ভ্রমণ

বিস্ময়ের তাজমহল

গেট দিয়ে ঢুকে বিস্ময়ে থমকে দাঁড়াই। একটু দূরে দাঁড়িয়ে ধবধবে সাদা শ্বেতপাথরের তাজমহল। মূলত এটি সম্রাট শাহজাহান গড়েছেন তার স্ত্রী মমতাজের সমাধিসৌধ হিসেবে। অবশ্য স্ত্রীর পাশে সম্রাটও এখানে সমাহিত। কত গল্প, কত কাহিনি ভারতের আগ্রার এ তাজমহল নিয়ে। এটাকে প্রেমের অমর নিদর্শনও বলা হয়। এটি পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যেরও একটি। সব মিলিয়ে কিঞ্চিত ঘোরে আছি। ভ্রমণসঙ্গী সাইক্লিস্ট আবুল হোসেন আসাদ বললেন, চলুন সামনে এগোই। তার কথায় ঘোর কাটে, পা বাড়াই সামনের দিকে।
তাজমহলের ঠিক সামনাসামনি লম্বা ফোয়ারা। ফোয়ারার পানিতে তাজমহলের প্রতিফলন দেখা যায়। এ ফোয়ারার দুই পাশে রাস্তা। আমরা এক পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটছি তাজমহলের দিকে। বিকাল হওয়ায় পর্যটকের বেশ ভিড়। একটু সামনে এগোলেই উঁচু বেদি। বেদির চারপাশেও ফোয়ারা। এ বেদিতে দাঁড়িয়ে তাজমহলকে কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গরূপে দেখি। এখানেও আছে পর্যটকের বেশ ভিড়। বেদিতে বসার চেয়ারও আছে। মূলত এ বেদি বানানো হয়েছে তাজমহলকে কাছ থেকে ভালোভাবে দেখার জন্য।


