কর্মস্থলে যে আচরণ প্রত্যাশিত

মানুষের জীবনের কতকগুলো স্তর বা ধাপ থাকে। যেমনÑ শিশুকাল বা বাল্যকাল, তারুণ্য বা যৌবনকাল ও বার্ধক্যকাল। তেমনি রয়েছে শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন ও অবসর জীবন। প্রতিটি ধাপই কিছু নিয়মের মধ্যে প্রবাহিত হয় এবং সেসব ধাপের আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। শিক্ষা ও কর্মজীবনের মধ্যে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। শিক্ষাজীবনে পড়ালেখা, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাসের মধ্যে দিয়ে একটা সময় পার হয়। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে কিছুটা নিয়মের অধীনে চলতে হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গেলে সে নিয়মরীতি অনেকটা শিথিল হয়ে আসে। 

এরপর অনার্স-মাস্টার্স পাস করে চাকরিজীবনে প্রবেশ করলে নতুন কাজের পরিবেশ, নতুন মানুষের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে কিছুটা বেকায়দায় পড়তে হয়। কেননা শিক্ষাজীবনের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের কোনো মিল নেই। এমনকি এখানে নিজের খেয়ালখুশিমতো চলার সুযোগ নেই। অফিসের রীতিনীতি, ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশÑ সব মিলিয়েই চলতে হয় চাকরিজীবনে। কেবল চাকরির জন্যই নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন নিয়ম মেনে চলা; সঠিক আচরণ আয়ত্ত করতে শেখা; শিক্ষাজীবনে আমরা যে উপযুক্ত শিক্ষা লাভ করেছি, তার যথাযথ প্রয়োগ করা। সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে বা পথ চলতে প্রয়োজন সঠিক আচরণ করা। কর্মজীবনের আচরণবিধি ও নিয়মনীতি নিয়ে এবারের আয়োজন। 
যেমন হওয়া প্রয়োজন আচররণবিধি
অফিসে কারও সঙ্গে প্রথম পরিচয়ে হাসিমুখে কথা বলা। ‘হাউ ডু ইউ ডু’র উত্তরে ‘আই অ্যাম ফাইন, থাংক ইউ’ বা ‘ভেরি ওয়েল’ বলা, হেসে মাথা নাড়া কিংবা ‘হাউ ডু ইউ ডু’ বলাÑ এগুলো খুব প্রাথমিক আচরণবিধির মধ্যে পড়ে। প্রথম পরিচয়ে ‘গ্ল্যাড টু মিট ইউ’ বা ‘প্লিজড টু মিট ইউ’ বলাটাও সাধারণ ভদ্রতা। দেখা হলেই করমর্দন করা, ‘হ্যালো’ বলা, ‘থ্যাংক ইউ’ এর উত্তরে ‘থ্যাংক ইউ টু’ বা ‘ওয়েলকাম’, ‘মাই প্লেজার’ ইত্যাদি বলাটাও চাকরির ক্ষেত্রে সাধারণ আচরণ হিসেবেই স্বীকৃত। এ কথাগুলো বাংলায়ও স্বাচ্ছন্দ্যে বলা যেতে পারে। ‘আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে বা কথা বলে দারুণ আনন্দিত হলাম।’ ‘কেমন আছেন?’ ’ধন্যবাদ’। এই বিষয়গুলো শুরু থেকেই মাথায় রাখতে হবে এবং আয়ত্ত করতে হবে।
সাবলীলভাবে ও বিনয়ের সঙ্গে কথা বলা
সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলুন সাবলীলভাবে ও বিনয়ের সঙ্গে। কথা বলার সময় গলার স্বর ও বাচনভঙ্গির দিকে খেয়াল রাখুন। কথা বলুন ধীরে, স্পষ্ট ভাষায়, সুস্পষ্ট শব্দ চয়নে, যাতে সবাই আপনার কথাটি একবার শুনেই পরিষ্কার করে বুঝতে পারে। একই কথা একাধিকবার যাতে বলতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে প্রাণখোলা আড্ডা ছাড়া খুব জোরে কথা বলা অনুচিত। অফিসের মধ্যে এমনভাবে কথা বলুন, যাতে আপনার কথায় অন্যের কোনো সমস্যা না হয়। কখনও অন্যের কথার মাঝে কথা বলতে যাওয়া উচিত নয়। হঠাৎ কোনো কারণে বলে ফেললে ‘সরি’ বা ‘দুঃখিত’ বলুন।
নিজের সম্পর্কে জাহির করা কথা বেশি বলবেন না। অন্যকে কথা বলার সুযোগ দিন। চেষ্টা করুন অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে। অন্যের কথা বলাকেই বেশি গুরুত্ব দিন। অপ্রয়োজনীয় কথা না বলাই ভালো। এগুলো শ্রোতাদের বিরক্ত করে। কাজেই এ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করা প্রয়োজন। কথা বলতে বলতে হাঁচি বা কাশি এলে ‘এক্সকিউজ মি’ বলুন।
রীতিনীতি
