ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ নেই

হুমকির মুখে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন স্থাপনা। এসব স্থাপনা সংরক্ষণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সমন্বিত পদক্ষেপের অভাবকেই দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। ঐতিহ্যবাহী ভবনের সংখ্যা নিয়েও রয়েছে দীর্ঘ বিতর্ক। পুরান ঢাকায় এমন শত শত ভবন রয়েছে, যেগুলো ঐতিহ্যবাহী ভবনের মধ্যে পড়ে। কয়েকশ’ বছরের পুরানো এসব ভবন সংস্কারের অভাবে জীর্ণ ও ভেঙে পড়ছে। এরপরও এসব ভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেই। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ভবন ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন।

জানা যায়, ২০০৯ সালে পুরান ঢাকার চারটি অঞ্চলকে ঢাকার ঐতিহ্য বা হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। পাশাপাশি পুরান ঢাকারই মোট ৯৩টি স্থাপনাকে ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে সংস্থাটি। গেজেটে উল্লেখ করা হয়, ঐতিহাসিক, নান্দনিক, বৈজ্ঞানিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এসব স্থাপনাকে ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গেজেটে বলা হয়, ‘তালিকাভুক্ত ইমারত’ বলতে ইমারত ও ইমারতসংলগ্ন যে কোনো কাঠামো এবং ইমারতের সীমানার মধ্যে অবস্থিত সব অংশ বোঝাবে। নগর উন্নয়ন কমিটির অনুমোদন ছাড়া এ তালিকাভুক্ত ভবন ও স্থাপনার কাঠামো আংশিক বা সম্পূর্ণ অপসারণ, পুনর্নির্মাণ, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। কিন্তু এসব বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজউকের এ তালিকাকে অসম্পূর্ণ ও আংশিক তালিকা হিসেবে দাবি করেছে আরবান স্টাডি গ্রুপ নামের একটি সংগঠন। গ্রুপের প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম বলেন, ২০০৯ সালে প্রণীত তালিকায় শাঁখারীবাজার, সূত্রাপুর, ফরাশগঞ্জ ও রমনা এলাকাভিত্তিক যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিল, তা ২০১৭ সালে এসে বাদ দেওয়া হয়। তালিকায় ৯৩টি ভবনের উল্লেখ থাকলেও সংশোধিত তালিকায় তা ৭৫-এ নামিয়ে আনা হয়। পুরান ঢাকার ১৩টি সড়ককে ঐতিহ্যবাহী এলাকা হিসেবে সংরক্ষিত হিসেবে ঘোষণা করলেও তা প্রত্যাহার করা হয়। এ তালিকা প্রণয়নের পর পুরান ঢাকার অনেক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হারিয়ে যেতে বসেছে।

২০০৪ সালে আরবান স্টাডি গ্রুপ রাজধানীর ২ হাজার ৫০০ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার একটি তালিকা তৈরি করে তা সংরক্ষণের জন্য রাজউক, সিটি করপোরেশন, ডিসি অফিস এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে জমা দেয়। এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই। ২০১২ সালে ঐতিহ্য সংরক্ষণের আর্জি জানিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হয়। তখন আদালত ঐতিহ্যবাহী ভবনের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংশ্লিষ্টদের জমা দিতে নির্দেশ দেন। এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই।

সম্প্রতি সূত্রাপুরের হৃষিকেশ দাস রোডের ৪১-৪৩ হোল্ডিং ভবন, শাঁখারীবাজার, কৈলাশ লেন, রাজার দেউরিসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংসের প্রতিবাদে এ গণঅবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। ৩৮নং টিপু সুলতান রোডের শঙ্খনিধি হাউজের ঐতিহ্য, পুরান ঢাকার উত্তর মৈশুন্ডির ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও ৪০নং হোল্ডিংজুড়ে ২৫ কাঠা জমির ওপর অবস্থিত হেরিটেজভুক্ত হিন্দু জমিদারবাড়ী ও মন্দির এরই মধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভেঙে ফেলা অন্য হেরিটেজভুক্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ২০৭ লালমোহন সাহা স্ট্রিটের একটি ভবন, লালবাগ ২৫৫ ও ২৫৬নং হোল্ডিংয়ের জমিদার কেদারনাথের বাড়ি ও নাট মন্দির, ২৬ বিকেদাস ও ৩৩ প্যারিদাস রোডে অবস্থিত তিনটি ঐতিহ্যবাহী বাড়ি, আরমানিটোলা নিকি সাহেবের বাড়ি, রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি, খামারবাড়ির ল্যাবরেটরি ভবন এবং পুরানো জেলা পরিষদ ভবন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, সুষ্ঠু নীতিমালার অভাবে এসব অমূল্য সম্পদ রক্ষা করা যাচ্ছে না। এ অমূল্য সম্পদ রক্ষা করে ইতিহাসভিক্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারকে কাজ করতে হবে।


পঞ্চাশ বছর ধরে শিক্ষার আলো
কোথাও খোলা উঠুনে চাটাই পেতে। আবার কোথাও কারো বাড়ির বারান্দায়।
বিস্তারিত
রংপুরে শিম চাষে কৃষকের সাফল্য
রংপুর জেলায় শিম চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছে কৃষকরা। অপরদিকে
বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের হাওরে নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের
কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯ শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা
বিস্তারিত
জলের ফলে দিন বদল
নদী মাতৃক এই দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে
বিস্তারিত
বাসক পাতায় ভাগ্য বদল
বাসক পাতার ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে কম-বেশি সবাইর জানাশোনা আছে। সর্দি-কাশি
বিস্তারিত
মতলব উত্তরে আখের বাম্পার ফলন
মতলব উত্তর উপজেলায় এ বছর চিবিয়ে খাওয়া আখের বাম্পার ফলন
বিস্তারিত