আলো ছড়াচ্ছে বালিয়াকান্দির ভূমিহীন শিশুরা

এমন একটা সময় ছিল মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিলনা তাদের। আর পড়া-লেখা সে তো কল্পনাও করতে পারেনি। যেখানে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয়েছে বাস্তবতার সাথে, সেখানে নতুন কিছুর আশা করা এবং স্বপ্ন দেখা ছিল কল্পনাতীত। কিন্তু আজ সময় বদলেছে। বদলে গেছে অনেক কিছু। বদলে গেছে তাদের জীবন-যাত্রার মান। আজ তারা স্বপ্ন বুনছে নিজেদের ভাগ্যেকে  বদলানোর।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রাম ভূমিহীন পাড়ার ১৩৫টি পরিবারের প্রায় দেড় শতাধিক শিশুরা আজ স্বপ্ন দেখছে আকাশ ছোঁয়ার। সব শিশুরা এখন স্কুলে যায়।

ভূমিহীন মো: সিরাজুল ইসলাম জানান, এমন একদিন ছিল মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না আমাদের। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা ছিলাম ভাসমান। ২০১০ সালে গড়াই নদীর তীরবর্তী ২৯ নং কোনাগ্রাম মৌজার ৬০০ নং প্লটের ২০ একর খাস জমির মধ্যে ১০ একর জমি ৯৯ বছরের জন্য সরকার আমাদের ১৬ জন ভূমিহীনের নামে বন্দোবস্ত দেন।

তারপর থেকেই আমাদের পথচলা শুরু। যে ১৬ জন ভূমিহীনের নামে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে আমরা সেই ১৬ জন আবার প্রায় ১০৯টি ভূমিহীন পরিবারকে খণ্ড-খণ্ড করে কিছু জমি তাদেরকে দিয়েছি। যাতে তারাও সুন্দরভাবে পরিবার নিয়ে বসবাস করতে পারে। এখন আমরা সবাই মিলেমিশে খুব সুখেই আছি। আমাদের স্বপ্ন এখন শুধু একটাই- কিভাবে আমাদের সন্তানদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা যায়।

ভূমিহীন শাহানাজ পারভীন ও মনোয়ারা বেগম বলেন, এই খাসজমি দীর্ঘদিন স্থানীয় ভূমিদস্যুদের দখলে ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর খাসজমি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করে আমাদের নামে বন্দোবস্ত দিয়েছে।এখন আমরা খুবই ভালো আছি। আমাদের রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: জিল্লুল হাকিম ও বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আবুল কালাম আজাদ এই কোনাগ্রাম ভূমিহীন পাড়ার উন্নয়নের জন্য অনেক অর্থও বরাদ্ধ দিয়েছে।

নারুয়া কোনাগ্রাম ভূমিহীন পাড়ার শিক্ষার্থী মাহিমা, আয়শা ও নারুয়া মনছুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সুমন হোসেন অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, কিছুদিন আগেও আমরা স্কুলে যেতে পারতাম না। বাবা-মার সাথে আমাদের কাজ করতে হতো। আর এখন আমরা স্কুলেও যাই আবার অবসর সময়ে তাদের কাজের সহযোগিতাও করি। আমাদের স্বপ্ন আমরা লেখাপড়া শিখে অনেক বড় হবো।

নারুয়া লিয়াকত আলী স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক মো: বদর উদ্দিন জানান, একসময় ভূমিহীন পরিবারের ছেলে-মেয়েরা প্রাথমিক পর্যায়েই ঝরে পড়তো। বর্তমান সরকার এ এলাকার ভূমিহীনদের বাসস্থানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করায় এখন আর কেউ ঝরে পড়ছে না। এখন ওরা সবাই নিয়মিত স্কুলে যায়।
 
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নমূখী সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় নারুয়ার ভুমিহীনদের পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানকার বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মব্যবস্থাসহ এদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাসুম রেজা বলেন, ভূমিহীন শিশুরা নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে এটি খুবই আশার কথা। ওরা লেখাপড়া শিখে আলোকিত মানুষ হয়ে উঠলে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। ওদের সরকারি কোন সহযোগিতা লাগলে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা দিব ।


বাংলা শকুনের গল্প
শুধু বাংলা শকুন নয়, এক সময় বাংলাদেশে সাত প্রজাতির শকুন
বিস্তারিত
বৈশাখ এলো
  বৈশাখ এলো বৈশাখ এলো গ্রীষ্মদুপুর কালো মেঘে ঘাপটি মেরে ঢেকে
বিস্তারিত
চৈতালী হাওয়া
চৈতালী হাওয়ায় গ্রীষ্ম কাটে গ্রীষ্ম যেনো কষ্টের, চৈত্রের দাহন অভিশাপের
বিস্তারিত
বকের বিড়ম্বনা
সবাই মিলে বকের বিরুদ্ধে বিচার নিয়ে গেল হুতুম প্যাঁচার কাছে।
বিস্তারিত
স্বাধীনতার জয়ে
  খুশির খেয়ায় নাও ভিড়ে যায় স্বাধীনতা পেয়ে, ঢেউয়ের দোলায় পাল
বিস্তারিত
স্বাধীনতার মান
স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ স্বাধীনতার গান শুনি, স্বাধীনতার মান নিয়ে লিখেছেন
বিস্তারিত