কারখানায় কাজ করে স্বাবলম্বী, চলে পড়ালেখা

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাট বাজার গ্রামের বাসিন্দা মাহফুজা আক্তার রিমির ক’দিন আগেই বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ফল ভালো হলে এবার সপ্তম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে উঠবে সে। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে তার পড়ালেখার খরচ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই পড়ালেখা খরচ চালাতে পরীক্ষার পর অবসর সময়ে কাজ নিয়েছে স্থানীয় একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরির কারখানায়। রিমি বলে, পড়াশোনার পাশাপাশি কাজটা করে যেতে চাই। যাতে আমার লেখাপড়ার খরচটা জোগাড় হয়। আশা করছি, পরীক্ষার ফল ভালো হবে।   (সূত্র: খবর বাসস)

শুধু রিমিই নয়, তার মতো আরও অনেক কিশোরী-তরুণীই আজকাল পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানা বা বাড়িতে ছোটখাটো কাজ করে লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন। রিমির মতো স্থানীয় সাবিনা ইয়াসমিন, তুলশি রানী রায়সহ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ১৫ জন কিশোরী আসমানি স্যানেটারি ন্যাপকিন কারখানায় কাজ করছে।

কারখানাটিতে কিশোরীরা কাজ করে নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে। স্থানীয়ভাবে ন্যাপকিন উৎপাদন হওয়ায় স্বল্পমূল্যে গুণগত মানের স্যানেটারি ন্যাপকিনও এখন বেশ সহজলভ্য হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীরা জানিয়েছেন, এই কারখানা দারিদ্র্যের শিকার কিশোরীদের ক্ষেত্রে যেমন আশার আলো হয়ে এসেছে, তেমনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ স্বাস্থ্য বিষয়েও তাদের সচেতন করে তুলছে।

জানা গেছে, খানসামা উপজেলার পাকেরহাট বাজারে স্থানীয় সেলিনা আক্তার নামে এক নারীর উদ্যোগে ২০১৬ সালে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ১৫ কিশোরী কাজ করে।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানাটিতে দৈনিক গড়ে ১৫০ থেকে ১০০ প্যাকেট স্যানেটারি ন্যাপকিন উৎপাদন করা হয়। এসব ন্যাপকিন স্বাস্থ্যসম্মত ও দামেও বেশ সস্তা।
কারখানার ম্যানেজার বলেন, দরিদ্র পরিবারের নারীরা অর্থাভাবে ন্যাপকিন কিনতে পারেন না। এতে তাদের নানা রোগবালাই দেখা দেয়। কিশোরীদের হাতে তৈরি ন্যাপকিন সস্তায় বাজারজাত হওয়ায় এই এলাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমেছে। ঝুঁকি কমেছে প্রজনন স্বাস্থ্যের।

রিমি বলেন, এখনও তাদের ক্লাস শুরু হয়নি। তবে ক্লাস শুরু হলেও কোনো ক্ষতি হবে না। পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে  সে কাজ করবে। অন্যরাও তাই করে। ‘দিনে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় দিই এখানে। একদিন টাকার অভাবে আমার লেখাপড়া বন্ধ হতে যাচ্ছিল। এখন কাজ করে উপার্জন করা টাকা দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব। পরিবারকেও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে পারব।’

নিজেদের কাজ প্রসঙ্গে তুলশী রানী জানায়, কারখানায় বস্তা বোঝাই তুলা আনা হয়। এসব তুলা বিছিন্ন করে কাপড়ে জড়িয়ে মেশিনে সেলাই করে তৈরি করা হয় ন্যাপকিন। এরপর প্যাকেট করে বাজারজাত করা হয়।
‘এখানকার ন্যাপকিন উৎপাদনে উন্নতমানের তুলা ও কাপড় ব্যবহার করা হয়। এর আগে কাপড় ও তুলা জীবাণুমুক্ত করা হয়।’

এ বিষয়ে কোম্পানির উদ্যোক্তা সেলিনা আক্তার জানান, এ অঞ্চলের দারিদ্র্যের শিকার পরিবারের কিশোরীরা পিরিয়ডের সময় অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসম্মত ন্যাপকিন ব্যবহার করতে পারে না। এ সময় অনেকেই স্কুল-কলেজে অনুপস্থিত থাকে। মূলত এটি দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

‘কারখানায় উৎপাদিত ন্যাপকিন আশপাশের সবক’টি উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। আগামীতে অবকাঠামোর সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে কারখানা আরও বড় করা হবে। এতে আশপাশের জেলার কিশোরী-তরুণীদের কাছেও ন্যাপকিন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।’

এতে স্থানীয় নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর কিশোরীরা নিজেদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে পারবে বলেও মনে করেন তিনি।


মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ
রংপুরে সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ নছিমন, করিমন, মুড়িরটিন, মোটরসাইকেল,
বিস্তারিত
দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানির
রংপুর বিভাগে পোলট্রি শিল্পের ১১ বছরে প্রসার হয়েছে ১১ গুণের
বিস্তারিত
জগন্নাথপুরে আমন রোপণে কোমর বেঁধে
আর ১৫ দিন পরেই শেষ হচ্ছে ভাদ্র মাস। ভাদ্র মাসের
বিস্তারিত
এবার রংপুরে বেশি পশু
রংপুর বিভাগে এবার ঈদে বেশি পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানের হাটগুলোয় প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। গতবারের চেয়ে
বিস্তারিত