শুদ্ধতার বারিধারায় স্নাত হোক অশ্লীলতা

বাঙালিরা বাংলায় কথা বলে, মনের ভাব প্রকাশ করে। বাংলায় গান গায়। বাংলায় স্বপ্ন দেখে। বাংলা বাঙালি জাতির মায়ের ভাষা, হৃদয়ের ভাষা। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একরাশ মুগ্ধকরা সুভাসিত লালগোলাপ। আমাদের শুদ্ধ চেতনার প্রকাশ। আমাদের গর্ব ও গৌরবের উজ্জ্বল দীপক প্রদীপ। বাংলা ভাষা, বাংলার দামাল ছেলেদের অকুতোভয় সাহসের শাশ্বত চিরন্তন স্বাক্ষর। আপন মাতৃভূমি স্বাধীনতার আগাম শুভ বার্তা। বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন রেকর্ড গড়ার দুর্দান্ত দুর্বার প্রত্যয়। 
পৃথিবীর ইতিহাসে সময়ের বিবর্তনে কালের চাকায় ভর করে জন্ম নিয়েছে অনেক কিছু। রচিত হয়েছে ইতিহাস। লিখিত হয়েছে গল্প-কাহিনি। কবির খাতায় নেমেছে পদ্য। সমহিমায় স্বাক্ষরিত হয়েছে বহু স্তম্ভ। নানা সৌধ ও নিদর্শন। তবে পৃথিবীর সব ইতিহাসকে ছাড়িয়ে ছাপিয়ে গেছে আমাদের মাতৃভূমি বাংলার কিংবদন্তি ইতিহাস। বাংলার সমুজ্জ্বল রক্তাক্ত ইতিহাস ঐতিহ্যের কাছে পৃথিবীর সব ইতিহাস লজ্জিত। জগতের আর কোনো জাতি-গোষ্ঠীকে মায়ের ভাষা রক্ষায় রাজপথে তাজা রক্ত প্রবাহিত করতে হয়নি। একমাত্র নির্ভয় দুরন্ত বাঙালি জাতি মায়ের ভাষা রক্ষায় আন্দোলন করেছে। নদীর স্রোতের মতো বইয়ে দিয়েছে রক্ত। মায়ের মধুর কলধ্বনির কাছে জীবনকে করেছে উৎসর্গ। 
এই আন্দোলন পৃথিবীর প্রথম আন্দোলন। ভাষার জন্য প্রথম রক্ত স্বাক্ষর। বিশ^ ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। এ অধ্যায় বাঙালির। ইতিহাস বলে, পাকিস্তান শাসক শ্রেণি উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাতে থাকে। ২৭ নভেম্বর ১৯৪৭ করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে গৃহীত এক প্রস্তাবে উর্দুকে পাকিস্তানের সাধারণ ভাষা (লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা) হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এ খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকায় ছাত্র সমাজে জ্বলে ওঠে আগুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ৬ ডিসেম্বর ১৯৪৭ সাল দুপুরে অনুষ্ঠিত বিশাল ছাত্র সভায় কিছু সংখ্যক শিক্ষক বুদ্ধিজীবীও যোগ দেন। তাদের মধ্যে বক্তৃতা করেন আবুল কাসেম, মুনীর চৌধুরী, একেএম আহসানসহ অনেকে। ছাত্র নেতারাও বক্তৃতা করেন। সভায় তখন প্রবল উত্তেজনা। উত্তেজিত ছাত্রদের একটি মিছিল ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘উর্দুর জুলুম চলবে না’, ‘পাঞ্জাবিরাজ বরবাদ যাক’ ইত্যাদি সেøাগান দিতে দিতে সচিবালয়ে উপস্থিত হয়। 
এভাবে চলতে থাকে ভাষা সংগ্রাম। মায়ের ভাষা রক্ষার জীবন বাজি আন্দোলন। বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা মুষ্টিবদ্ধ হাতে ওয়াদা করেছে ভাষা রক্ষার জন্য জীবন বাজির। রাষ্ট্রভাষা রক্ষার সেøাগানে রাজপথ এবং আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হতে থাকে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা বাংলা ভাষার দাবিতে নেমে পড়ে রাজপথে। তাদের মুখে বাংলা ভাষার জীবন্ত সেøাগান। চোখে তীক্ষè দৃষ্টি। কাঁপিয়েছে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বুকের ভিত। পাকিস্তান হানাদার বাহিনি সংগ্রামী তরুণদের ওপর আক্রমণ করে। শহীদ করে সালাম, রফিক, জব্বর ও বরকতকে। তারা আমাদের ভাষাসৈনিক। ভাষা রক্ষার জনক। তারা আমাদের গর্ব ও গৌরবের ধন। আমাদের চেতনার বাতিঘর। শুদ্ধতা বিকাশের ফেরিওয়ালা। আমাদের প্রশংসার প্রদীপ এবং তারা সম্মানের সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। 
