মুফতির শ্রেণিবিভাগ ও মূল্যমান

যে মুফতিরা ফতোয়াদান কর্মে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন, তারা চার ধরনের হয়ে থাকেন। নিম্নে তাদের ব্যাপারে বিশদ আলোচনা করা হলোÑ 

প্রথম শ্রেণি
যিনি মহান আল্লাহর পবিত্র গ্রন্থ কোরআন ও তার প্রিয় হাবিব (সা.) এর সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের বাণীগুলোর বিশেষজ্ঞ আলেম হন; তেমন মুফতি উদ্ভূত বিষয়াদির বিধানের ক্ষেত্রে মুজতাহিদ হয়ে থাকেন। যে কোনো ধরনের বা বিষয়ের বিধানই হোক তাতে তিনি শরিয়তের দলিল-প্রমাণ সমন্বয় করে থাকেন (এবং নতুন বিধান স্পষ্ট করেন)। তার এ নতুন বিষয়ে কখনও কখনও গবেষণা করার দ্বারা তার অন্য কোনো ইমামের তাকলিদ বা অনুসারী হওয়ার বিষয়টি ব্যাহত হয় না। তাই আপনি গবেষক ইমামদের এমন কাউকে পাবেন না, যিনি তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে, কোনো না কোনো বিধানে অনুসরণ (তাকলিদ) করেননি। 
ইমাম শাফেয়ি (রহ.) হজসংক্রান্ত একটি স্থানে বলেছেন, ‘এ বিধানটি আমি হজরত আতা (রহ.) এর অনুকরণে বলছি।’ সুতরাং এ শ্রেণিভুক্ত যারা হবেন তাদের পক্ষে ফতোয়া দান কর্মের দায়িত্ব পালন করা যথার্থ হবে; এমন কারও কাছে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা যাবে এবং তাদের দ্বারাই ফরজে কেফায়ার দায়িত্ব যথাযথ সম্পাদিত হবে। 
(ইলামুল মুকিঈন : ৪/২১২)। 
দ্বিতীয় শ্রেণি
এমন মুফতি যিনি তার অনুসৃত ইমামের মাজহাবের অধীন মুফতি হয়ে থাকেন। তাই তিনি তার ইমামের ফতোয়াগুলো, বক্তব্যগুলো, উৎসগুলো ও নীতিমালাগুলো বিষয়ে গবেষণা করার মতো যোগ্যতা রাখেন, জ্ঞান-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হন; তা থেকে বিধান খুঁজে বের করতে সক্ষম হন এবং তার অনুসৃত ইমামের যেসব বিষয়ে বর্ণনা বা দলিল অনুপস্থিত সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান নসগুলো দ্বারা কিয়াস করতে পারেন; বিধান ও দলিলে তার ইমামের তাকলিদ ব্যতীতই। তবে ইজতিহাদ ও ফাতওয়াদানের ক্ষেত্রে তার ইমামের পন্থা-পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকেন এবং তারই মাজহাবের প্রতি, বিন্যাসকৃত ও সিদ্ধান্তকৃত বিষয়াদির প্রতি আহ্বান করে থাকেন। তাই তিনি উদ্দেশ্য ও কর্মপন্থা উভয়ক্ষেত্রেই ইমামের অনুগামী হয়ে থাকেন। এ শ্রেণির মুফতির মর্যাদা, স্তর হচ্ছে স্বাধীন গবেষক ইমামদের নিচে। (ইলামুল মুকিঈন : ৪/২১২-২১৩)। 

