ইসলামের প্রথম খলিফা

ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। ইসলাম ও নবীজির জন্য জানমালের কোরবানিতে তিনি সর্বাধিক অগ্রগামী। আবু বকর (রা.) সেই মহান ব্যক্তিত্ব, ইতিহাসে যার নাম ‘ত্রাণকর্তা’ রূপে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত। নবীজির পর সমগ্র বিশ্বে সবার ওপর যার স্থান, তিনিই সিদ্দিকে আকবর (রা.)। ইসলামের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে জীবন বাজি রেখে তিনি নিরলসভাবে খেদমত করে গেছেন ইসলামের জন্য। 
দয়া ও দানশীলতায় কেউ তাকে পেছনে ফেলতে পারেনি। ইসলাম গ্রহণেও তিনি প্রথম। বাল্যকাল, যৌবনকাল, বৃদ্ধকাল, এমনকি কবর জীবনেও যিনি রাহমাতুল্লিল আলামিনের সঙ্গ লাভে ধন্য। যার বর্ণাঢ্য জীবনের প্রতিটি অধ্যায় মুসলিম মিল্লাতের অনুসরণীয় আদর্শ। তার সাফল্যভরা জীবনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছিÑ
ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাবুক যুদ্ধে রাসুল (সা.) বিশাল রোমান বাহিনির আক্রমণ প্রস্তুতির মোকাবিলায় ইসলামের জন্য সাধ্যমতো দান করতে বলেন। সৌভাগ্যবশত তখন আমার প্রচুর সম্পদ ছিল। আমি এগুলো দুইভাগ করে অর্ধেক নিয়ে এলাম। রাসুল (সা.) বললেন, পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ? জবাবে বললাম, অর্ধেক রেখে এসেছি। এরই মধ্যে আবু বকর (রা.) ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীসহ সমুদয় ধনসম্পদ নিয়ে উপস্থিত হলেন। নবীজি বললেন, পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ? তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে রেখে এসেছি। এমন কথা নবীর ভালোবাসা ব্যতীত দুনিয়ার বুকে আর কে বলতে পারে। 
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি প্রায় সারাক্ষণ নবীজির সঙ্গে থাকতেন। কি যুদ্ধ, কি সফরÑ সর্বক্ষণ সিদ্দিকে আকবর থাকতেন প্রিয় নবীজির সান্নিধ্যে। আর গোপনে মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে লাগলেন। তার প্রচেষ্ঠায় কিছুদিনের মধ্যেই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এলেন ওসমান (রা.), জুবাইর ইবনে আওয়াম (রা.), আবদুুর রহমান ইবনে আউফ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.), তালহা ইবনে ওবাইদুল্লাহ (রা.) প্রমুখ সাহাবি। 
নবীজির ভালোবাসায় আবু বকর (রা.) শুধু ধনসম্পদে ত্যাগেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং নিজের মাতৃভূমির মায়া, আত্মীয়স্বজনের মায়া ত্যাগ করে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। হিজরতের জন্য নবীজির সম্মতি পেয়ে সিদ্দিকে আকবর দিনের বেলা তো বটেই, রাত্রের সময়ও অপেক্ষায় থাকতেন এবং বিছানায় শুয়ে ঘুমকে নিজের জন্য নিষিদ্ধ করে নিলেন। এভাবে দিন-রাত পার করে কান পেতে থাকতেন, কখন প্রিয় নবীর ডাক আসবে। অতঃপর একদিন নবীজি (সা.) আবু বকরের বাড়ির সামনে গিয়ে ডাক দিলেন! প্রথম ডাকেই আবু বকর (রা.) সাড়া দিলেন। রাসুল (সা.) বললেন, এত গভীর রাতে প্রথম ডাকেই তুমি কীভাবে উত্তর দিলে? আবু বকর (রা.) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, যেদিন আপনি আমাকে হিজরতের কথা বলেন, সেদিন থেকে বিছানায় শুয়ে ঘুমানো বাদ দিয়েছি। সারারাত দরজার পাশে কান দিয়ে আপনার অপেক্ষায় থাকতাম। 
হিজরতের সময় গুহায় অবস্থানকালে আবু বকর (রা.) এর পায়ে একটি বিষাক্ত সাপ দংশন করতে লাগল। দংশনের বিষে তার পুরো শরীর নীল হয়ে গেল, দেহে কম্পন সৃষ্টি হতে লাগল; কিন্তু ‘উহ’ শব্দটিও করলেন না। কারণ নবীজির বিশ্রামের ব্যাঘাত হবে, ঘুম ভেঙে যাবে এ ভয়ে। কী অপূর্ব নবী প্রেম! সাপের বিষে চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি নবী পাকের ওপর পড়ে যাওয়ায় নবীজির ঘুম ভেঙে গেল। চোখ খুলে এ অবস্থা দেখে নবীজি বললেন, আবু বকর, চিন্তা করো না। এই বলে মুখের থুতু মোবারক সিদ্দিকের আকবরের দংশিত স্থানে লাগিয়ে দিতেই সব বিষ নিমিষেই পানি হয়ে গেল। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন। অবশেষে মদিনায় পৌঁছে ইসলামের খেদমতে আত্ম নিয়োগ করেন। হিজরতে পর দীর্ঘ ১০ বছর নবীজির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ তার জীবনের অন্যতম দিক। 
রাসুল (সা.) ইহজগৎ ত্যাগের পর সরাসরি খলিফা মনোনীত না করলেও আগের কিছু ইঙ্গিত বহণ করে। যেমনÑ নবীজি যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন মসজিদে নবীর ইমামতির দায়িত্ব। তাছাড়া একদিন এক মহিলা রাসুলের দরবারে এসে একটি বিষয়ে জানতে চাইলে নবী পাক ওই মহিলাকে পরে আসার কথা বলেন। মহিলা বলল, পরে এসে যদি আপনাকে না পাই; উত্তরে নবীজি বললেন, ‘আমাকে না পেলে আবু বকরের কাছে গিয়ে জেনে নিও।’ (বোখারি ও মুসলিম)।
হিজরি ১৩ সনের জমাদিউস সানি মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন। রওজা মোবারকে নবীজির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।


মালিকানা ও লেনদেনে অস্বচ্ছতা :
কোরআন মজিদের সর্বাধিক দীর্ঘ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে হেদায়েত
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
কবরের ওপর ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে  প্রশ্ন : ২২ বছর আগে আমাদের
বিস্তারিত
ব্যবসায় অসাধুতার বিরুদ্ধে ইসলাম
অসৎ উদ্দেশ্যে খাদ্য মজুতদারির নিন্দনীয়তা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)
বিস্তারিত
হৃদয়ে নুরের প্রদীপ জ্বালো
  দুষ্ট সাপ যখন ছোবল হানে, তখন দংশিত বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারায়।
বিস্তারিত
হেদায়েত লাভে মুর্শিদের সোহবত
শুধু পুঁজি থাকলেই যেমন ব্যবসায়ী হওয়া যায় না, তেমনি ব্যবসা
বিস্তারিত
গোপন কোনো কিছুই রয় না
আমরা অনেক সময় লোকদেখানোর জন্য অনেক মন্তব্য করে থাকি। কিংবা
বিস্তারিত