চারটি আয়াতে সুস্বাস্থ্যের গ্যারান্টি

সুস্থতা আল্লাহর বড় নেয়ামত। জীবনের স্বাদ-আনন্দ উপভোগ করতে সুস্বাস্থ্য আবশ্যক। অধিকন্তু অসুস্থ দেহে সঠিকভাবে ইবাদতও করা যায় না। নবীজি (সা.) বলেন, দুটি নেয়ামতের ব্যাপারে মানুষ বেশ উদাসীন। তার মধ্যে একটি হচ্ছে সুস্থতা। (বোখারি : ৬৪১২)। তাই কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, সে প্রচেষ্টা সবার করা উচিত। অসুস্থ হলে নিজের নানাবিধ ক্ষতি হয়। কাজ-কর্ম নষ্ট, অর্থ খরচ ও আত্মীয়স্বজন উদ্বিগ্ন হয়। তাই জীবপযাত্রায় সুস্থতার কৌশল চর্চা বুদ্ধিমানের কাজ। 
মহাগ্রন্থ কোরআনের চারটি আয়াতে সুস্থতার গ্যারান্টি নিহিত আছে। সেসব নির্দেশনার আলোকে জীবনপদ্ধতি চর্চা করলে ইনশাআল্লাহ কোনো রোগ হবে না। আধুনিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এসব আয়াত গবেষণা করে দেখেছেন যে, এতে সুস্থতার রহস্য নিহিত আছে। 
প্রথম আয়াত
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান করো। কিন্তু অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীকে পছন্দ করেন না।’ (সূরা আরাফ : ৩১)। খাদ্য ও পানীয় যে-কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকার প্রধান উপকরণ। তাই আমাদের দৈনিক আহার্য গ্রহণ করতে হয়। ইসলামের নির্দেশ হচ্ছে এতে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু পানাহার করা ফরজ। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি পানাহার বর্জন করে, ফলে মৃত্যুমুখে পতিত হয় বা এত অল্প আহার করে, যার ফলে দেহ এত দুর্বল হয়ে যায় যে, ঠিকমতো ইবাদত করতে পারে না, তাহলে সে আল্লাহর কাছে অপরাধী। তদ্রƒপ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আহার্য গ্রহণ করাও সীমালঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত। আলোচ্য আয়াতে ‘অপব্যয় করো না’ বলে এ দুই দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। তাই আহার্য গ্রহণে মধ্যপন্থা অবলম্বনই শ্রেয়। ডাক্তারদের মতে, অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণের নিমিত্ত বর্তমানে স্থূলতাসহ নানা রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তদ্রƒপ সঠিক খাদ্যগ্রহণের অভাবে দেহে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ ইত্যাদি মৌলিক উপাদানের অভাব দেখা দেয়। আর তখনই দেহ রোগাক্রান্ত হয়। সুতরাং অধিক বা স্বল্প পানাহার উভয়ই বর্জনীয়। পরিমিত পানাহার সুস্থাস্থ্যের চাবিকাঠি। হজরত ওমর (রা.) বলতেন, তোমরা বেশি পানাহার থেকে দূরে থাক। কেননা তা দেহকে নষ্ট করে, রোগের জন্ম দেয় এবং কর্মে অলসতা সৃষ্টি করে। বরং আহার্য গ্রহণে মধ্যপন্থ অবলম্বন করো। কেননা তা সুস্থতার পক্ষে উপকারী ও অপব্যয় থেকে দূরবর্তী। (মাআরিফুল কোরআন)। 
দ্বিতীয় আয়াত 
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি পানি থেকে সব জীবন্ত জিনিস সৃষ্টি করেছি। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না?’ (সূরা আম্বিয়া : ৩০)। এই আয়াতে স্পষ্ট, প্রত্যেক প্রাণীর সৃজনে মৌলিক উপাদান হচ্ছে পানি। আধুনিক জীববিজ্ঞানের ভাষায়, মানবদেহ গঠনউপাদানে শতকরা ৭০ শতাংশ পানি। পানির সঙ্গে আমাদের দেহের সৃষ্টিগত সম্পর্ক আছে। তাই দৈহিক সুস্থতায় পানির ভূমিকা অপরিসীম। একজন মানুষকে সুস্থ থাকতে হলে দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করতে হবে। পরিমিত পানি পান আপনাকে সুস্বাস্থ্য উপহার দেবে। দেহ সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখবে। ঘুম থেকে উঠে ও ঘুমানো যাওয়ার আগে ১ গ্লাস পানি পান বহু রোগ নিরাময় করে। জাপানিরা নাকি সকালে খালি পেটে ৪ গ্লাস পানি পান করার আধাঘণ্টা পর নাশতা খায়। খালি পেটে পানি পান বিপাকের উন্নতি, বদহজম দূরীকরণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, চুল ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, কিডনি পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

