জাবির বন্যপ্রাণী গবেষণা কেন্দ্র

বিপন্ন প্রাণী রক্ষণাবেক্ষণ

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গড়ে উঠেছে বন্যপ্রাণী গবেষণা কেন্দ্র (ডব্লিউআরসি)। এটি দেশের প্রথম বন্যপ্রাণী গবেষণা কেন্দ্র যেখানে বিপন্নপ্রায় প্রাণীর ওপর গবেষণা করে আবার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর উপযোগী করে তোলা হয়। এ গবেষণা কেন্দ্রে ১১ প্রজাতির উভচর, ১৯ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১৩১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। 

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বন্যপ্রাণী শাখার অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্ব দক্ষিণে রয়েছে এ ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি) বা বণ্যপ্রাণী গবেষণা কেন্দ্র। যেখানে মূলত আক্রান্ত-অসুস্থ প্রাণীকে উদ্ধার করে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হয়। প্রাণীগুলো স্থানীয় আবহাওয়ায় টিকে থাকতে পারলে সুস্থ করে সেগুলোকে আশপাশে অবমুক্ত করা হয়। আর তা সম্ভব না হলে উপযুক্ত স্থানে অবমুক্ত করা হয়। তবে প্রাণী চিকিৎসক না থাকায় গুরুতর আক্রান্ত প্রাণীর ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এ কেন্দ্রের গবেষকদের। 

এক্ষেত্রে তারা পার্শ্ববর্তী পশুসম্পদ চিকিৎসা কেন্দ্রের সহায়তা নেন। এ পর্যন্ত মেছো বাঘ, বাগডাঁশ, বনবিড়াল, শিয়াল, বানর, কচ্ছপ, গুঁইসাপ, লক্ষ্মী পেঁচা, হুতুম পেঁচাসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীকে চিকিৎসা দিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব প্রাণী হুমকির সম্মুখীন সেগুলোকে উদ্ধার করে এনে ডব্লিউআরসিতে রেখে তাদের মুক্ত বাচ্চা উৎপাদন করা হয়।

বর্তমানে ভোঁদড়, লক্ষ্মী পেঁচা, খুরুলে পেঁচা, গ্রিফন ঈগল, কালো ডানা, শুদ্ধি কাছিম প্রভৃতি বিলুপ্তপ্রায় ও হুমকির সম্মুখীন প্রাণী উদ্ধার করে এদের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। কয়েক বছর আগে শ্রীমঙ্গলের একটি চা বাগান থেকে আহত অবস্থায় একটি অজগর উদ্ধার করেন রেসকিউ সেন্টারের গবেষকরা। পরে কিছুদিন রেসকিউ সেন্টারে রেখে সেবা দিয়ে আবার সেখানে অবমুক্ত করা হয়।

এ জায়গায় যেসব বিপন্নপ্রাণী আনা হয় সেগুলোর মধ্যে কোনোটির যদি বংশ বৃদ্ধি সম্ভব হয় তবে তা রেখে বংশ বৃদ্ধি করানো হয়। প্রতিষ্ঠার পরই ২০০৫ সালে নড়াইল থেকে দুইটি ভোঁদড় আনা হয়। ভোঁদড়গুলোকে প্রায় ২ বছর রেসকিউ সেন্টারে রেখে পালন করা হয়। ওই সময়ের মধ্যে ৪টি বাচ্চা জন্ম দেয় ভোঁদড় দুইটি। পরে বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে ২০০৮ সালে তা সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দেশে আগের তুলনায় বর্তমানে ভোঁদড় বহুগুণে কমে গেছে। এক সময় সারা দেশে ভোঁদড়ের বিচরণ থাকলেও এখন সুন্দরবন, উত্তরের হাওড় এলাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনে ভোঁদড় রয়েছে। তবে এরপর প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে আর তেমন কোনো বিপন্ন প্রাণী ডব্লিউআরসিতে সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় অর্থ পেলে ডব্লিউআরসিতে বিপন্ন প্রাণীর বংশ বৃদ্ধি করানোর পরিকল্পনা আছে বলে জানান প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রাণী গবেষক মো. কামরুল আহসান।

তিনি বলেন, চিড়িয়াখানাগুলো সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সুযোগ-সুবিধার কারণে বংশ বৃদ্ধির কাজ করতে পারে না। যেহেতু চিড়িয়াখানাগুলো সঠিকভাবে ভূমিকা রাখছে না, সেক্স ইমব্যালেন্সসহ নানা কারণে অনেক প্রাণী চিড়িয়াখানায় আছে কিন্তু বংশবৃদ্ধি করানো হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমরা উদ্যোগ নিতে চাই।

আমরা যদি প্রোপারলি ফ্যাসিলিটি ডেভেলপ করি তবে কয়েকটি প্রজাতির বংশ বৃদ্ধি করানো সম্ভব। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বাইরের থেকে যদি ফান্ডের ব্যবস্থা করা হয় তবে আমাদের পক্ষে কাজটি করা সম্ভব।


জীবনযুদ্ধে থেমে নেই জয় মালা
নাম জয়মালা বেগম স্বামী মৃত হালু মিয়া। সংসারে চার মেয়ে
বিস্তারিত
সফল উদ্যোক্তা আলিয়াহ ফেরদৌসি
চেনা গণ্ডির সীমানা ভেঙে বেরিয়ে আসছেন নারীরা। কৃষিকাজ থেকে শুরু
বিস্তারিত
রংপুর তাজহাট জমিদার বাড়ি ইতিহাস-ঐতিহ্যের
রংপুর মহানগরীর  দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত তাজহাট জমিদার বাড়ি। রংপুর মূল
বিস্তারিত
ডায়াবেটিক প্রতিরোধে স্টেভিয়া: চিনির চেয়ে
বিরল উদ্ভিদ স্টেভিয়া এখন বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায়
বিস্তারিত
কাউনিয়ায় বালু জমিতে বস্তায় বিষ
বালু জমিতে বস্তায় বিষ মুক্ত লাউ চাষ করে এলাকাবাসীকে তাক
বিস্তারিত
গফরগাঁওয়ে কেঁচো সার উৎপাদনে ভাগ্য
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের সাবেক মেম্বার আবুল হাশেম নিজেই কেঁচো সার (ভার্মি
বিস্তারিত