা কুলসুমাকে কৃষি সম্পর্কিত সব সেবা দিতে প্রস্তুত।


তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারি অনুদানে নির্মিত
ছোটবেলায় সিনেমা হলে গিয়ে অনেক ছবি দেখতাম। চলচ্চিত্রের একটা অদৃশ্য
বিস্তারিত
ভোলায় প্রান্তিক মানুষের আস্থা গ্রাম
ভোলায় ৫ টি উপজেলার ৪৬ টি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের
বিস্তারিত
পঞ্চাশ বছর ধরে শিক্ষার আলো
কোথাও খোলা উঠুনে চাটাই পেতে। আবার কোথাও কারো বাড়ির বারান্দায়।
বিস্তারিত
রংপুরে শিম চাষে কৃষকের সাফল্য
রংপুর জেলায় শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছে কৃষকরা। অপরদিকে
বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের হাওরে নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের
কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা
বিস্তারিত
জলের ফলে দিন বদল
নদী মাতৃক এই দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে
বিস্তারিত