জিনদের মধ্যেও কি নবী এসেছিলেন

জিন জাতির মধ্য থেকে নবী ও রাসুল এসছেন কি না,

এ নিয়ে বিস্তর মতপার্থক্য আছে। তবে জমহুর ওলামায়ে কেরামের মতে, জিন সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো নবী-রাসুলের আগমন ঘটেনি। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.), মুজাহিদ (রহ.), হজরত কালুবি (রহ.), হজরত আবু উবাইদ (রহ.) প্রমুখ একই ধরনের রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন।
সূরা আল আনআমের ১৩০নং আয়তে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে নবী-রাসুলরা আসেননি?’
হজরত মুজাহিদ (রহ.) এ আয়াতের তাফসিরে লিখেছেন, জিনদের মধ্য থেকে কোনো নবী আসেননি। জিনদের মধ্য থেকে এসেছেন নাজজারাহ বা সতর্ককারী। এরপর তিনি তার বক্তব্যের সপক্ষে কোরআনের অন্য একটি আয়াত থেকে প্রমাণ পেশ করেন।
সূরা আল আহকাফের ২৯নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যখন কোরআন পাঠ শেষ হলো, তখন তারা (জিন) তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারী হিসেবে ফিরে গেল।’
সুতরাং বোঝা গেল, আগের আয়াতের ‘তোমাদের মধ্য থেকে’ কথা দ্বারা জিনদের বেলায় উদ্দেশ্য হলো রাসুলদের পক্ষ থেকে পাঠানো দূত।
ইমাম যাহাক (রহ.) এর মতে, জিনদের মধ্য থেকে নবী এসেছেন। তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তুমি কি শোননি আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে নবী-রাসুলরা আসেননি?’ (সূরা আল আনআম, আয়াত নং ১৩০)।
তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা এ আয়াতে মানুষ ও জিন সম্প্রদায়ের রাসুলদের কথা বলেছেন। (ইবনে জারির)
আল্লামা ইবনে হাজম (রহ.) বলেছেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর আগে মানুষের মধ্য থেকে জিনদের প্রতি কোনো নবী-রাসুল আসেননি। কারণ তারা মানুষ বা মানবজাতির মধ্যে শামিল নয়।
অন্যদিকে রাসুল (সা.) বলেছেন, পূর্ববর্তী প্রত্যেক নবী ও রাসুলকে তাদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে নবী-রাসুল করে পাঠানো হয়েছিল।
শুধু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) যেহেতু পুরো মাখলুকাতের নবী, সেহেতু মুহাম্মদ (সা.) এর আগমনের পর জিনদের মধ্য থেকে নবী বা রাসুল আসেননি; কিন্তু মুহাম্মদ (সা.) এর আগে জিনদের মধ্য থেকে নবী-রাসুল এসেছে।
জিনদের মধ্য থেকে নবী বা রাসুল এসেছিলেন কি না, সে ব্যাপারে মতপার্থক্য থাকলেও হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর আগমনের পর তিনিই ছিলেন জিন ও মানবজাতির জন্য একমাত্র রাসুলÑ এ ব্যাপারে সবাই একমত। কেননা রাসুল (সা.) নিজেই বলেছেন, ‘আমি জিন ও মানবজাতির প্রতি নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।’ (মুসলিম শরিফ, কিতাবুল মসজিদ হাদিস নং ৩, মুসনাদে আহমাদ ১:২৫০, ইবনে হাব্বান হাদিস নং ২০০, তাফসিরে ইবনে কাসির ৬:১০০) 
(তথ্যসূত্র : জিন ও ফেরেশতাদের বিস্ময়কর
ইতিহাস, পৃষ্ঠা ৬৩-৬৬)


হে কল্যাণপন্থি, অগ্রসর হও
রমজান মাস হলো  নামাজ-রোজার মাধ্যমে ব্যক্তির আত্মাকে পবিত্র করার সবচেয়ে
বিস্তারিত
আজকের তারাবি
আজ নবম তারাবিতে সূরা হুদ পুরোটা এবং সূরা ইউসুফের ১
বিস্তারিত
হাদিসের বাণী
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা
বিস্তারিত
কোরআনের আলো
‘সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাসের বদলা। আর সম্মান রক্ষা করারও বদলা
বিস্তারিত
রোজা অবস্থায় তেল সুরমা ও
রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় প্রয়োজনে তেল সুরমা ও সুগন্ধি ব্যবহার
বিস্তারিত
কোরআন তেলাওয়াত
রমজান কোরআনের মাস। তাই এ মাসে অন্যতম কাজ হলো বেশি
বিস্তারিত