তৃতীয় শ্রেণি
এমন মুফতি যিনি তার সম্পর্কযুক্ত মাজহাবের ভেতরে থেকে গবেষণা করে থাকেন, যার দলিল-প্রমাণ স্থিরীকৃত, তার (ইমামের) ফতোয়াগুলোতে দৃঢ় আস্থা রাখেন, ভালো জ্ঞান রাখেন। ইমামের অভিমত ও ফতোয়াগুলোর বাইরে যান না এবং বিরোধিতা করেন না। যে ক্ষেত্রে বা যখন ইমামের বাণী বা বর্ণনা বিদ্যমান পান, তা অবশ্যই এড়িয়ে যান না। অধিকাংশ গ্রন্থ রচিয়তার গুণ-অবস্থান এমনটাই হয়ে থাকে, যারা স্বীয় মাজহাবের ইমামদের মাজহাব বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করে থাকেন। আর এমনটাই অবস্থা হয়ে থাকে অধিকাংশ দল-মতের আলেমদের। এদের অনেকে এমন ধারণা করে থাকেন যে, কোরআন, সুন্নাহ ও আরবি ভাষা বিষয়ে পা-িত্যের প্রয়োজন নেই। কারণ, তিনি পরিতুষ্ট থাকেন ইমামের বাণী-বর্ণনার ওপরÑ যিনি তাকে কষ্ট-সাধনার ক্লেশ থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। মাজহাবের ইমামই তার পক্ষে অনুসন্ধান করে শরিয়তের বিধানাবলি স্থির করা এবং তা শরিয়তের দলিল-প্রমাণ থেকে বের করার দায়-দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট করেছেন। তিনি যখন দেখেন যে, তার মাজহাবের ইমাম সুনির্দিষ্ট বিধানটি দলিলসহ উল্লেখ করে দিয়েছেন; তখন তিনি বিপরীত মেরুর কোনো দলিল আলোচনা-গবেষণায় না গিয়ে সে দলিলসহ প্রাপ্ত বিধানকেই যথেষ্ট মনে করে থাকেন। 

চতুর্থ শ্রেণি 
এ শ্রেণিভুক্ত মুফতি হচ্ছেন তারা, যারা মাজহাবগুলোর কোনো একজন ইমামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরা সেই ইমামের ফাতওয়াগুলো ও শাখা-প্রশাখাগত বিধানগুলো আয়ত্ত বা কণ্ঠস্থ করেছেন এবং সবদিক বিবেচনায় এরা নিজেদের পুরোপুরি তাকলিদের মাধ্যমে সেসব বিধানে স্থির রেখেছেন। কোনো মাসালা-বিধানে কোনোদিন কোরআন ও সুন্নাহর কথা উল্লেখ করলেও তা একান্ত সম্মান ও বরকতের বিবেচনায় করে থাকেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে আমাদের চেয়ে আমাদের ইমাম অনেক বেশি জ্ঞান-বিদ্যার অধিকারী। আমরা মনেপ্রাণে তার তাকলিদ (অনুকরণ-অনুসরণ) করেছি; তাই তাকে অতিক্রম করতে চাই না এবং তার ভুল অনুসন্ধান করতে যাব না। 
উপরি-উক্ত চার শ্রেণির মুফতির মধ্যে প্রথম শ্রেণির মুফতির ফতোয়াগুলোর অবস্থান হচ্ছে রাষ্ট্রনায়ক ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী আলেমদের স্বাক্ষরিত সমশ্রেণিভুক্ত ফতোয়া বা ফরমানের। দ্বিতীয় শ্রেণির একজন মুফতির ফতোয়ার অবস্থান হচ্ছে, রাষ্ট্রপ্রধানদের স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত ফরমানের সমপর্যায়ের। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কোনো মুফতির ফতোয়ার অবস্থান হচ্ছে, রাষ্ট্রপ্রধানদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নিযুক্তদের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত ফরমানের সমপর্যায়ের। তার বাইরে যেসব মুফতি আছেন, তারা হচ্ছেন সাজগোজকারী, পরিপাটি কৃত্রিম মুফতি যাদের উপরি-উক্ত (রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক কোনো স্তর) কোনো তুলনার মধ্যে ফেলা যায় না। (ইলামুল মুকিঈন : ৪/২১৪)। 
লেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন


মক্কা-মদিনায় যুক্ত হলেন কয়েকজন নতুন
গেল শনিবার (১২ অক্টোবর) পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাবান দুই মসজিদ তথা
বিস্তারিত
আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো
আজ সমাজে ভিক্ষুক থেকে শুরু করে কোটিপতি সর্বশ্রেণি হতাশার কালো
বিস্তারিত
মহিলা সাহাবি হামনা বিনতে জাহাশ
যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম হামনা বিনতে জাহাশ বিন রিয়াব আল-আসাদিয়্যাহ। বংশীয় সূত্রে
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহকে ছাড়া যাদের তারা ডাকে,
বিস্তারিত
মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ইসলাম
গত ১০ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে গেল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য
বিস্তারিত
জুলুমবাজ ও হত্যাকারীর পরিণতি
বর্তমানে চারদিকে একটি দৃশ্য ফুটে উঠছে। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার।
বিস্তারিত