চুল নিয়ে ব্যবসা!

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় হিন্দু মন্দিরগুলোতে হাজার হাজার মহিলা প্রতিদিন ধর্মীয় কারণে মাথার চুল কামিয়ে ফেলে।
এজন্য মন্দিরগুলোতে থাকেন অনেক নাপিত, আর প্রতিদিন জমা হয় টনকে টন লম্বা চুল।
আর মহিলাদের এই কেটে ফেলা চুলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক লাভজনক ব্যবসা।
কারণ এই চুল প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয় পরচুলার মতো বিভিন্ন সামগ্রী - যা বিক্রি হয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।
দক্ষিণ ভারতের তিরুপতি তিরুমালা মন্দির হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম হয় এমন একটি ধর্মীয় স্থান ।
প্রতি বছর এ মন্দির দর্শন করতে আসেন ৪ থেকে ৫ কোটি নারীপুরুষ।
এ তিরুপতি মন্দির আবার হচ্ছে মানুষের চুলের সবচেয়ে বড় সংগ্রহকার।
প্রতি বছর এখানে নারীপুরুষের মাথা কামিয়ে যে পরিমাণ চুল জমা হয় তার পরিমাণ পাঁচশো টন।
আফ্রিকা এবং পৃথিবীর অন্যন্য দেশে পরচুলা তৈরির জন্য যে চুল লাগে তার অধিকাংশই সংগৃহীত হয় এখানে।
যে কোন মহিলারই সৌন্দর্যের একটা বড় উপাদান হচ্ছে তার লম্বা চুল।
কিন্তু এই তিরুপতি মন্দিরে অনেক মহিলাই আসেন তাদের এই লম্বা চুল কামিয়ে ফেলতে।
কারণ ঈশ্বরের নামে লম্বা চুল কামিয়ে ফেলা নাকি সৌভাগ্য বয়ে আনে। এমনটাই বিশ্বাস তাদের।
এমনই একজন গোপালা আম্মা - এসেছেন তিরুপতি মন্দিরে চুল কেটে ফেলতে।
চুল কেটে ফেলা প্রসঙ্গে গোপাল আম্মা বলছেন, "আমার স্বামী মদ খাওয়া শুরু করেছে, আর আমার ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় ভালো করতে পারছে না। আমি এ অবস্থা থেকে উত্তরণ চাই - তাই ঠিক করেছি মন্দিরে এসে আমার মাথার চুল কাটাবো"।
"আমরা যখনই কোনো সমস্যায় পড়ি মন্দিরে আসি, যেন সেই সমস্যার সমাধান হয়। চুল কামিয়ে ফেলার পর মাথাটাও হালকা লাগে"।
এখানে যে শুধু মন্দির থেকেই চুল সংগৃহীত হয় তাই নয়, বাড়িতে বাড়িতে মহিলারা চিরুণী দিয়ে চুল আচড়ানোর ফলে যে চুল উঠে যায় - সেটাও জমিয়ে রাখেন।
আর তা কিছুদিন পর পর এসে কিনে নিয়ে যায় লোকেরা। এই চুল বিক্রি করে কেউ টাকা পায়, কেউ বা বিনিময়ে অন্য কোন পণ্য নিয়ে নেয়।
কখনও কোনও মহিলা তাঁর চুল বিক্রি করেন ভ্রাম্যমাণ ক্রেতার কাছে। "আমি ১৫০ গ্রাম চুল কিনলাম ১৫০ রুপি তে। মন্দ নয়"। আর মহিলাও এ দাম পেয়ে খুশি।
রাজ হেয়ার ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি চুল প্রক্রিয়াজাত করার প্রতিষ্ঠান চালান টি সুব্রামানিয়াম। তিনি বলছিলেন, কিভাবে তারা এই প্রক্রিয়াজাত করার কাজ করেন।
"আমাদের কাছে মাসে ১০ থেকে ১৫ বার চুলের চালান আসে তিরুপতি থেকে । এখানে প্রথমে বাছাই হয়, তার পর গরম পানির বাষ্প দিয়ে এই চুলকে বাঁকা করা হয় এবং কুন্ডলি পাকানো হয়। এ কাজে অনেক শ্রমিক লাগে। তবে বিভিন্ন দেশে থাকা বিশেষত আফ্রিকান মহিলাদের মধ্যে এই কার্ল করা চুল খুব জনপ্রিয়"।
রাজ হেয়ার ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন বেনজামিন চেইরান, তিনি মনে করেন আফ্রিকাতেই তাঁর ব্যবসার ভবিষ্যত।
"আমি দেখেছি আমার দোকানে যখন তারা আসে এবং এত চুলের সমাহার দেখে, তাদের চোখ আনন্দে উজ্জল হয়ে ওঠে। আমি বোঝাতে পারবো না তারা কতটা খুশি হয়। কারণ তারা মনে করে এই পরচুলা মাথায় দিয়ে তাদের সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়"।
এই পরচুলা তৈরির কারখানা কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু তিরুপতি নয় দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য মন্দির থেকেও চুলের সরবরাহ পান তারা। তবে আশি শতাংশ চুলই আসে এই তিরুপতি থেকেই।

 


ঢাবির টিএসসিতে যৌন হয়রানি, গণধোলাই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আড্ডা দিতে এসে বিপত্তির শিকার হয়েছেন বেসরকারি
বিস্তারিত
যে শহরের সুন্দরী ধনী মেয়েরা
জানেন কি বিশ্বের কোনো একটি দেশে এমন একটি শহর রয়েছে,
বিস্তারিত
৩৫০ জনকে নিয়োগ দিচ্ছে বাংলাদেশ
৩৪টি বেসামরিক পদে ৩৫০ জনকে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।
বিস্তারিত
তদবিরবাজি করলে রাজনীতি করছি কেন?
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সদ্য পদত্যাগকারী সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি
বিস্তারিত
ব্যবসা করুন মাত্র ৫ হাজার
স্ক্রিন প্রিন্টের ব্যবসা শুরু করুন মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়েই
বিস্তারিত
নৌবাহিনীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২০২০-এ অফিসার ক্যাডেট (১ম ব্যাচ) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
বিস্তারিত