মুসলিম উম্মাহর জাতীয় দায়িত্ব

মানুষকে সৎকাজের আদেশ করা এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর উম্মত হিসেবে আমাদের প্রধান কর্তব্য। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এ উম্মতকে সর্বোত্তম উম্মত হিসেবে ঘোষণার পরপরই এ কর্তব্য পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই সর্বোত্তম উম্মতের কর্তব্য হিসেবে এ নির্দেশ পালন করা আমাদের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে থেকে নিষধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ 
(সূরা আলে ইমরান : ১১০)।
প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী এ কর্তব্য পালন করা উচিত। এ সম্পর্কে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)  কে বলতে শুনেছি, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো মন্দ কাজ দেখতে পায় আর সে তা নিজ হাতে প্রতিহত করে, তবে সে দায়িত্বমুক্ত হলো। যদি তার হাতে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে, আর মুখে এর বিরোধিতা করে, তবে সেও দায়িত্বমুক্ত হলো। আর যে ব্যক্তি মুখে এর বিরোধিতা করার ক্ষমতা না রাখে, তাই সে মনে মনে এর বিরুদ্ধাচরণ করে, সেও দায়িত্বমুক্ত হলো। আর এ হলো দুর্বলতর ঈমান। (সুনানে নাসায়ি : ৫০০৯)। উপরোল্লিখিত হাদিস অনুযায়ী হাত ও মুখের দ্বারা অন্যায় কাজে নিষেধের ক্ষমতা না থাকলে কমপক্ষে অন্তরের মধ্যে ওই অন্যায়ের প্রতি বিরুদ্ধাচরণমূলক মনোভাব পোষণ করা জরুরি।
যারা সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ করে না, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের তার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয় বলে ঘোষণা করেছেন। এ সম্পর্কে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না, বড়দের সম্মান করে না, সৎকাজের নির্দেশ দেয় না এবং অসৎকাজে বাধা দেয় না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (সুনানে তিরমিজি :  ১৯২১)। 
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ঈমানদার নর-নারীর গুণাবলি বর্ণনায় প্রথমেই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ করার গুণটি উল্লেখ করেছেন। তাই এ কাজ করা আমাদের ঈমানের দাবি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর ঈমানদার নর-নারী একে অপরের সহায়ক। তারা সৎকাজে আদেশ করে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবনযাপন করে। তাদেরই ওপর আল্লাহ তায়ালা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।’ (সূরা তওবা : ৭১)। এ দায়িত্ব পালনের জন্য মুসলমানদের মধ্য থেকে একটি দলকে প্রাথমিক উদ্যোগ নিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা সৎকর্মের প্রতি আহ্বান জানাবে, ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই হলো সফলকাম।’ (সূরা আলে ইমরান : ১০৪)। 
আমরা অনেক সময় মানুষের সমালোচনার ভয়ে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ করা থেকে বিরত থাকি। কিন্তু কেয়ামতের দিন এ জন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। হজরত আবু সাঈদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন নিজেকে অপমানিত না করে। সাহাবিরা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ নিজেকে কীভাবে অপমানিত করতে পারে? তিনি বলেন, সে কোনো বিষয়ে আল্লাহর বিধান অবহিত থাকা সত্ত্বেও তার পরিপন্থি কিছু হতে দেখেও সে সম্পর্কে কিছুই বলল না। কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে বলবেন, অমুক অমুক ব্যাপারে কথা বলতে  তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছিল? সে বলবে, মানুষের ভয়। তখন আল্লাহ বলবেন, আমাকেও তো তোমার ভয় করা উচিত ছিল। 
(সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০০৮)। 
তাই শুধু নিজে সৎকাজ করলে হবে না। অন্যকেও সৎকাজের দাওয়াত দিতে হবে। শুধু নিজে অসৎকাজ থেকে বিরত থাকলে হবে না। অন্যকেও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতে হবে। তা না হলে আল্লাহ তায়ালার পাকড়াও থেকে বাঁচা সম্ভব নয়। হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেন, হে লোক সবাই! তোমরা তো অবশ্যই এই আয়াত তেলাওয়াত করে থাকÑ ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের কর্তব্য নিজেদেরই সংশোধন করা। যদি তোমরা সৎপথে থাক তাহলে যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তারা তোমাদের কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।’ (সূরা মায়েদা : ১০৫)। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) কে আমি বলতে শুনেছি, মানুষ যদি কোনো অত্যাচারীকে অত্যাচারে লিপ্ত দেখেও তার দু-হাত চেপে ধরে তাকে প্রতিহত না করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা অতি শিগগিরই তাদের সবাইকে তার ব্যাপক শাস্তিতে নিক্ষিপ্ত করবেন। (সুনানে তিরমিজি : ২১৬৮)। 
এ কাজে অবহেলার কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি এলে আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করেও কোনো লাভ হবে না। হজরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই তোমরা সৎকাজের জন্য আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে। তা না হলে আল্লাহ তায়ালা অতি শিগগরিই তোমাদের ওপর তার শাস্তি অবতীর্ণ করবেন।  তোমরা তখন তার কাছে দোয়া করলেও তিনি তোমাদের সে দোয়া কবুল করবেন না। (সুনানে তিরমিজি : ২১৬৯)। 


মক্কা-মদিনায় যুক্ত হলেন কয়েকজন নতুন
গেল শনিবার (১২ অক্টোবর) পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যাদাবান দুই মসজিদ তথা
বিস্তারিত
আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো
আজ সমাজে ভিক্ষুক থেকে শুরু করে কোটিপতি সর্বশ্রেণি হতাশার কালো
বিস্তারিত
মহিলা সাহাবি হামনা বিনতে জাহাশ
যাইনুল আবেদীন ইবরাহীম হামনা বিনতে জাহাশ বিন রিয়াব আল-আসাদিয়্যাহ। বংশীয় সূত্রে
বিস্তারিত
আলোর পরশ
কোরআনের বাণী আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহকে ছাড়া যাদের তারা ডাকে,
বিস্তারিত
মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ইসলাম
গত ১০ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে গেল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য
বিস্তারিত
জুলুমবাজ ও হত্যাকারীর পরিণতি
বর্তমানে চারদিকে একটি দৃশ্য ফুটে উঠছে। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার।
বিস্তারিত