ইসলামি দৃষ্টিকোণে

ব্যাংকিং সুদ

আল্লাহ তায়ালা ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেনÑ এ কথা কে না জানে! কোরআনে কারিমের বিভিন্ন আয়াতে এবং হাদিসে অসংখ্য বর্ণনায় স্পষ্ট ভাষায় সুদ হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মুসলিম উম্মাহ তখন থেকেই সুদ হারাম বলে জানে এবং বিশ্বাস করেÑ চাই হোক তা মহাজনি সুদ কিংবা বাণিজ্যিক ও ব্যাংকিং। তবে সম্প্রতি কিছু মহলে ব্যাংকিং সুদের শরয়ি বিধান নিয়ে নতুনভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমাদের চিন্তায় প্রভাবিত এবং আধুনিকতার চেতনায় উজ্জীবিত একটি মহল ব্যাংকিং সুদকে বৈধ করার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধে কোরআন ও হাদিসের আলোকে সেসব লোকের দলিলগুলোর খ-ন এবং সন্দেহ-সংশয়ের প্রামাণিক নিরসনের প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।

তারা বলে থাকেন, যেহেতু মহাজনি সুদের দ্বারা গরিব শ্রেণির ওপর জুলুম ও বে-ইনসাফি হয়, সেজন্য তা হারাম হওয়াই বাঞ্ছনীয়। পক্ষান্তরে ব্যাংকিং সুদের দ্বারা কারও ওপর কোনোরকম অত্যাচার-অনাচার হয় না। কেননা সাধারণত ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা ঋণ এনে ধনীরা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে ব্যবহার করে লাভবান হয়। সুতরাং তাদের থেকে সুদ গ্রহণ করা কখনও জুলুমের আওতায় পড়ে না! তাই ব্যাংকিং সুদ বৈধ হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত!
এই যুক্তি নিম্নোক্ত দুটি কারণে অগ্রহণযোগ্য। 
ক. এখানে তারা ইসলামি শরিয়তে সুদ হারাম হওয়ার ইল্লত (কারণ) ও হেকমত (রহস্য) উভয়কে এক মনে করেছেন। মূলত এটা শরিয়তের উসুল বা মূলনীতি সম্বন্ধে তাদের অজ্ঞতারই পরিচায়ক। কেননা শরিয়তের বিধান ইল্লতের ওপর নির্ভরশীল। যেখানেই ইল্লত পাওয়া যাবে, সেখানেই বিধান কার্যকর হবে। পক্ষান্তরে হেকমতের ওপর শরয়ি বিধান নির্ভরশীল নয়। ফলে হেকমতের অনুপস্থিতিতেও বিধান বলবৎ থাকবে। (উসুলুল ইফতা; তাকি উসমানি, পৃ. ১২৬)। আর শরিয়তে সুদ হারাম হওয়ার ইল্লত হলো, মূলের ওপর শর্তসাপেক্ষে বিনাবিনিময়ে নির্ধারিত মুনাফা লাভ করা। অন্যদিকে হেকমত হচ্ছে সমস্ত সম্পদ যেন ধনীদের হাতে পুঞ্জীভূত না হয়ে যায় এবং গরিবরা নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর না হয়ে পড়ে। মানে একজন অপরজনের ওপর যেন জুলুম ও বেইনসাফি না করে। অতএব আমরা যদি সাময়িকভাবে তাদের কথা মেনেও নিই, তবু বলবÑ যেহেতু ব্যাংকিং সুদে সুদ হারাম হওয়ার ইল্লত বিদ্যমান, তাই হেকমতের অবর্তমানেও তা হারাম হওয়াটাই ইসলামি উসুলের দাবি।
খ. ‘ব্যাংকিং সুদে কারও ওপর জুলুম হয় না’ তাদের এ কথাটি বাস্তবতাবিবর্জিত। