অপচয় রোধে সচেতন হোন

দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাকে দান করেছেন অফুরন্ত নেয়ামত। বান্দার উচিত সে নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে তাঁর যথাযথ মূল্যায়ন করা ও অপচয় থেকে বেঁচে থাকা। কেননা অপচয় ইসলামের দৃষ্টিতে একটি নিকৃষ্ট কাজ। এর সঙ্গে গর্ব-অহংকারের সম্পর্কও বিদ্যমান। পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমাদের অর্থসম্পদ অপ্রয়োজনীয় কাজে খরচ করবে না। জেনে রেখো, যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই, আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের ঘোর অকৃতজ্ঞ।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ২৬-২৭)। অন্য আয়াতে এসেছে, ‘তোমরা খাও এবং পান করো; অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সূরা আরাফ : ৩১)। 
রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, ‘বিলাসিতা পরিহার করো, আল্লাহর নেক বান্দারা বিলাসী জীবনযাপন করে না।’ (মুসনাদে আহমদ : ৩৪২৩)। যারা অপচয় থেকে বিরত থাকে তাদের প্রশংসা করে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘এবং যখন তারা ব্যয় করে, তখন তারা অপচয় করে না, কার্পণ্যও করে না। বরং তারা এ দুটির মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে।’ (সূরা ফুরকান : ৬৭)। 
আজকাল অনেকের মধ্যেই অপচয়ের প্রবণতা দেখা যায়। কিয়দংশ খাওয়ার পর পুরো খাবারটিই ফেলে দেওয়া হয় ডাস্টবিনে। প্রতিদিন হাজারো টাকার খাবার নষ্ট হয় তাদের মাধ্যমে। দেশের শত শত মানুষ যেখানে দিনের পর দিন অভুক্ত থাকে, একবেলা খেতে পারলে অন্যবেলা জোটে না, সেখানে তারা প্রতিদিন নষ্ট করছে হাজার হাজার টাকার খাবার। অথচ ইসলাম খাবারের সামান্যতম অংশ নষ্ট করা থেকেও নিষেধ করেছে। এমনকি খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলে না দিয়ে পশুপাখিকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। হজরত আনাস (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন আহার করতেন, আহার শেষে তিনবার আঙুল চেটে খেতেন এবং বলতেন, তোমাদের খানার বাসন থেকে কিছু পড়ে গেলে উঠিয়ে পরিষ্কার করে খেয়ে নাও, তা শয়তানের জন্য ছেড়ে দিয়ো না। (আবু দাউদ : ৩৮৪৫)। 
প্রচ- শীতে শীতবস্ত্র না থাকায় দেশের অনেক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। সামান্য সম্বল নিয়ে শীত কাটাচ্ছে বহু দরিদ্র পরিবার। অপরদিকে কিছু মানুষ নির্দ্বিধায় টাকাপয়সা অপচয় করছে অবৈধ কাজে। তারা যদি অপচয় ছেড়ে শীতার্ত মানুষের প্রতি সামান্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত, তাহলে তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও ঘুচত। 
অপ্রয়োজনে পানি নষ্ট করা যেমন পানির অপচয়, তেমনি প্রয়োজন পূরণের সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি খরচ করাও পানির অপচয়। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত সাদ (রা.) এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হজরত সাদ (রা.) অজু করছিলেন। তার অজুতে পানি বেশি খরচ হচ্ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা দেখে বললেন, কেন এই অপচয়? সাদ (রা.) আরজ করলেন, অজুতেও কি অপচয় হয়? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ, এমনকি বহমান নদীতে অজু করলেও।’ (সুনানে ইবনে মাজা : ৪২৫)। একটি হাদিসে অজুর অঙ্গগুলো তিনবারের অধিক ধোয়াকে সীমালঙ্ঘন আখ্যা দেওয়া হয়েছে। (আল মুজামুল কবির : ১১০৯১)। 
আমাদের দেশ এবং বর্তমান পৃথিবীর গবেষকরা সুপেয় পানির ক্রমবর্ধমান অভাব এবং দূষিত পানির পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কিত, অথচ এসবের মূলে রয়েছে দৈনন্দিন জীবনে পানি ব্যবহারে আমাদেরই অপচয় এবং উদাসীনতা। আধুনিক পৃথিবীতে পানির জন্য এ হাহাকার তো আমাদেরই কর্মফল। অপচয় কেবল পানিতেই নয়, বরং বিদ্যুৎ, গ্যাস, খাওয়াদাওয়া, কাপড়চোপড়Ñ সবকিছুতেই হচ্ছে। অপচয় করা আমাদের একটি মারাত্মক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপচয়ের কারণে শুধু আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না, বরং সামাজিক ক্ষতিও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা যদি অপচয় বন্ধ করি, তাহলে সমাজের সবাই ভালোভাবে চলতে পারবে, সুখে দিন কাটাতে পারবে।


মহানবী (সা.) এর প্রতি আদব
মহানবী (সা.) এর প্রতি এ আদব প্রদর্শন যেভাবে তাঁর বরকতপূর্ণ
বিস্তারিত
রমজানরে আলোয় কাটুক সারা বছর
জুহদ ও তাকওয়া র্অজনরে, সওয়াব ও নকেি কামানোর বসন্তকাল রমজানুল
বিস্তারিত
চিকিৎসাবজ্ঞিানে মুসলমি অবদান
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে মুসলিম মনীষীদের আবিষ্কার এবং অবদান অনস্বীকার্য। এক্ষেত্রে
বিস্তারিত
পশুপাখির অধিকার রক্ষায় ইসলাম
আমরা যদি পবিত্র কোরআন ও হাদিসে দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখতে
বিস্তারিত
শাওয়ালের ছয় রোজা ও ‘অশুভ’ প্রসঙ্গ
মাহে রমজান ইবাদতের মাস। এ সময় মুসলমানরা দীর্ঘ এক মাস
বিস্তারিত
রমজানপরবর্তী মুসলিমের কাম্য জীবন
মুসলমান রমজানকে বিদায় জানায়, যার রজনীগুলোতে ছিল মধুরতা, দিবসগুলোতে ছিল
বিস্তারিত