সিলেটের শুঁটকি যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে

সিলেটের মাহতাবপুরের শুঁটকির পরিচিতি এখন বিশ্বময়। এখানে উৎপাদিত শুঁটকি রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এখানে শুঁটকি উৎপাদনের বদৌলতে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষের। সব মিলিয়ে গ্রামটির পরিচিতিও এখন শুঁটকি গ্রাম হিসেবে।

মহানগরী থেকে মাহতাবপুরের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। এ গ্রামের প্রায় ৫ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র। বিশ্বনাথ উপজেলায় অবস্থিত গ্রামটি সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কলাগোয়া। সড়কের উত্তর পাশে মাহতাবপুর শুঁটকি উৎপাদন কারখানা; আর দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি বড় মৎস্য আড়ত। এ আড়তে প্রতিদিন সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ আসে। এ মাছের বাজারকে কেন্দ্র করেই মূলত গড়ে উঠেছে মাহতাবপুর শুঁটকির আড়ত।

সরেজমিন দেখা গেছে, ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকরা এখন শুঁটকি উৎপাদনে ব্যস্ত। কেউ মাছ কেটে শুঁটকির জন্য প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ কেউ শুঁটকি শুকাচ্ছেন। সমতল ভূমির পাশাপাশি কেউ কেউ মাচাং (সমতল থেকে ৪-৫ ফুট উঁচু স্থান) বেঁধে শুঁটকি শুকাচ্ছেন। আর শুঁটকির গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকাজুড়ে। তবে গন্ধ নিয়ে এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ নেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সারা বছর ধরে শুঁটকি উৎপাদন করেন। তবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি হলো মাছ শুকানোর ভরা মৌসুম।
তারা জানান, সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর থেকে তারা মাছ সংগ্রহ করেন। সব মিলিয়ে তারা ১৮ থেকে ২০ প্রজাতির শুঁটকি উৎপাদন করেন। এখান থেকে বছরে প্রায় ২০০ টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য ১ কোটি টাকার কাছাকাছি।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মাহতাবপুরের শুঁটকি ব্যবসায়ী আলতাফুর রহমান জানান, এখানকার শুঁটকির চাহিদা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মার্কেটে দিন দিন বাড়ছে।
 তিনি জানান, পাইকারের কাছে প্রতি কেজি পুঁটি মাছের শুঁটকি তারা ৬০০ থেকে ৭০০ এবং টেংরা মাছের শুঁটকি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করেন। মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাইকাররা তাদের কাছ থেকে শুঁটকি ক্রয় করেন। তারা ক্রয় করা পুঁটির শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করে ‘সিঁদল’ শুঁটকি তৈরি করেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের ‘সিঁদল’ শুঁটকির কদরই আলাদা। এ সিঁদল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি দেশীয় বাজারেও বিক্রি হয়। তাদের উৎপাদিত শুঁটকি যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও জানান, এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ৫০ ব্যবসায়ী। শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৫০০। রহিমা বেগম নামে এক নারী শ্রমিক জানান, বাড়ির পাশের শুঁটকি আড়তে কাজ করতে পেরে তিনি আনন্দিত। প্রতিদিন এখান থেকে তিনি ২০০ টাকা মজুরি পান বলে জানান।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২০ লাখ সিলেটের মানুষ বসবাস করেন। এর মধ্যে ৫ লাখের বসবাস শুধু যুক্তরাজ্যে। প্রবাসীদের কাছে শুঁটকির কদরই আলাদা। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে সিঁদল শুঁটকির চাহিদা ব্যাপক। লন্ডন থেকে অনেকের স্বজন দেশে এলে তারা মূলত সঙ্গে সিঁদল শুঁটকি নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

সম্প্রতি দেশ ঘুরে যাওয়া যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সুফি সুহেল আহমদ জানান, তিনি লন্ডন যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রায় ১০ কেজি শুঁটকি নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে ৪ কেজি সিঁদল শুঁটকি। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে চড়া দামে সিঁদল শুঁটকি বিক্রি হয়। এ কারণে তিনি যতবার দেশে আসেন, ততবার সঙ্গে করে সিঁদল শুঁটকি নিয়ে যান।


মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত
এবার রংপুরে বেশি পশু
রংপুর বিভাগে এবার ঈদে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের হাটগুলোয় প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। গতবারের চেয়ে
বিস্তারিত