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকালে ব্যাংকিং সুদেও অন্যায়-অত্যাচারের কোনো কমতি নেই। চলমান ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দেখা যায়, বড় বড় শিল্পপতি ব্যাংক থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা লোন (ঋণ) এনে বিরাট অঙ্কের মুনাফা অর্জন করে, আর নামেমাত্র কিছু সুদ দিয়ে থাকেÑ যা প্রকৃত অর্থে ব্যাংক ডিপোজিটরদের ওপর স্পষ্ট বেইনসাফি। ধরুন, এক শিল্পপতির নিজের পুঁজি হলো ১০ মিলিয়ন আর ব্যাংক থেকে লোন নিলেন ৯০ মিলিয়নÑ মানে মূল প্রজেক্টের ১০ ভাগ নিজের এবং বাকি ৯০ ভাগ ব্যাংক ডিপোজিটরদের। যদি এই প্রজেক্ট বিরাট অঙ্কের মুনাফা অর্জন করে, তাহলে এর ন্যূনতম অংশ (২ থেকে ১০ ভাগ স্থান, কাল ও পাত্রভেদে) ব্যাংক ডিপোজিটররা পেয়ে থাকেন। তো যারা মূল প্রজেক্টের ৯০ ভাগ পুঁজি জোগান দিল, তারা পায় বেশির চেয়ে বেশি ১০ ভাগ, আর যে প্রজেক্টের মাত্র ১০ ভাগ বিনিয়োগ করল, সে পায় মুনাফার ৯০ ভাগ! এটা অন্যায় ও বেইনসাফি নয় তো আর কী? বরং অনেক সময় দেখা যায়, ঋণগ্রহীতা শিল্পপতি লক্ষ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করলেও ব্যাংক ডিপোজিটরদের ভাগ্যে কিছুই জোটে না! (সুদ পর তারিখি ফয়সালা; তাকি উসমানি, পৃ. ৫০-৫১ ও ১১৫-১১৬)। 

দুই. তারা বলে থাকেন, কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার যুগে বাণিজ্যিক ও ব্যাংকিং সুদের অস্তিত্বই ছিল না। সে যুগে লোকজন নিত্যদিনের প্রয়োজনের তাগিদে ঋণ গ্রহণ করত; আর কোরআন ও সুন্নাহে সে রকম ঋণের ওপর সুদ নেওয়া হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। পক্ষান্তরে ব্যাংকিং সুদ হচ্ছে ইউরোপীয় শিল্পবিপ্লবের পর নব-আবিষ্কৃত বিষয়। সুতরাং এটা কোরআন-হাদিসে নিষিদ্ধ সুদের আওতাভুক্ত নয়!
তাদের যুক্তিটিও বিভিন্ন কারণে ভুল সাব্যস্ত হয়Ñ প্রথমত, কোরআন যখন কোনো জিনিস হারাম বলে ঘোষণা করে, তখন তার মূল বিষয়টাকেই নিষিদ্ধ করে। পরবর্তী সময়ে সেটার আকার-আকৃতি এবং গঠন-প্রকৃতিতে কোনো পরিবর্তন-পরিবর্ধন এলেও তা হারাম বলেই বিবেচিত হবে। যেমনÑ পবিত্র কোরআন যখন মদ হারাম ঘোষণা দিয়েছে, তখনকার সমাজে মানুষ খেজুর ও আঙুর ইত্যাদি থেকেই মদ তৈরি করত। বর্তমানে যদি ভিন্ন কোনো বস্তু থেকেও মদ তৈরি করা হয়, তবু সেটা কোরআনে নিষিদ্ধ মদের আওতাধীন হবে বলে সবাই একমত পোষণ করবেন।
তাছাড়া ‘কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার যুগে বাণিজ্যিক ঋণ এবং তার ওপর সুদ নেওয়ার প্রথা ছিল না’Ñ এ ধারণা মূলত হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। সে সময়ও যে এমন ব্যবস্থা চালু ছিল। এখানে তার কয়েকটি দৃষ্টান্ত পেশ করা হলোÑ 
ক. আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) সূরা বাকারার ২৭৮ নম্বর আয়াতের তাফসিরে লিখেনÑ এই আয়াত হজরত আব্বাস (রা.) এবং বনু মুগিরা গোত্রের এক ব্যক্তির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। তারা উভয় প্রাক-ইসলামি যুগে যৌথ কারবার করতেন এবং সকিফ গোত্রের লোকদের সুদের ওপর ঋণ দিতেন। (আদ্দুররুল মানসুর, ১/৩৬৬)। সুয়ুতি আরও লিখেনÑ প্রাক-ইসলামি যুগে বনু আমর এবং বনু মুগিরা সুদের ভিত্তিতে পরস্পরে ঋণ আদান-প্রদান করত। (প্রাগুক্ত)। 
