বিচিবিহীন পেয়ারা চাষে নীরব বিপ্লব

বিচিবিহীন পেয়ারা চাষে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার কাকনহাট এলাকার আবদুল জলিল। তিনি ৪০ বিঘা জমিতে এ পেয়ারা চাষ করেছেন। তার বাগানে সাড়ে ৪ হাজার গাছ রয়েছে। এসব গাছে পেয়ারা ধরেছে। ৮০ টাকা কেজি দরে এগুলো বিক্রি করছেন। জুন নাগাদ পুরোদমে এ পেয়ারা বিক্রি করা যাবে বলে তিনি জানান।

আবদুল জলিল নাটোর সদর উপজেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি ফল চাষ করার বেশ আগ্রহ রয়েছে তার। তিনি বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে নতুন ফল উৎপাদনের স্বপ্ন দেখি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণকালে দুটি বিচিবিহীন পেয়ারার চারা গাছ ৪০ হাজার টাকায় কিনে দেশে নিয়ে আসেন। সে দেশে এ পেয়ারাকে বলা হয় ক্রিস্টান তাওয়ান। গোদাগাড়িতে আমার ফলের বাগানে এটি চাষ করে সফলতা পেয়েছি। এরপর ২০১৫ সালের দিকে থাইল্যান্ড থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে এ ধরনের আরও তিনটি চারা গাছ কিনে দেশে আনি। সে দেশে এ পেয়ারাকে বলা হয় জাম্বু গোয়াভা। এ চারাগাছগুলো থেকে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে এখন ৪০ বিঘা জমিতে শুধু পেয়ারা চাষ করছি।

বর্তমানে বাগানে ব্যাপক ফল এসেছে। জুন মাস থেকে ব্যাপক আকারে বাজারে উঠবে পেয়ারা। অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন এ পেয়ারা বিক্রি করে তিনি লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, দেশে তিনিই প্রথম এ ধরনের পেয়ারা চাষ করছেন। নিজের তৈরি ৬০০ বস্তা জৈব সার প্রয়োগ করেছেন বাগানে। এছাড়া হালকা রাসায়নিক (টিএসটি, এমওপি, ইউরিয়া) সারও প্রয়োগ করছেন। পেয়ারা ছাড়া তিনি সেখানে আরও সাড়ে ১১ বিঘা জমিতে বারি-১ মাল্টা ও থাইল্যান্ড থেকে চারাগাছ এনে ৮ বিঘা জমিতে শরিফা ফল চাষ করছেন। এছাড়া ভারত থেকে বেদেনা গাছের চারা এনেছেন। সেগুলো চাষ করার পরিকল্পনা করছেন।

আবদুল জলিলকে এ ধরনের নতুন ফল চাষে সার্বিক পরামর্শ দিচ্ছেন গোদাগাড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেজেএম খন্দকার আওয়াল। তিনি আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, আবদুল জলিল একজন উদ্যমী কৃষক। তিনি যে পেয়ারা চাষ করছেন এটি একটি ম্যালেশিয়ান জাত। এটিকে বলা হয় ক্রিস্টান গোয়াভা। পৃথিবীর বহু দেশে এটি বেশ জনপ্রিয় একটি জাত। বাংলাদেশে জলিল এটি চাষ শুরু করেছেন। তবে শতভাগ বীজহীন বলা যাবে না। তবে অধিকাংশ পেয়ারাতেই বীজ থাকে না। বীজ থাকলেও এর সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২টি হয়। এতে সুগারের পরিমাণ প্রচলিত পেয়ারার চেয়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশ বেশি। এটি খুবই সুস্বাদু, মচমচে ও লোভনীয়। আগস্ট মাসে এটি বাজারজাত করা যায়। চাষের জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ও পরিচর্যা প্রয়োজন। গাছে ফুল এলে বিশেষ পদ্ধতিতে সার প্রয়োগ ও যত্ন নিতে হয়। খুবই সতর্কতার সঙ্গে এটি চাষ করছেন আবদুল জলিল। আশা করা হচ্ছে তিনি সফল হবেন।


মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত
এবার রংপুরে বেশি পশু
রংপুর বিভাগে এবার ঈদে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের হাটগুলোয় প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। গতবারের চেয়ে
বিস্তারিত