তৃতীয় ও চতুর্থ আয়াত 
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি রজনিকে আবরণ ও দিবসকে জীবনোপকরণ বানিয়েছি।’ (সূরা নাবা : ১০-১১)। আল্লাহ তায়ালা রাতকে ঘুমের জন্য নির্ধারণ করেছেন। আয়াতে ‘আবরণ’ শব্দ ব্যবহার করে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তিনি শুধু মানবজাতিকে নিদ্রার মতো নেয়ামতই দান করেননি, বরং সমগ্র বিশ্বকে আঁধারাচ্ছন্ন করে ঘুমের সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। রাতে যদি দিনের মতো আলো থাকত তাহলে ঘুমানো সম্ভব হতো না। রাতে ভালো ঘুম হওয়া সুস্থতার পরিচয়। চিন্তা-পেরেশানি ও ব্যাধিগ্রস্ত অবস্থায় আরামদায়ক ঘুম হয় না। নির্বিঘœ ঘুম দেহ-মনকে চাঙা করে। কর্মে শক্তি জোগায়। পক্ষান্তরে দিবসকে করেছেন জীবনোপকরণ সন্ধানের মাধ্যম। ফলে এতে কর্ম ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা হয়। আলোচ্য আয়াতদ্বয়ের মর্ম হচ্ছেÑ আমি মানুষের সুখকে পূর্ণতা দান করার জন্য শুধু রাত ও তার অন্ধকার সৃষ্টি করিনি, বরং একটি আলোকোজ্জ্বল দিনও দিয়েছি, যাতে তোমরা কাজকারবার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পার। ফলে দিনের আলোময় পরিবেশে যা করা সম্ভবপর হচ্ছে। 
আয়াত দুটিতে আমাদের জীবনের প্রধান দুটি রুটিন বলে দেওয়া হয়েছে। দিবসে হবে কাজকর্ম আর রাতে হবে পরিশ্রান্ত দেহের প্রশান্তিকারক ঘুম। এই রুটিন মানবদেহের সৃষ্টিকর্তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই মানুষ যদি এর বিপরীত করে, তাহলে অবশ্যই তার দেহ রোগাক্রান্ত হবে।
আজকের আধুনিক যুগে মানুষ রাতকে দিন আর দিনকে রাত বানিয়েছে। দুপুর গড়িয়ে গেলেও ঘুম থেকে ওঠে না। আর ওদিকে সারারাত মার্কেটিং বা আড্ডাগল্পে কাটায়। ফলে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাদিসে এশা নামাজের পরপরই ঘুমাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আয়ুর্বেদিকশাস্ত্রে সকালের প্রাতঃভ্রমণ শ্রেষ্ঠ দাওয়া বলে স্বীকৃত।


মালিকানা ও লেনদেনে অস্বচ্ছতা :
কোরআন মজিদের সর্বাধিক দীর্ঘ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে হেদায়েত
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
কবরের ওপর ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে  প্রশ্ন : ২২ বছর আগে আমাদের
বিস্তারিত
ব্যবসায় অসাধুতার বিরুদ্ধে ইসলাম
অসৎ উদ্দেশ্যে খাদ্য মজুতদারির নিন্দনীয়তা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)
বিস্তারিত
হৃদয়ে নুরের প্রদীপ জ্বালো
  দুষ্ট সাপ যখন ছোবল হানে, তখন দংশিত বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারায়।
বিস্তারিত
হেদায়েত লাভে মুর্শিদের সোহবত
শুধু পুঁজি থাকলেই যেমন ব্যবসায়ী হওয়া যায় না, তেমনি ব্যবসা
বিস্তারিত
গোপন কোনো কিছুই রয় না
আমরা অনেক সময় লোকদেখানোর জন্য অনেক মন্তব্য করে থাকি। কিংবা
বিস্তারিত