দাওয়াত ও তাবলিগ উম্মাহর ঐক্য

দাওয়াত ও তাবলিগ। শেষ নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর রেখে যাওয়া আমানত। দাওয়াতের কাজের সঙ্গে মিশে আছে প্রিয় নবি (সা.) এর রক্ত। সাহাবায়ে কেরামের অক্লান্ত পরিশ্রমের অন্য নাম দাওয়াত। বহু ত্যাগতিতিক্ষার বিনিময়ে আমাদের কাছে এ দ্বীন পৌঁছেছে। দাওয়াত ও তাবলিগ আল্লাহর নির্দেশ, নবীজির দেখানো পথ, সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত কর্মনীতি। কোরআন মজিদের ভাষায়Ñ সে ব্যক্তিই উত্তম, যে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে। পবিত্র কোরআনে সেই লোক সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘সে ব্যক্তির চেয়ে কার কথা উত্তম হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকে এবং নিজেও সৎকাজ করে, আর বলে আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা হা’মীম সিজদাহ : ৩৩) যুগে যুগে প্রধানত নবী-রাসুলরাই মানুষকে আল্লাহর পথে ডেকেছেন। কিন্তু আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.) সর্বশেষ রাসুল হওয়ায় পৃথিবীতে আর কোনো নবি ও রাসুলের আগমন হবে না। তাই মহান আল্লাহ তার উম্মতের ওপরই এ মহান দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের প্রেরণ করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে এবং অন্যায় কাজে বাধা দেবে আর আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখবে।’ (সূরা আলে ইমরান : ১১০)।

মহান আল্লাহ মানুষকে তার পথে ডাকার মূলনীতি বাতলে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের দিকে আহ্বান করুন হিকমত বা প্রজ্ঞা দ্বারা, সুন্দর উপদেশ দ্বারা এবং তাদের সঙ্গে উৎকৃষ্ট পদ্ধতিতে আলোচনা-বিতর্ক করুন।’ (সূরা নাহল : ১২৫)। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যেন তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহ্বান করবে, ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৪)।
উম্মতে মুহাম্মদিকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বানানোর কারণ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্য তোমাদের বের করা হয়েছে। তোমরা ন্যায় কাজে আদেশ এবং অন্যায় কাজে নিষেধ করো এবং আল্লাহতে বিশ্বাস করো।’ (সূরা আলে ইমরান : ১১০)।
মহান রাব্বুল আলামিন মুসলমানদের পরস্পর ঐক্যবদ্ধ থাকতে আদেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা পরিহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রজ্জু আঁকড়ে ধরো ঐক্যবদ্ধভাবে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৪)। পূর্ববর্তী নবীদেরও ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন আল্লাহ। তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন দ্বীন, যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি নুহকে, আর যা আমি ওহি করেছি আপনাকে এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহিম, মুসা, ঈসাকে এই বলে যে, তোমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠা করো, তাতে দলাদলি, বিচ্ছিন্নতা করো না।‘ (সূরা শূরা : ১৩)
তাফসিরে ইবনে কাসিরে সূরা শূরার এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মহান রাব্বুল আলামিন সব নবীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ভালোবাসা ও ঐক্যের; নিষেধ করেছিলেন দলাদলি ও মতভেদের। (তাফসিরে ইবনে কাছির : ৭/১৯৫)। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দীন হলো নসিহত (কল্যাণ সাধনের জন্য উপদেশ দান)। সাহাবিরা বললেন, কার জন্য? রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসুল (সা.) এর জন্য, মুসলিমদের নেতৃবর্গের জন্য এবং সাধারণ মুসলিমদের জন্য।’ (মুসলিম)।
প্রিয় নবি (সা.) সাহাবিদের থেকে সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের বায়াত গ্রহণ করতেন। উবাদাহ ইবনু সামিত বলেন, ‘আমরা রাসুল (সা.) এর হাতে বায়াত করি আনুগত্যের এবং সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের এবং এ কথার ওপর যে, আমরা মহান আল্লাহর জন্য কথা বলব এবং সে বিষয়ে কোনো নিন্দুকের নিন্দা বা গালাগালের তোয়াক্কা করব না’। (মুসনাদে আহমাদ)।
কোনো পরিস্থিতিতেই ঐক্য বিনিষ্ট করে বিচ্ছিন্নতার পথে যাওয়া যাবে না; বরং দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি (নেতার) আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেল এবং জামায়াত অর্থাৎ বৃহত্তর সমাজ ও জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যুবরণ করল, সে জাহেলি মৃত্যুবরণ করল। (মুসলিম)। 
বিদায় হজে রাসুল (সা.) দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘উপস্থিত লোকরা যেন দ্বীনের এ দাওয়াত অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌঁছে দেয়।’ এর মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদির প্রত্যেকে তাবলিগ তথা দ্বীন প্রচারের ব্যাপারে দায়িত্বশীল হয়ে যায়। প্রত্যেক ব্যক্তি দ্বীন সম্পর্কে যা জানে, তা-ই অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল। (বোখারি : ৩২৭৪)। এ মহৎ দায়িত্বকে সর্বদা বেগবান করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের দেখানো পথে চলতে হবে। কোনো নিন্দুকের নিন্দা পরোয়া না করে প্রিয় নবি (সা.) এর মহান এ জিম্মাদারি সঠিকভাবে পালন করার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে।


বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের কর্তব্য
গুরুজন হলেন আমাদের অমূল্য ধন এবং পরম শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : মহিলারা মাহরাম ব্যতিরেকে আটচল্লিশ মাইল বা এর চেয়ে
বিস্তারিত
আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে পাঠাগারের গুরুত্ব
বলা হয়ে থাকে, যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত
বিস্তারিত
কুতুববাগ দরবারে ফাতেহা শরিফ শুরু
হযরত মাওলানা কুতুবুদ্দীন আহমদ খান মাতুয়াইলী (রহ.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষে
বিস্তারিত
ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিতে সম্পদ
‘সম্পদ’ অর্থনীতির অন্যতম উপাদান। সম্পদ ছাড়া অর্থনীতি কল্পনা করা যায়
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
প্রশ্ন : আমার একটি বিষয় জানার খুবই প্রয়োজন। যেহেতু আমি
বিস্তারিত