খ. বদর যুদ্ধের প্রাক্কালে আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে কোরাইশের একটি বাণিজ্যিক কাফেলা সিরিয়ায় গিয়েছিল। এতে ১ হাজার উট তাদের সঙ্গে ছিল। ওই বাণিজ্যিক সফরে তারা শতভাগ লাভবান হয়েছিল। (সুদ পর তারিখি ফয়সালা, পৃ. ৬২)। বলাবাহুল্য, এত বড় কাফেলা কোনো ব্যক্তিবিশেষের মালিকানায় হওয়া সম্ভব বা স্বাভাবিক নয়; বরং পুরো গোত্রের মানুষ এতে পুঁজি বিনিয়োগ করেছিল। এজন্য সেটাকে আধুনিক পরিভাষায় ‘জয়েন্ট স্টক কোম্পানি’ বলা যেতে পারে। ঐতিহাসিকরা লিখেছেনÑ কোনো কোরাইশি পুরুষ ও নারী এমন ছিল না, যার কাছে এক মিসকাল বা তার চেয়ে বেশি সোনা ছিল আর সে তা কাফেলায় বিনিয়োগ করেনি। (তাফসিরে মাজহারি, ৪/১১)। 
গ. এ বিষয়ে জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.) এর যে কর্মধারা হাদিস ও সিরাতের গ্রন্থে পাওয়া যায়, তা অধুনা বিশ্বের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যশীল। হজরত জুবাইর (রা.) তার আমানত ও দ্বীনদারির কারণে সর্বমহলে প্রসিদ্ধ ছিলেন। বড় বড় ধনী তার কাছে নিজ আমানত জমা রাখত এবং প্রয়োজনমতো নিজের আংশিক কিংবা পূর্ণ মুদ্রা নিতে থাকত। তবে জুবাইর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি লোকদের এ মুদ্রাগুলো আমানত হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি হতেন না। উল্টো তখন তিনি বলে দিতেন, এটা আমানত নয়, বরং কর্জ বা ঋণ। (বোখারি : ৩১২৯)। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) লিখেনÑ জুবাইর (রা.) এর সেই কথা দ্বারা উদ্দেশ্য ছিল এই যে, তিনি আশঙ্কা করতেন কখন জানি মাল ধ্বংস হয়ে যাবে, আর লোকরা ধারণা করবে তিনি সংরক্ষণ করে রাখতে ত্রুটি করেছেন। তাই তিনি মুনাসিব মনে করলেন, আমানতকে কর্জ বানিয়ে রাখলে সম্পদওয়ালা বেশি আশ্বস্ত হবে। মুহাদ্দিস ইবনে বাত্তাল (রহ.) এ-ও বলেছেন যে, জুবাইর (রা.) এমনটা করতেন, যাতে এ মাল দ্বারা ব্যবসা করা এবং মুনাফা অর্জন করা তার জন্য বৈধ হয়ে যায়। (ফাতহুল বারি, ৬/২৩০)। ইতিহাসবিদ আল্লামা ইবনে সাদ (রহ.) লিখেছেন, জুবাইর (রা.) এর ছেলে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, আব্বার শাহাদতের পর আমি হিসাব করে দেখলাম, তার জিম্মায় ২২ লাখ দিরহাম কর্জ ছিল। (আত তাবাকাতুল কুবরা, ৩/১০৯)। 
এবার একটু ভেবে দেখুন, এত বড় অঙ্কের টাকা কি শুধু নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ঋণ ছিল! দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা যায়, সেটা ছিল বাণিজ্যিক ঋণ। এ জাতীয় বহু বর্ণনা থেকে আমরা নিশ্চিত হতে পারি, কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময়ও বাণিজ্যিক ঋণ ও সুদের অস্তিত্ব বা প্রচলন ছিল। অতএব তাদের এই যুক্তিটিও অগ্রাহ্য প্রমাণিত হলো। (তাকমিলায়ে ফাতহুল মুলহিম : ১/৫৬৯-৬৭৫)।

কখনও তারা বলে থাকেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সুদমুক্ত করলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো আর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থাকবে না। উপরন্তু সেগুলো সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়ে যাবে, যার উদ্দেশ্য বিনালাভে আর্থিক সেবা প্রদান করা।
