অপার করুণার আধার

পৃথিবীতে অগণিত সৃষ্টির ওপর আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে আশরাফুল মাখলুকাতের মর্যাদা দিয়েছেন। অর্থাৎ তাকে সব সৃষ্টির সেরা বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আপন দয়া ও করুণা থেকেই তিনি এ মর্যাদা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মনুষ্যজাতিকে সৃষ্টি ও পৃথিবীতে প্রেরণের পেছনে আল্লাহ তায়ালার সুনির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্য আছে। সে উদ্দেশ্য হলো ‘তিনি জীবন ও মৃত্যুকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন, কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ।‘ (সূরা মুলক : ২)।

মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু একটি সুনির্ধারিত সময় পৃথিবীতে অবস্থান করতে হয়। হাদিসের ভাষায় পৃথিবীকে বলা হয়েছে ‘আখেরাতের শস্যক্ষেত্র’। কারণ পৃথিবীতে অবস্থানকালে কর্মের মাধ্যমে মানুষের পরবর্তী জীবন তথা আখেরাতের চিরস্থায়ী আবাসের প্রতিদান নির্ধারণ হয়ে যায়। পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিণতি এই যে, স্বীয় চেষ্টা ও পরিশ্রমের দ্বারা কেউ কেউ সফল হয়, আবার কেউ কেউ বিফল হয়।
আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর সুবৃহৎ ব্যবস্থাপনার সবকিছুই মানুষের জন্য নিয়োজিত করে দিয়েছেন। জল ও স্থলে, ভূম-ল ও নভোম-লের সবই মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্ট, তা কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে একাধিক জায়গায়। বিশাল জলরাশির সাগরের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘তিনি সেই সত্তা, যিনি সমুদ্রকে তোমাদের উপকারার্থে আয়ত্তাধীন করে দিয়েছেন, যাতে তা থেকে তোমরা তাজা মাংস ভক্ষণ করতে পার।’ (সূরা নাহল : ১৬)। অন্যত্র আরও এরশাদ হচ্ছে, ‘আর তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে ও চন্দ্রকে, যারা সর্বদা এক নিয়মের অনুবর্তী এবং রাত ও দিনকে তোমাদের কাজে লাগিয়েছেন।’ (সূরা ইবরাহিম : ৩৩)। এ যে বান্দার প্রতি তাঁর অপার করুণারই বহিঃপ্রকাশ।
জন্ম থেকে নিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত বান্দার প্রতি অবারিত করুণার চাদর আল্লাহ তায়ালা প্রসারিত রেখেছেন। একমুহূর্তও তাঁর রহমত ছাড়া অতিবাহিত করা অসম্ভব। জীবনের পদে পদে নানা বিপদসংকুল পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে তিনিই সাহায্য করেন। বান্দার কোনো সৎকাজের সুযোগ লাভ হলে এতেও তাঁর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রহমত জড়িত। শুধু তা-ই নয়, তিনি নিজ বান্দাকে তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হতেও বারণ করেছেন। একজন বিশ্বাসীর নিজ রবের প্রতি অটুট বিশ্বাস লালনের পাশাপাশি তাঁর রহমতপ্রাপ্তির আশাও সমানভাবে থাকা জরুরি। এমনটি হওয়া অমূলক নয়, একজন বিশ্বাসী শয়তানের প্ররোচনায় কিংবা স্বীয় প্রবৃত্তির তাড়নায় প্রভুর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছে। আর একপর্যায়ে নিজের প্রতিই সংশয় জাগ্রত হয়Ñ স্রষ্টা কি এত পরিমাণ গোনাহ বা অপরাধ মার্জনা করবেন? কিংবা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েÑ কীভাবে এত পাপ নিয়ে ক্ষমা চাইবে তাঁর কাছে। এটিও আসলে শয়তানের প্ররোচনা থেকে উদ্ভূত। করুণাময় আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম (পাপ) করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সব গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সূরা যুমার : ৫৩)।
বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর দয়া অবিরত ও অবিরল ধারায় নিরন্তর প্রবহমান। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক সহিহ হাদিসে বলা হয়েছে, প্রতি রাতের শেষভাগে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বলেনÑ ‘কে আছ যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেব। যে আমার কাছে কিছু চাইবে আমি তাকে তা দান করব। যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বোখারি ও মুসলিম)। 
পৃথিবীতে সবচেয়ে কাছের বা সবচেয়ে আপন কে, এর উত্তরে মায়ের কথাই আগে উল্লেখ করতে হবে। কিন্তু করুণমায় আল্লাহ গর্ভধারিণী মায়ের চেয়েও বান্দার প্রতি অতিশয় দয়ালু ও ক্ষমাশীল। মায়ের মনে সন্তানের জন্য ভালোবাসা তিনিই সৃষ্টি করে দিয়েছেন। হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে আদমসন্তান, যতক্ষণ আমাকে ডাকতে থাকবে এবং আমার কাছে চাইতে থাকবে, ততক্ষণ আমি তোমার গোনাহ ক্ষমা করতে থাকব, গোনাহর পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন, এ ব্যাপারে আমি ভ্রƒক্ষেপ করি না। হে আদমসন্তান, যদিও তোমার গোনাহ আকাশসম হয়, অতঃপর আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। এ ব্যাপারে আমি কোনো পরোয়া করি না। হে আদমসন্তান, যদি পৃথিবীসমান গোনাহ নিয়েও আমার কাছে হাজির হও, আর আমার সঙ্গে কাউকে শরিক না করে থাক, তবে আমি পৃথিবী 
সমান ক্ষমা 
নিয়েই তোমার কাছে এগিয়ে যাব।’ (তিরমিজি)।


মালিকানা ও লেনদেনে অস্বচ্ছতা :
কোরআন মজিদের সর্বাধিক দীর্ঘ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে হেদায়েত
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
কবরের ওপর ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে  প্রশ্ন : ২২ বছর আগে আমাদের
বিস্তারিত
ব্যবসায় অসাধুতার বিরুদ্ধে ইসলাম
অসৎ উদ্দেশ্যে খাদ্য মজুতদারির নিন্দনীয়তা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)
বিস্তারিত
হৃদয়ে নুরের প্রদীপ জ্বালো
  দুষ্ট সাপ যখন ছোবল হানে, তখন দংশিত বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারায়।
বিস্তারিত
হেদায়েত লাভে মুর্শিদের সোহবত
শুধু পুঁজি থাকলেই যেমন ব্যবসায়ী হওয়া যায় না, তেমনি ব্যবসা
বিস্তারিত
গোপন কোনো কিছুই রয় না
আমরা অনেক সময় লোকদেখানোর জন্য অনেক মন্তব্য করে থাকি। কিংবা
বিস্তারিত