বেদি থেকে নেমে হেঁটে আসি তাজমহলের আরও কাছে। বেশ উঁচু বেদির ওপর তাজমহলের মূল কাঠামো। বেদিতে ওঠার আগে কাপড় বা বিশেষ ধরনের কাগজের সাদা মোজা পরে নিই। টিকিটের সঙ্গে এ মোজা দেওয়া হয়েছে। মানুষের হাঁটাচলায় তাজমহলের সৌন্দর্যের কোনো ক্ষতি বা ক্ষয় যেন না হয় সে জন্যই এ মোজা। বেদির সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসি তাজমহলের সামনের গেটে। গেটের সামনে দর্শনার্থীর দীর্ঘ লাইন। আমরাও লাইনে দাঁড়াই। কিছুক্ষণের মধ্যে ঢুকি মহলের ভেতরে।
মহলের ভেতরে ঠিক মাঝ বরাবর পাশাপাশি মমতাজ ও মুঘল সম্রাট শাহজাহানের কবর। তাদের কবরের চারপাশে চক্কর দিই। মহলের বাইরে ছবি তোলার সুযোগ থাকলেও ভেতরে তোলা নিষেধ। তাই কবরের ছবি তুলছি না। কবরের চারপাশে ঘোরার সময় দেখি মহলের গাইড টর্চলাইট দিয়ে কবরের দেয়ালের শ্বেতপাথরে আলো ফেলছেন। টর্চের আলো ভেদ করে একপাশ থেকে অন্যপাশে যাচ্ছে। গাইড দর্শনার্থীদের বোঝালেন প্রকৃত শ্বেতপাথর আলো ভেদ করতে পারে। ভেতরে দর্শনার্থীদের বেশিক্ষণ থাকতে দেওয়া হয় না। বের হই মহলের পেছনের গেট দিয়ে।
মহলের পেছন দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। ঠিক যমুনার তীরঘেঁষা এ মহল। নদীর ওপারেও ইমারত লক্ষ করি। বলা হয়ে থাকে তাজমহলের বাগানের নকশায় নদীও অন্তর্ভুক্ত ছিল। হেঁটে মহলের চারপাশ ঘুরি। সামনের গেটের দরজার চারপাশে কালো রঙে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে লেখা। একই ধরনের ক্যালিগ্রাফি পেছনের দরজার চারপাশে যেমন আছে, তেমনি অন্য দুই পাশের দেয়ালেও আছে। ক্যালিগ্রাফি ছাড়াও মহলের দেয়ালে আছে শ্বেতপাথরে খোদাই করা ফুলসহ বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশা। এছাড়াও মহলের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের পাথর দিয়ে করা নকশা। মহলের জানালাগুলোও সাদা শ্বেতপাথর কেটে তৈরি। মহলের চারপাশে কয়েকবার চক্কর দিই। তারপর নামি।
মহলের পশ্চিম ও পূর্ব পাশে আছে মসজিদ ও জাওয়াব নামের মেহমানখানা। এ মসজিদ ও মেহমানখানাও তৈরি নান্দনিক নকশায় এবং দুটি স্থাপনাই একই রং, নকশা ও একই আয়তনের। মহলের পেছনের পাশ ছাড়া তিন পাশই দেয়ালঘেরা। তিন পাশে গেটও তিনটি। প্রধান গেটটি মহলের প্রধান দরজা বরাবর। আমরা হেঁটে আসি পূর্ব পাশের গেটের দিকে। দূর থেকে আবার তাকাই মহলের দিকে। সত্যিই পাথরে খোদাই করে তৈরি এ স্থাপনার রং, নকশা, সূক্ষ্ম কারুকার্য দেখে বিস্মিত হই।
ইতিহাস থেকে জানি, এ মহল বা সমাধি নির্মাণ শুরু হয় ১৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে। পুরো কাজ শেষ হয় ১৬৫৩ খ্রিষ্টাব্দে। এর ভিত্তি আর সমাধি নির্মাণ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ১২ বছর। পুরো আঙিনার বাকি অংশ নির্মাণ করতে লেগেছিল আরও ১০ বছর। অবশ্য মহলের পুরো অংশের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই শাহজাহান তার ছেলে আওরঙ্গজেব দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত ও আগ্রার কেল্লায় গৃহবন্দি হন। বলা হয়, জীবনের বাকি সময়টুকু শাহজাহান আগ্রার কেল্লার জানালা দিয়ে তাজমহলের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন। তার মৃত্যুর পর আওরঙ্গজেব তাকে তাজমহলে স্ত্রী মমতাজেরর পাশে সমাহিত করেন।
তাজমহলের নকশা কে করেছিলেন এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর মেলা দায়। তবে এটা নিশ্চিত, যারা এর নকশাকার বা কারিগর তারা সত্যিই শিল্পনৈপুণ্যসম্পন্ন। আর এ কারিগরি দলটির প্রথপদর্শক ছিলেন আহমেদ লাহুরি। তার নাম এ মহলের মূল নকশাকারক হিসেবে কেউ কেউ বলে থাকেন। অবশ্য এটাও সঠিক উত্তর নয়। মূলত এ মহল পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় ও ইসলামি স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন। এটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 
বর্গাকার একটি বেদির ওপর দাঁড়িয়ে এ মহল। বেদির চারকোণে চারটি মিনার। এগুলোর উচ্চতা ৪০ মিটারের বেশি। মিনারগুলোতে তাজমহলের প্রতি সমতার ব্যাপারটিই লক্ষ করা যায়। মহলের ঠিক মাঝ বরাবর একটি বড় গম্বুজ। চারপাশে আছে আরও চারটি গম্বুজ। সব গম্বুজই একই নকশার এবং সব গম্বুজের ওপরেই আছে কাঁসার চূড়া বা দ-। চূড়ার উপরের অংশটি চাঁদ এবং চাঁদের উপরের অংশটি তাক করা শিং আকৃতির। এ চাঁদ ও তাক করা শিং মিলে ঐতিহ্যবাহী চিহ্নেরই আকার ধারণ করে বলে মনে করেন ঐতিহাসিকরা। সঠিক তথ্য নয়, তবু ধারণা করা হয়, এ মহল নির্মাণে খরচ হয়েছে তৎকালীন আনুমানিক ৩২ মিলিয়ন রুপি। তবে শ্রমিকের খরচ, নির্মাণের সময় এবং তৎকালীন অর্থনৈতিক যুগের কারণে এর মূল্য অনেক। ফলে একে অমূল্যই বলা যায়।

ছবি : লেখক


আরব ছোটগল্পের রাজকুমারী
সামিরা আজ্জম ১৯২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আর্কে একটি গোঁড়া
বিস্তারিত
অমায়ার আনবেশে
সাদা মুখোশে থাকতে গেলে ছুড়ে দেওয়া কালি  হয়ে যায় সার্কাসের রংমুখ, 
বিস্তারিত
শারদীয় বিকেল
ঝিরিঝিরি বাতাসের অবিরাম দোলায় মননের মুকুরে ফুটে ওঠে মুঠো মুঠো শেফালিকা
বিস্তারিত
গল্পের পটভূমি ইতিহাস ও বর্তমানের
গল্পের বই ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’। লেখক শাহাব আহমেদ। বইয়ে
বিস্তারিত
ধোঁয়াশার তামাটে রঙ
দীর্ঘ অবহেলায় যদি ক্লান্ত হয়ে উঠি বিষণœ সন্ধ্যায়Ñ মনে রেখো
বিস্তারিত
নজরুলকে দেখা
আমাদের পরম সৌভাগ্য, এই উন্নত-মস্তকটি অনেক দেরিতে হলেও পৃথিবীর নজরে
বিস্তারিত