প্রকৃতপক্ষে এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। শরিয়তের দৃষ্টিতে সুদবিহীন ঋণ একটি নির্দিষ্ট পরিম-লের জন্য; ব্যাপকভাবে ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য নয়। বরং তা পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কল্যাণমুখী কর্মকা-ের জন্য হয়ে থাকে। তবে যেখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পুঁজি সরবরাহের প্রশ্ন জড়িত, সেখানে ইসলামি শরিয়তের একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দিনকনির্দেশনা বা নীতিমালা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হলো, যে ব্যক্তি অপরকে ঋণ প্রদান করছেন, তাকে প্রথমে এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, তিনি কি এ ঋণ দ্বারা শুধু দ্বিতীয় পক্ষকে সাহায্য করতে চান, নাকি তার মুনাফার অংশীদার হতে চান? যদি তিনি এ ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাকে কেবল সাহায্য করতে চান, তাহলে তার কাছ থেকে ঋণের পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত দাবি করতে পারবেন না; তার মূল পুঁজি নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু তিনি যদি এই উদ্দেশ্যে পুঁজি সরবরাহ করেন যে, তার ব্যবসায় অর্জিত মুনাফার অংশ নেবেন, এ অবস্থায় তিনি পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনুপাতিক হারে অর্জিত মুনাফার অংশ দাবি করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে যদি লোকসান হয়ে যায় তাহলে তাকে ওই লোকসানেরও দায় বহন করতে হবে।
সুতরাং এসব থেকে প্রতীয়মান হয়, অর্থনৈতিক কর্মকা- থেকে সুদের পরিসমাপ্তির অর্থ এই নয় যে, পুঁজির জোগানদাতা কোনো মুনাফা অর্জন করতে পারবেন না। বরং যদি ব্যবসায়ের উদ্দেশে পুঁজি জোগান দেওয়া হয়, তা হলে লাভ-লোকসানে অংশীদারির ভিত্তিতে এ লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে। এজন্যই ইসলামি বাণিজ্য আইনের শুরুতেই মুশারাকা ও মুদারাবা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। (ইসলামি ব্যাংকিং ও অর্থায়ন পদ্ধতি; তাকি উসমানি, পৃ. ১৪-১৫)। তা-ই যদি হয়, তবে কেন ব্যাংকিং সুদকে বৈধ আখ্যায়িত করে দ্বীনের একটি অকাট্য বিধানকে লঙ্ঘন করা হবে? 


মালিকানা ও লেনদেনে অস্বচ্ছতা :
কোরআন মজিদের সর্বাধিক দীর্ঘ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে হেদায়েত
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
কবরের ওপর ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে  প্রশ্ন : ২২ বছর আগে আমাদের
বিস্তারিত
ব্যবসায় অসাধুতার বিরুদ্ধে ইসলাম
অসৎ উদ্দেশ্যে খাদ্য মজুতদারির নিন্দনীয়তা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)
বিস্তারিত
হৃদয়ে নুরের প্রদীপ জ্বালো
  দুষ্ট সাপ যখন ছোবল হানে, তখন দংশিত বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারায়।
বিস্তারিত
হেদায়েত লাভে মুর্শিদের সোহবত
শুধু পুঁজি থাকলেই যেমন ব্যবসায়ী হওয়া যায় না, তেমনি ব্যবসা
বিস্তারিত
গোপন কোনো কিছুই রয় না
আমরা অনেক সময় লোকদেখানোর জন্য অনেক মন্তব্য করে থাকি। কিংবা
বিস্তারিত