বদদোয়া নয় হেদায়েত চাইতে হবে

কোনো ব্যক্তির অমঙ্গল কিংবা অনিষ্ট চেয়ে প্রার্থনা করাই হলো ‘বদদোয়া’। একে অপরের সঙ্গে সামান্য বিষয়ে মনোমালিন্যে হলে বা আচরণ দ্বারা মনে কষ্ট পেলে অনেকে অভিসম্পাত বা বদদোয়া করে থাকেন। সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, তোমরা একে অপরকে এভাবে অভিসম্পাত করবে না যে, তোমার ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত, আল্লাহর গজব পতিত হোক এবং তুমি দোজখি হও এবং তোমাকে অগ্নিকু-ে নিক্ষেপ করা হোক বলে বদদোয়াও করবে না। (তিরমিজি ও আবু দাউদ)।

আমাদের মহানবী (সা.) কাফের মোনাফেক দ্বারা অনেক দুঃখ-কষ্ট-লাঞ্ছনা পেয়েছেন, এরপরও তিনি কাফেরদের ওপর অভিসম্পাত করেননি। রাসুল (সা.) দুঃখ-যাতনার বিষয়ে যদি উহ্ পরিমাণ শব্দ করতেন, তাহলে কাফেরের বংশ বলে কিছুই থাকত না। মন্দ আচরণকারী ব্যক্তির হেদায়েত লাভের জন্য আল্লাহর কাচে প্রার্থনা করাই হলো মোমিনের কাজ। অহেতুক কারও ওপর অভিসম্পাত করলে তা নিজের ওপর এসে পড়ে। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন বান্দা কোনো কিছুর ওপর অভিসম্পাত করে তখন সে অভিসম্পাত বাক্যটি আসমানের দিকে উড়ে যায়; কিন্তু এর জন্য আসমানের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর তা জমিনের দিকে ফিরে আসে এবং জমিনের দরজাগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতঃপর তা ডান দিকে যায় এবং ফের বাম দিকে ফিরে আসে। আর যখন এভাবে কোনো দিকেই স্থান না পায় তখন অভিসম্পাত দানকারীর দিকে ফিরে আসে। যার ওপর অভিসম্পাত করা হয়েছে যদি সে অভিসম্পাতের উপযোগী না হয়। অভিসম্পাত তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। (আবু দাউদ)।
রাসুল (সা.) এর চলাফেরার পথে আরবের এক বুড়ি কাঁটা পুঁতে রাখত। হঠাৎ একদিন রাসুল (সা.) রাস্তায় কাঁটা দেখতে না পেয়ে বুড়ি অসুস্থ ভেবে বুড়িকে দেখতে তার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। আবু জাহেল হজরত রাসুল (সা.) এর ওপর সীমাহীন বর্বরোচিত নির্যাতন করেছেন। এত কিছুর পরও রাসুল (সা.) আবু জাহেলকে চাচা হিসেবে সম্বোধন করতেন। আবু জাহেলকে একটিবারের জন্যও গালমন্দ করেননি। 
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, একদিন বাতাসে এক ব্যক্তির চাদর উড়িয়ে নিল। তখন সে ব্যক্তি বাতাসকে অভিসম্পাত করল। এটা শুনে হজরত রাসুল (সা.) বললেন, ‘বায়ুকে অভিসম্পাত করো না, কেননা বায়ু আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত। বস্তুত, যে ব্যক্তি এরূপ কোনো কিছুকে অভিসম্পাত করল যা অভিসম্পাতের উপযোগী নয়; তবে ওই অভিসম্পাত তার নিজের ওপরই ফিরে আসবে। (তিরমিজি, আবু দাউদ)। 
বিপদে আপদে অভিসম্পাত না করে আল্লাহর কাছে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি চাইতে হবে। কারণ যে ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে বদদোয়া করা হচ্ছে তারও একজন মালিক রয়েছেন। আয়ুব (আ.) অসুস্থায় কষ্ট পাচ্ছিলেন। এরপরও তিনি প্রার্থনা করেছিলেন, ‘(হে আল্লাহ!) আমার কষ্ট হচ্ছে, আর আপনি সবার চেয়ে অধিক দয়ালু।’ (সূরা আম্বিায়া : ৮৩)। হজরত ইয়াকুব (আ.) প্রার্থনা করেছিলেন, ‘আমি আমার শোক ও দুঃখের অভিযোগ শুধু আপনার সমীপেই পেশ করছি।’ (সূরা ইউসুফ : ৮৬)। অভিসম্পাত দানের মতো মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দান করুক। 


বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাতের সময়
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম
বিস্তারিত
জুমাতুল বিদা আজ
আজ মাহে রমজানুল মোবারকের ২৮ তারিখ। আজ জুমাবার। এটাই এ
বিস্তারিত
চোখের পলকে পুলসিরাত পার করে
চলছে পবিত্র রমজান মাস। সিয়াম-সাধনার এ মাস জুড়েই রয়েছে রহমত,
বিস্তারিত
কাল পবিত্র লাইলাতুল কদর
হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত পবিত্র 'লাইলাতুল কদর'। মহিমান্বিত এ
বিস্তারিত
১০ বার কোরআন খতমের সওয়াব
একে একে শেষ হয়ে যাচ্ছে রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের দিনগুলো।
বিস্তারিত
মাগফিরাতের ১০দিন শুরু এবং আমাদের
আজ থেকেই শুরু হবে মাগফিরাতের ১০ দিন। দুনিয়ার সকল গোনাহগার
বিস্তারিত