অধরাই থাকল স্বপ্ন

বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত

ফাইনাল ম্যাচটি হলো ফাইনালের মতোই। গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেট তার সব সৌন্দর্যই যেন মেলে ধরেছিল বাংলাদেশ ও ভারতের নিদাহাস সিরিজের ফাইনাল ম্যাচটিতে। তবে ফাইনালে ভাগ্যের বদল ঘটেনি সাকিব-মুশফিকদের। পঞ্চমবারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেললেও শিরোপা অধরাই রয়ে গেল। বহুজাতিক আসরের ফাইনাল তাই আক্ষেপ আর স্বপ্ন ভঙ্গেরই হয়ে থাকল টাইগারদের জন্য। গতকাল নিদাহাসের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে দিনেশ কার্তিকের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে শেষ হাসি হাসে ভারত। আগে ব্যাট করতে নেমে সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত অর্ধশতক ও মেহেদি হাসান মিরাজের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। জবাব দিতে নেমে শেষ বলে ছক্কা মেরে ভারতকে ৪ উইকেটের স্মরণীয় জয় এনে দেন দিনেশ কার্তিক  (১৬৮/৬)। 

আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নাটকীয়তাপূর্ণ ম্যাচে ইনিংসের শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৩৫। ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান বোলিংয়ে এসে এক রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। ফলে শেষ ২ ওভারে ৩৪ রান দরকার পড়ে ভারতের। রুবেল হোসেনের করা ১৯তম ওভারে চার-ছক্কার ফোয়ারা ছুটিয়ে ২২ রান তুলে ফেলেন সাত নম্বর ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিক। শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। এ ওভারে বোলিংয়ে আসেন সৌম্য সরকার। প্রচ- স্নায়ুচাপের এ ওভারের প্রথম ডেলিভারিটি ওয়াইড হয়। পরের বলটি ডট হয়। তারপরের বল থেকে এক রান নেন ব্যাটসম্যান বিজয় শঙ্কর। তৃতীয় বলে এক রান করেন দিনেশ কার্তিক। চতুর্থ বলে চার মারেন বিজয় শঙ্কর। পঞ্চম বলে আউট হয়ে যান তিনি। ফলে শেষ বলে জয়ের জন্য ৫ রানের প্রয়োজন ছিল ভারতের। শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়ে দেন দিনেশ কার্তিক। মাত্র ৮ বলে অপরাজিত ২৯ রানে সাকিবদের হাতের মুঠো থেকে শিরোপা ছিনিয়ে নেন ম্যাচসেরা হওয়া দিনেশ। সিরিজসেরা হয়েছেন ম্যাচে বাংলাদেশকে অল্প রানে বেঁধে ফেলার অন্যতম নায়ক অফস্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দর। 

বাংলাদেশের দেওয়া ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩২ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে সাকিব আল হাসানের বলে আরিফুল হকের তালুবন্দি হন শিখর ধাওয়ান। সাত বল খেলে ১০ রান করেন তিনি। দলীয় স্কোরে কোনো রান যোগ না হতেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় ভারত। রুবেল হোসেনের করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে ধরা পড়েন সুরেশ রায়না (০)। লোকেশ রাহুলকে সঙ্গী করে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৫১ রান করে ভারতকে জয়ের পথে টেনে নিতে থাকেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। এ পর্যায়ে মনে হচ্ছিলো সহজ জয়ই পেতে যাচ্ছে ভারত। দলীয় ৮৩ রানের মাথায় এ জুটি ভাঙেন রুবেল হোসেন। সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার আগে ১৪ বল খেলে ২৪ রান করেন রাহুল। ১৪তম ওভারে নাজমুল ইসলাম অপুর বলে রোহিত শর্মা বাউন্ডারির কাছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের তালুবন্দি হলে জমে ওঠে ম্যাচ। ৪২ বল খেলে ৪টি চার ও তিন ছয়ে ৫৬ রান করেন রোহিত। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি তার ১৪তম হাফ সেঞ্চুরি। ১৮তম ওভারের শেষ বলে মনিষ পান্ডেকে সাব্বিরের ক্যাচ বানিয়ে তুলে নেন মোস্তাফিজ। ২৭ বলে ২৮ রান করেন পান্ডে। সৌম্য সরকারের করা শেষ ওভারে সীমানার কাছে মেহেদি হাসান মিরাজের ক্যাচে পরিণত হন বিজয় শঙ্কর। ১৯ বলে ১৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে ৩৫ রানে দুই উইকেট পেয়েছেন রুবেল হোসেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব, অপু, মোস্তাফিজ ও সৌম্য সরকার। 

