অশ্লীলতা সর্বাবস্থায় পরিত্যাজ্য

খারাপ কথাবার্তা শোনা, বলা, কাজ করাকে অশ্লীলতা বোঝায়, যা করা বা শোনা মূলত সময়ের অপচয়, সম্পদের ক্ষতি, ইবাদত-বন্দেগিতে গাফলতি এবং শয়তানকে খুশি করা হয়। অশ্লীলতা শয়তানের কাজ। কেননা, কাম-প্রবৃত্তি তাড়িত হয়ে মানুষ অশ্লীল কথা বলে বা অশ্লীল কাজ করে। ভালো মানুষ কখনও অশ্লীল হতে পারে না। অশ্লীলতা মূলত মন্দ চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত।
কোনো মুসলমান বা প্রকৃত ঈমানদার অশালীন বা অশ্লীলতার চরিত্রে ভূষিত হতে পারে না। কেননা, অশ্লীলতার স্থান ইসলাম ধর্মে নেই বলে প্রিয় নবী (সা.) ঘোষণা প্রদান করেছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত জাবির বিন সামুরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কোনো এক মজলিসে ছিলাম যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন। ওই মজলিসে আমার বাবা সামুরা (রা.)ও আমার সম্মুখে বসা ছিলেন। অতঃপর নবী করিম (সা.) এরশাদ করলেন, ‘নিশ্চয়ই অশ্লীল কথা ও কাজ এবং অশ্লীলতার অভিনয়ের কোনো স্থান ইসলামে নেই। নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ইসলামের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি যে তাদের মধ্যে চরিত্রের দিক থেকে সবচেয়ে সুন্দর।’ (আহমদ : ২০৮৩১, আত তারগিব ওয়াত তারহিব : ২৬৫৩)।
গালাগাল করা অশ্লীল কথাবার্তার মধ্যে শামিল। এজন্য গালমন্দ করা অভদ্রতা ও সভ্যতার পরিপন্থি। অশ্লীল ভাষা ব্যবহারে শ্রোতা কষ্ট পায়, যাকে গালি দেওয়া হয় তার মনে আঘাত লাগে। যার কারণে গালাগাল করা বা অশ্লীল বাক্য ব্যবহার ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। হাদিসের বাণী, ‘প্রকৃত মুসলমান সেই, যার কথা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ তাছাড়া অশ্লীলতা মন্দ ও ঘৃণ্য কাজ হওয়ায় মহান আল্লাহ তায়ালা অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, নিষিদ্ধ কাজে মোমিনদের বাধা প্রদানকারী আল্লাহর চেয়ে অধিক কেউ নেই। এ জন্যই প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য যাবতীয় অশ্লীলতা নিষিদ্ধ করেছেন।’ (বোখারি : ৪৬৩৪, মুসলিম : ৩৩, তিরমিজি : ৩৫৩০, আহমদ : ৩৬১৬)। 
মহান রাব্বুল আলামীন অশ্লীল ভাষাভাষীকে পছন্দ করেন না। ঘৃণা করেন এ ধরনের লোকদের। হাদিসের বাণী, হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা অশ্লীলভাষী, নির্লজ্জ ইতরকে ঘৃণা করে থাকেন।’ (তিরমিজি, বায়হাকি : ১৫৬, বুলুগুল মারাম)। অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, কেয়ামতের দিন (নেকি) ওজন করার দাঁড়িপাল্লায় সচ্চরিত্রতার চেয়ে কোনো বস্তুই অধিক ভারী হবে না। আর আল্লাহ তায়ালা অশ্লীল ও চোয়াড়কে অপছন্দ করেন।’ (তিরমিজি : ২০০২, আদাবুল মুফরাদ)।
আমাদের প্রিয় নবী (সা. )ও অশ্লীল কথাকে পছন্দ করতেন না, অশ্লীল কথা বলতেন না। হাদিস শরিফ তার প্রমাণ দিয়েছে এভাবেÑ ‘হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, নবী (সা.) অশ্লীলভাষী ও অসদাচরণের অধিকারী ছিলেন না। তিনি বলতেন, ‘তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে নৈতিকতায় সর্বোত্তম।’ (বোখারি : ৬০২৯)। 
শয়তান চায় মানুষ অশ্লীলতার পথ বেছে নিক। তাই তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু শয়তান মানুষদের অশ্লীল পথে আহ্বান করে। আল্লাহ বলেন, ‘আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো এ নির্দেশই তোমাদের দেবে যে, তোমরা অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাক।’ (সূরা বাকারা : ১৬৮, ১৬৯)। কিন্তু আমাদের উচিত শয়তানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাহান্নামের পথ নির্ধারণ না করা বরং জান্নাতের পথে সর্বদা চলা, প্রতিযোগিতা করা। 
অশ্লীলতা জাহান্নামের দিকে আহ্বান করে। কেননা, অশ্লীলতার স্থান জাহান্নাম। হাদিসের বাণী, হজরত আবু বাকরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ। আর ঈমানের অবস্থান হলো জান্নাত। আর অশ্লীলতা হলো অত্যাচার, আর অত্যাচার থাকবে জাহান্নামে।’ (ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান)।
সর্বোপরি, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এবং তার প্রিয় হাবীব (সা.) অশ্লীলতা বা অশ্লীল ভাষাভাষী লোককে পছন্দ করেন না। এমনকি মোমিন ও ভালো মানুষ কখনও অশ্লীলভাষী হতে পারে না। হাদিসের বাণী, হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, মোমিন খোঁটা দানকারী, অভিশাপকারী, নির্লজ্জ ও অশ্লীলভাষী হয় না।’ (তিরমিজি : ১৯৭৭, আহমদ, ইবনে হিব্বান : ১৯২, আদাবুল মুফরাদ : ৩৩২, তাবারানি : ২০৭৩)। এ জন্য অশ্লীলতা সর্বদা পরিত্যাজ্য। আমাদেরও উচিত অশ্লীলতাকে বর্জন করা। 


মালিকানা ও লেনদেনে অস্বচ্ছতা :
কোরআন মজিদের সর্বাধিক দীর্ঘ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতিকে হেদায়েত
বিস্তারিত
সওয়াল জওয়াব
কবরের ওপর ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে  প্রশ্ন : ২২ বছর আগে আমাদের
বিস্তারিত
ব্যবসায় অসাধুতার বিরুদ্ধে ইসলাম
অসৎ উদ্দেশ্যে খাদ্য মজুতদারির নিন্দনীয়তা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)
বিস্তারিত
হৃদয়ে নুরের প্রদীপ জ্বালো
  দুষ্ট সাপ যখন ছোবল হানে, তখন দংশিত বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারায়।
বিস্তারিত
হেদায়েত লাভে মুর্শিদের সোহবত
শুধু পুঁজি থাকলেই যেমন ব্যবসায়ী হওয়া যায় না, তেমনি ব্যবসা
বিস্তারিত
গোপন কোনো কিছুই রয় না
আমরা অনেক সময় লোকদেখানোর জন্য অনেক মন্তব্য করে থাকি। কিংবা
বিস্তারিত