২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের গর্বের দিন। মর্যাদার প্রহর। আনন্দ-উৎসবের মহা তিথি। উপাসনা আরাধনার শুভক্ষণ। জেগে ওঠার চেতনা। অপশক্তির বিরুদ্ধে হুংকার দেওয়ার উদ্দীপনা। নিজ মাতৃভূমির তরে মন-প্রাণ উৎসর্গের চিরায়িত শিক্ষা। অথচ বছর ঘুরে এদিন যখন আমাদের দুয়ারে এসে হাজির হয়, তখন আমরা নানাবিধ অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়ি। অযৌক্তিক উন্মাদনায় মেতে উঠি। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, পরপারে তাদের সুখ-শান্তি কামনা না করে নিজেরা আমোদফুর্তিতে গা ভাসিয়ে দেই। দু-হাত তুলে তাদের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার হৃদয় বিগলিত করি না। 
প্রার্থনায় আছে সুখ, ভালোবাসা, তাদের জন্য কিছু করার তৃপ্তি। মানুষ মরে গেলে তার কাছে তো ভালো কর্মগুলোই পৌঁছে। তার জন্য দোয়া করলে সে তা পাবে। মানুষের উচিত, তাদের রেখে যাওয়া আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়া। আমাদের মনের ডায়েরিতে তাদের পরিবারের নাম আছে কি না কে জানে! 
আমরা প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে যে পরিমাণ অর্থ অযথা অনর্থক খরচ করি, তার সামান্য একটা অংশ যদি তাদের পরিবারের পেছনে ব্যয় করা হতো, তাহলে কতইনা ভালো হতো। পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সমস্যা দূর হতো। 
আমরা চাই এবং হৃদয়ের খুব গভীর থেকে দাবি জানাই, ২১ ফেব্রুয়ারি হোক ভাষা শহীদদের জন্য দোয়ার বিশেষ আয়োজন। এ দিনে তাদের মাগফেরাত কামনা করা উচিত। জান্নাতে তাদের জন্য সর্বোচ্চ মাকামের প্রার্থনা করি। গর্ব ও গৌরবের এই দিনে নিপাত যাক সব অশ্লীলতা। আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হোক বেহায়াপনার সব দাপাদাপি। শুদ্ধতার বারিধারায় স্নাত হোক অশ্লীলতা।


মালিকানা ও লেনদেনে অস্বচ্ছতা :
কোরআন মজিদের সর্বাধিক দীর্ঘ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে হেদায়েত
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
কবরের ওপর ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে  প্রশ্ন : ২২ বছর আগে আমাদের
বিস্তারিত
ব্যবসায় অসাধুতার বিরুদ্ধে ইসলাম
অসৎ উদ্দেশ্যে খাদ্য মজুতদারির নিন্দনীয়তা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)
বিস্তারিত
হৃদয়ে নুরের প্রদীপ জ্বালো
  দুষ্ট সাপ যখন ছোবল হানে, তখন দংশিত বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারায়।
বিস্তারিত
হেদায়েত লাভে মুর্শিদের সোহবত
শুধু পুঁজি থাকলেই যেমন ব্যবসায়ী হওয়া যায় না, তেমনি ব্যবসা
বিস্তারিত
গোপন কোনো কিছুই রয় না
আমরা অনেক সময় লোকদেখানোর জন্য অনেক মন্তব্য করে থাকি। কিংবা
বিস্তারিত