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুই স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দর ও যুজবেন্দ্র চাহালের ঘূর্ণির সঙ্গে দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ২৭ রানের ওপেনিং জুটির পরই বিপদের শুরু টাইগারদের। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে সুরেশ রায়নার হাতে ক্যাচ হন লিটন দাস। ৯ বল খেলে ১১ রান করেন তিনি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। যুজবেন্দ্র চাহালের করা এ ওভারের দ্বিতীয় বলে শারদুল ঠাকুরের হাতে ক্যাচ হন তামিম ইকবাল। ১৩ বল খেলে ১৫ রান করেন তিনি। ওভারের ষষ্ঠ বলে শিখর ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ হন সৌম্য সরকার। দুই বল খেলে এক রান করেন তিনি। দলীয় ৬৮ রানে যুজবেন্দ্র চাহালের বলে বিজয় শঙ্করের হাতে ক্যাচ হন মুশফিকুর রহিম। ১২ বল খেলে ৯ রান করেন তিনি। এরপর একাই লড়াই চালিয়ে যান সাব্বির। প্রথম ১০ ওভারে যেখানে রান এসেছিল মাত্র ৬৮। সাব্বিরের ব্যাটে ভর করে শেষের ১০ ওভারে আসে ৯৮ রান। তবে আরও বেশি রান আসতে পারত যদি দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব আল হাসান রান আউটের ফাঁদে উইকেট না খুইয়ে আসতেন। দলীয় ১০৪ রানে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। ১৬ বল খেলে ২১ রান করেন তিনি। দলীয় ১৩৩ রানে রান আউট হন সাকিব আল হাসান। সাত বল খেলে ৭ রান করেন তিনি। জয়দেব উনাদকাতের করা ইনিংসের ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বোল্ড হন সাব্বির রহমান। ৫০ বল খেলে ৭৭ রান করেন তিনি। ৭টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৪টি ছক্কা হাঁকান সাব্বির। ওই ওভারের তৃতীয় বলে বোল্ড হন রুবেল হোসেন (০)। শেষ ওভারে বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন মিরাজ। তার ৭ বলে করা ১৯ রানেই চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। চাহাল ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রানে তিন উইকেট নেন। ৩৩ রান খরচে দুটি উইকেট নিয়েছেন উনাদকাট। এছাড়া ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে এক উইকেট নেন ওয়াশিংটন সুন্দর।


ওয়ালটনের জবাবে ব্যাট করছে ইস্ট
রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ তথা শেষ
বিস্তারিত
ভলিবল: কিরগিজস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ
বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সিনিয়র মেনস সেন্ট্রাল জোন ইন্টারন্যাশনাল ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৮ এর
বিস্তারিত
অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলের লোগো উন্মোচন
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ১২টি দলের অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের
বিস্তারিত
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ-
আগামী বছর ৩০ মে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয়
বিস্তারিত
দুই মাসেই ভাঙল ইমরানের তিন
বুড়ো বয়সে তিন নম্বর বিয়ে করেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও
বিস্তারিত
দিল্লির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন
ব্যর্থতার দায় নিয়ে দিল্লি ডেয়ারডেভিলেসর নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক
বিস্তারিত