উৎসব, জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকী, নববর্ষ ও বিশেষ দিবসে শুভেচ্ছা জানানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। জন্মদিন, পরীক্ষায় সাফল্য, বিশেষ উৎসব ইত্যাদি বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়াও অনেকদিন পর দেখা হলে গুরুজনদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করাটা আমাদের সমাজে ভদ্রতা বলেই পরিচিত। জুতে খুলে ঘরে ঢোকা, বয়স্ক মানুষকে সময় দেওয়া, তাদের কাজে সাহায্য করা, অভিভাবকের সঙ্গে তর্ক না করা, মতের অমিল হলে যুক্তি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা প্রভৃতির দিকে নজর দিন। নিজের মতামত অন্যের ওপর কখনও চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। অন্যের অর্জন ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 
ক্ষমা করা একটি মহৎ গুণ। কেউ ভুল করে ক্ষমা চাইলে তাকে আবার একটি সুযোগ করে দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আর নিজেও কোনো ভুল করলে অবশ্যই দুঃখ প্রকাশ করতে ভুলবেন না। ছোট ছোট এসব অভ্যাস জীবনের যে-কোনো পর্যায়েই এই আপনাকে অনেকটা পথ এগিয়ে দিতে সহায়তা করবে।
পরিচয় পর্ব
বড় সমাবেশে অনেক সময় প্রয়োজনে নিজেই নিজের পরিচয় দিয়ে কথা শুরু করতে পারেন। কোনো মহিলা কথা বলতে এলে পুরুষের উঠে দাঁড়ানো রীতি। কিন্তু মহিলার ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য নয়। দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বিদায় আলাপকে দীর্ঘ করবেন না। হোস্টেসকে আটকে রাখলে তিনি অন্য অতিথির দিকে নজর দিতে পারবেন না। কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিলে পরের দিন ফোনে ধন্যবাদ জানান, রান্নার প্রশংসা করুন।
দেহের ভাষা
দেহের ভাষা বা বডি ল্যাংগুয়েজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার দেহের ভাষা দেখে একজন শুরুতেই আপনার সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পোষণ করে ফেলেন। কাজেই দেহের ভাষাকেও মুখের ভাষার মতোই পরিশীলিত করে তুলতে হবে।
অনেকের কিছু বদভ্যাস থাকে, তা পরিহার করুন। হাঁটার সময় শিরদাঁড়া সোজা রেখে, পিঠ টানটান করে রাখুন। 
গোড়ালি আগে ফেলবেন, মাটিতে পা ঘষবেন না। কোমর দোলাবেন না। লঘু পায়ে হাঁটার অভ্যাস করুন। সঙ্গী পাশে থাকলে সঙ্গেই চলুন, এগিয়ে বা পিছিয়ে পড়বেন না।
কথা বলতে বলতে অন্যের মুখের সামনে চুইংগাম ফোলাবেন না। কোনো সমাবেশে দূরে পরিচিতজনকে দেখে ব্যাকুল হয়ে হাত উঁচু করে ঘন ঘন ডাকবেন না। প্রয়োজনে অপেক্ষা করুন। আপনার দিকে তাকালে তবেই পরিস্থিতি বুঝে অল্প হাত নাড়–ন। হ্যান্ডশেকের জন্য বাড়ানো হাত ধরুন দৃঢ়ভাবে।
দাঁড়ানো বা বসার সময় কোলকুঁজো হবেন না। চেয়ারে বসার সময় মাঝামাঝি জায়গায় বসবেন। এগিয়ে চেয়ারের ধারে অথবা হেলান দিয়ে গা এলিয়ে বসবেন না। হাত দুটো কোলের ওপর রাখবেন; ভালো হয় বাঁ হাতের পাতা ডান হাতের কবজির ওপর রাখলে। 
খাওয়ার টেবিলে কনুই রাখবেন না। বসে পা নাচাবেন না। হাই ওঠার উপক্রম হলে মুখে রুমাল চাপা দিন অথবা হাত দিয়ে আড়াল করুন। ‘খুব ভালো লেগেছে’ বা ‘যাচ্ছেতাই’ ভাব প্রকাশে মুখভঙ্গি সংযত রাখুন। পা জোড়া করে বসাই ভালো। 
হাঁটুর ওপর হাঁটু তুলে বসতে পারেন, নির্ভর করবে আপনার পোশাকের ওপর। বাস বা ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা করার সময় কোমর ভেঙে দাঁড়াবেন না। ঘাড়-মাথা চুলকাবেন না। অপরিচিত ব্যক্তির দিকে একনাগাড়ে তাকিয়ে থাকবেন না। ঘন ঘন শাড়ির আঁচল, ওড়না বা চুল গোছাবেন না। সবার মাঝে চুল আঁচড়াবেন না, লিপস্টিক লাগাবেন না।
মার্জিত ও রুচিশীল পোশাক-আশাক
পোশাক দামি হতে হবে এমন কথা নেই। তবে পোশাক হতে হবে মার্জিত ও রুচিশীল, যাতে প্রথম দেখায়ই আপনি কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।
তাই রুচিসম্মত পোশাক পরার অভ্যাস করা জরুরি। সঠিক মাপের পোশাক পরুন। বয়স, চেহারার গঠন, সময় এবং অনুষ্ঠান বুঝে পোশাক বাছাই করুন। পোশাক পরার ক্ষেত্রে অন্যকে অন্ধের মতো অনুরকরণ করবেন না। এমন পোশাক পরুন, যাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্বস্তিবোধ না করলে সেই পোশাক না পরাই ভালো। যারা অফিস করেন, তাদের অফিস ডেকোরামের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক পরা বাঞ্ছনীয়। অফিসে সহকর্মীরা যদি সবাই সাধারণ বা ফর্মাল ড্রেস পরে, তাহলে আপনিও তা-ই পরুন।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত