কলায় দিন বদলের স্বপ্ন

পদ্মার ধু-ধু বালুচরে কলা চাষ করে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষিকু-া ইউনিয়নের কৃষক শামীম আহমেদ। বেকারত্ব ঘুচিয়ে হয়েছেন স্বাবলম্বী। সংসারে এনেছেন সুখশান্তি। শামীমের কঠোর পরিশ্রমে পদ্মার ধু-ধু বালুচরে শোভা পাচ্ছে সবুজের সমারোহ। সবুজ কলার বাগান দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় দর্শনার্থীদের। 

শামীম ২০১২ সালে কৃষিতে ডিপ্লোমা পাস করেন। বেশ কিছু দিন চাকরির পেছনে ঘুরে এক সময় কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন। আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও মনোবল নিয়ে তিনি কলার চাষ শুরু করেন। শামীমের বাবা মৃত শহিদুল ইসলাম অনেক আগে থেকেই কলার চাষ করতেন। বাবার পথ ধরে তিনিও পদ্মার চরে গড়ে তোলেন কলার বাগান। বর্তমানে তার কলাবাগানে ২৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। 

পদ্মার চরের কলা চাষি শামীম বলেন, পড়া-লেখা শেষে চাকরির পেছনে ঘুরে কোনো গতি না দেখে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করে অন্যের ৬৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কলাবাগান গড়ে তুলি। এক ধররের ঝুঁকি ও কঠোর মনোবল নিয়ে পদ্মার চরের কাশবন কেটে সেখানে কলাবাগান গড়ে তুলতে সক্ষম হই। আমার দেখাদেখি চরে অনেক যুবক এখন কলা চাষ করছেন। বর্তমানে আমার বাগানের প্রতিটি গাছে রয়েছে কলার কাদি। প্রতিটি কলার কাদি ৪০০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রয় করছি। কলা বিক্রির টাকায় সংসারে এসেছে সুখশান্তি। 

বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত সফল কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, শামীমের মতো শিক্ষিত যুবকরা কৃষিকাজে এগিয়ে এলে আমাদের চেয়ে বেশি ভালো করবে। শামীমের  বাগানের কলাগাছগুলো খুব ভালো হয়েছে। এক ধরনের চ্যালেঞ্জের কারণেই বালুচরের কাশবন কেটে সেখানে কলাবাগান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন শামীম। ঈশ্বরদী উপজেলার অন্যান্য বাগান থেকে শামীমের বাগানে ফলন ভালো হয়েছে। প্রতিটি গাছেই কলার কাদি শোভা পাচ্ছে। কলার দামও রয়েছে বেশ ভালো, শামীম আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। 

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল লতিফ বলেন, শামীমের কলাবাগান পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে শামীমের মতো অনেক কৃষক আজ স্বাবলম্বী ও সফল। ইচ্ছা থাকলে অসাধ্যকে সাধন করে কিছু একটা করা যায়- শামীম তা প্রমাণ করেছেন। আবদুল লতিফ বলেন, একবার একটি কলাগাছ রোপণ করা হলে সে গাছ থেকে অনেক ফলন পাওয়া যায়। শামীমের দেখাদেখি ওই এলাকায় কৃষির বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বেকার যুবক কলাবাগান করে লাভবান হচ্ছেন এবং কেউ কেউ কলাবাগান করার ইচ্ছা পোষণ করছেন।


জীবনযুদ্ধে থেমে নেই জয় মালা
নাম জয়মালা বেগম স্বামী মৃত হালু মিয়া। সংসারে চার মেয়ে
বিস্তারিত
সফল উদ্যোক্তা আলিয়াহ ফেরদৌসি
চেনা গণ্ডির সীমানা ভেঙে বেরিয়ে আসছেন নারীরা। কৃষিকাজ থেকে শুরু
বিস্তারিত
রংপুর তাজহাট জমিদার বাড়ি ইতিহাস-ঐতিহ্যের
রংপুর মহানগরীর  দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত তাজহাট জমিদার বাড়ি। রংপুর মূল
বিস্তারিত
ডায়াবেটিক প্রতিরোধে স্টেভিয়া: চিনির চেয়ে
বিরল উদ্ভিদ স্টেভিয়া এখন বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায়
বিস্তারিত
কাউনিয়ায় বালু জমিতে বস্তায় বিষ
বালু জমিতে বস্তায় বিষ মুক্ত লাউ চাষ করে এলাকাবাসীকে তাক
বিস্তারিত
গফরগাঁওয়ে কেঁচো সার উৎপাদনে ভাগ্য
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সাবেক মেম্বার আবুল হাশেম নিজেই কেঁচো সার (ভার্মি
বিস্তারিত