ধৈর্যের প্রতিভূ আইয়ুব (আ.)

ধৈর্যের প্রতিভূ এবং আল্লাহর ওপর আস্থায় অনন্য উপমা প্রদর্শনকারীদের আলোচনা সামনে এলেই যার নাম সর্বপ্রথম উচ্চারিত হয় তিনি হলেন আল্লাহর নবী আইয়ুব (আ.)। ৭০ বছর বয়সে তিনি পরীক্ষায় পতিত হন। তার জিহ্বা ও অন্তঃকরণ ছাড়া পুরো দেহে পচন ধরে। তিনি ধৈর্যের চরম পরাকাষ্ঠা দখিয়ে এ অবস্থাতেই আল্লাহর শুকরিয়া করতে থাকেন। আল্লাহর জিকির ও প্রশংসায় জিহ্বাকে সজীব রাখেন। অবশেষে আল্লাহ তাকে এ থেকে উদ্ধার করেন। পরীক্ষা থেকে মুক্ত হওয়ার অনেক পরে ৯৩ বছর বা তার কিছু বেশি বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (তাফসিরে কুরতুবি)।
পবিত্র কোরআনে ৪টি সূরার ৮টি আয়াতে তার কথা আলোচিত হয়েছে। তা হলোÑ নিসা ১৬৩, আনআম ৮৪, আম্বিয়া ৮৩-৮৪ এবং ছোয়াদ ৪১-৪৪। আল্লাহ এরশাদ করেন, ‘আর স্মরণ করো আয়ুবের কথা, যখন সে তার রবকে আহ্বান করে বলেছিল, ‘আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি। আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম। আর তার যত দুঃখ-কষ্ট ছিল তা দূর করে দিলাম এবং তার পরিবার-পরিজন তাকে দিয়ে দিলাম। আর তাদের সঙ্গে তাদের মতো আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে রহমত এবং ইবাদাতকারীদের জন্য উপদেশস্বরূপ।’ (সূরা আম্বিয়া : ৮৩-৮৪)। 
আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আইয়ুব একদিন নগ্নাবস্থায় গোসল করছিলেন (অর্থাৎ বাথরুম ছাড়াই খোলা স্থানে)। এমতাবস্থায় তার ওপর সোনার টিড্ডি পাখিগুলো এসে পড়ে। আইয়ুব সেগুলোকে ধরে কাপড়ে ভরতে থাকেন। অবস্থাদৃষ্টে আল্লাহ তাকে ডেকে বলেন, হে আইয়ুব! আমি কি তোমাকে এসব থেকে অমুখাপেক্ষী করিনি? আইয়ুব বললেন, তোমার ইজ্জতের কসম! অবশ্যই তুমি আমাকে তা দিয়েছ। কিন্তু তোমার বরকত থেকে আমি অমুখাপেক্ষী নই।’ (বোখারি, ‘সৃষ্টির সূচনা ও নবীগণের আলোচনা’ অনুচ্ছেদ)।
আইয়ুব (আ.) সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে উপরোক্ত বক্তব্যগুলোর বাইরে আর কোনো বক্তব্য বা ইঙ্গিত নেই। কোরআন থেকে মূল যে বিষয়টি প্রতিভাত হয়, তা হলোÑ আল্লাহ আইয়ুব (আ.) কে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলেন। সে পরীক্ষায় তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। যার পুরস্কারস্বরূপ আল্লাহ তাকে হারানো নেয়ামতগুলোর দ্বিগুণ ফেরত দিয়েছিলেন। আল্লাহ এখানে ইবরাহিম, মুসা, দাউদ, সোলায়মান, আইয়ুব, ইউনুস প্রমুখ নবীর কষ্ট ভোগের কাহিনি শুনিয়ে শেষ নবীকে সান্ত¡না দিয়েছেন। সেই সঙ্গে উম্মতে মুহাম্মাদকে যে কোনো বিপদাপদে দ্বীনের ওপর দৃঢ় থাকার উপদেশ দিয়েছেন। 
আল্লাহ বলেন, ‘আমরা তার দোয়া কবুল করেছিলাম এবং তার দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিয়েছিলাম।’ (আম্বিয়া : ৮৪)। কীভাবে দূর করা হয়েছিল, সে বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তাকে ভূমিতে পদাঘাত করতে বলেন। অতঃপর সেখান থেকে স্বচ্ছ পানির ঝরনাধারা বেরিয়ে আসে, যাতে গোসল করায় তার দেহের উপরের কষ্ট দূর হয় এবং ওই পানি পান করায় তার ভেতরের কষ্ট দূর হয়ে যায়।’ (ভাবার্থ, সূরা ছোয়াদ : ৪২)। এটি অলৌকিক মনে হলেও বিস্ময়কর নয়। এর আগে শিশু ইসমাইলের ক্ষেত্রে এটা ঘটেছে। পরবর্তীকালে হুদায়বিয়ার সফরে রাসুলের হাতের বরকতে সেখানকার শুষ্ক পুকুরে পানির ফোয়ারা ছুটেছিল, যা তাঁর সঙ্গে থাকা ১৪০০ সাহাবির পানির কষ্ট নিবারণে যথেষ্ট হয়। বস্তুত এগুলো নবীদের মোজেজা। নবী আইয়ুবের জন্য তাই এটা হতেই পারে আল্লাহর হুকুমে।
আমরা ছোটখাটো নানা অজুহাতে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করি। তুচ্ছ কারণে নামাজ-রোজার মতো ফরজ বিধান ত্যাগ করি। হাশরের মাঠে এসব অজুহাত আল্লাহ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবেন। তাবেঈ বিদ্বান মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘কেয়ামতের দিন ধনীদের সম্মুখে প্রমাণস্বরূপ পেশ করা হবে সোলায়মান (আ.) কে, ক্রীতদাসদের সামনে পেশ করা হবে ইউসুফ (আ.) কে এবং বিপদগ্রস্তদের সামনে পেশ করা হবে আইয়ুব (আ.) কে।’ (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ : ১/২০৭)। 
হরোমানা আক্তার


হে কল্যাণপন্থি, অগ্রসর হও
রমজান মাস হলো  নামাজ-রোজার মাধ্যমে ব্যক্তির আত্মাকে পবিত্র করার সবচেয়ে
বিস্তারিত
আজকের তারাবি
আজ নবম তারাবিতে সূরা হুদ পুরোটা এবং সূরা ইউসুফের ১
বিস্তারিত
হাদিসের বাণী
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা
বিস্তারিত
কোরআনের আলো
‘সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাসের বদলা। আর সম্মান রক্ষা করারও বদলা
বিস্তারিত
রোজা অবস্থায় তেল সুরমা ও
রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় প্রয়োজনে তেল সুরমা ও সুগন্ধি ব্যবহার
বিস্তারিত
কোরআন তেলাওয়াত
রমজান কোরআনের মাস। তাই এ মাসে অন্যতম কাজ হলো বেশি
বিস্তারিত