জীবনে সফল হতে হলে...

আমাদের মধ্যে অনেকেরই ধৈর্য কম। আমরা সামান্য ব্যাপার বা কারণেই হতাশ হয়ে যাই। কাজ শুরু করতে না করতেই সফলতা চাই। রাতারাতি বিখ্যাত হওয়ার স্বপ্ন দেখি। ফলে অল্পতেই লক্ষ্যচ্যুত হয়ে পড়ি। আমরা বুঝতে চাই না, জীবন চলার পথ কঠিন, এত মসৃণ নয়। তাই ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে হাত-পা গুটিয়ে নিই। ভাগ্যের কিংবা পরিবারের দোহাই দিয়ে নিজেকে সান্ত¡না দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে জীবনে সফল হতে হলে কিছু নিয়ম মানতে হবে, ধৈর্য সহকারে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে লক্ষ্যে না পৌঁছা পর্যন্ত। আজ আমরা সফলতার পূর্বশর্তগুলো জেনে নেব। আর যদি লক্ষ্য অটুট থাকে, সফলতা তো আসবেই।
স্বপ্ন : কোনো কাজ শুরুর আগে স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্নটা নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে নয়, জেগে দেখতে হয়। মনের মধ্যে স্বপ্ন থাকবে ‘আমি সফল ব্যক্তি হব’, তা যে-কোনো ক্ষেত্রেই হতে পারে। স্বপ্ন দেখাটা জরুরি। স্বপ্নই যদি না থাকে, আপনি ডাক্তার, শিক্ষক, লেখক, অভিনেতা, ব্যবসায়ী কীভাবে হবেন?
লক্ষ্য : সবার আগে আপনার লক্ষ্যটা স্থির করুন। মাঝপথে গিয়ে লক্ষ্যের বাইরে চলে যাবেন না। স্থির সিদ্ধান্ত নিন। লক্ষ্যহীনভাবে পথ হেঁটে কখনও গন্তব্যে পৌঁছা সম্ভব নয়। শেষ না দেখে ছাড়বেন না। কারণ আপনার লক্ষ্যই আপনাকে গন্তব্যে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। অনেক ভেবেচিন্তে লক্ষ্যটাকে স্থির করতে হয়। ধনুক থেকে তির ছুড়তে গেলে লক্ষ্যটাই কিন্তু আসল। তাই নিজের লক্ষ্য অটুট রাখুন।


সাধনা : শুধু স্বপ্ন দেখলেই হয় না, স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সাধনার দরকার আছে। যে বিষয়ে স্বপ্ন দেখছেন, সে বিষয়ে চেষ্টাটাও করতে হবে। সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয়। ঘরে বসে থাকলে কেউ এসে আপনার হাতে পুরস্কার দিয়ে যাবে না। যত ছোট বিষয়ই হোক, অবহেলা না করে শ্রদ্ধার সঙ্গে শুরু করুনÑ বিন্দু বিন্দু জল থেকে সিন্ধু কেন হবে না।
পরিশ্রম : আপনার স্বপ্ন, সাধনা, লক্ষ্য সবই ঠিক ছিল। পরিশ্রমের বেলায় শূন্য হলে আপনি সফলতার দেখা আর পেলেন না। কেননা ‘পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি’। পরীক্ষা পাসের জন্য এ প্রবাদটি মুখস্থ করেছেন; কিন্তু আত্মস্থ করেননি। তাহলে আপনি ব্যর্থ। শুধু পরিশ্রমই অনেক ছোট ছোট কাজকে বড় করে তুলতে পারে। সফলতার জন্য পরিশ্রমের বিকল্প কিছু নেই।
আগ্রহ : প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে আগ্রহ বা উৎসাহ একটি বিশাল ব্যাপার। কোনো কাজে উৎসাহ না পেলে তা না করাই ভালো। কেননা জোর করে কিছু হয় না। তাতে না আপনি উপকৃত হবেন, না আপনার প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে। কাজ করার আগে আগ্রহটাই আসল। সব কাজের ক্ষেত্রেই নিজের আগ্রহটাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সাহস : সাহস বিষয়টি মানুষের মনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সবকাজের ক্ষেত্রেই সাহসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। হুমকি, লোকসান, বিপদের ভয় নেইÑ এমন কাজ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ফলে সবকিছুর সঙ্গে সঙ্গে সাহসটাকেও বাড়িয়ে নিন। সাহসীরা কখনও পরাজিত হন না। তাছাড়া সাহস করে কোনো বিষয়ে ঝুঁকি না নিলে জীবনে সফলতা আসে না। সবসময় ভাগ্য মানুষের সহায় না-ও হতে পারে।
বিশ্বাস : প্রথমত নিজের ওপর বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সবার ওপর বিশ্বাস রাখুন। তবে সন্দেহের বাইরে কিন্তু কেউ নন। বিশ্বাসের সঙ্গে নজরদারি করবেন। আত্মবিশ্বাস যদি প্রবল হয়, যে-কোনো বিপর্যয়ে আপনি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন, কেননা বিশ্বাসে মিলায় বস্তু; তর্কে বহুদূর।
সবশেষে বলতে চাই, ‘পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি’Ñ এ কথাটি আমরা সবাই জানলেও কাজের ক্ষেত্রে উল্টো। জীবনে যা-ই করুন না কেন, উপর্যুক্ত বিষয়গুলো স্মরণ রাখবেন। আপনার চেষ্টা আপনাকেই করতে হবে। পরিশ্রমী প্রতিটি মানুষ জীবনে সফল হয়। তবে কেন আর হাত গুটিয়ে বসে থাকা, দৃঢ় মনোবল নিয়ে শুরু করুন আজই। অপেক্ষা করুন সফলতার আগ পর্যন্ত।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত