দাদুর কাছে গল্প শোনা



খামটা বেশ চেনাচেনা লাগল আশিকের। দাদু এমন খামে ভরেই ঈদে বকশিশ দেয় আশিককে। অনেকটা তৃপ্তি নিয়ে দাদু বললেন, সবাই গল্প বলতে পারে না। গল্প লিখতেও পারে না। কিন্তু কেউ কেউ পল্পের নায়ক হয়। তবে যে গল্পে জীবনের কথা নেই
সে গল্প কী কাজের
কথা অনুযায়ী দাদুর আজ গল্প শোনানোর দিন। দাদুকে বেশ কয়েকবার অনুরোধের পরে রাজি হয়েছেন তিনি। দিনটা দাদু-ই ঠিক করেছেন। আশিককে এ জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। গল্প শুনতে বন্ধুরা আসবে, এ জন্য ভালো কিছু রান্নার কথা মাকে আগেই বলে রেখেছিল। 

দাদুও গল্প শোনার জন্য দু-একটা শর্ত দিয়েছিল। অদ্ভুত! গল্প শুনতেও শর্ত। বিষয়টি আশিকের মাথায় ঢোকেনি। তবুও সে দাদুর শর্ত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শর্তের মধ্যে একটা ছিল, গল্প শুনতে অন্যদের সঙ্গে আশিকের বন্ধু রহমানকে নিয়ে আসতে হবে।

রহমান আশিকের ভালো বন্ধু। ওরা আশিকদের বাড়ির পাশেই থাকে। কিন্তু কারও সঙ্গে খুব একটা মিশে না। অর্থকষ্ট রহমানের পড়াশোনায়ও প্রভাব ফেলেছে। খুব চাপা স্বভাবের রহমান বিষয়টি কাউকে বুঝতেও দেয় না। 
বিকাল বেলা সবাই আশিকদের বারান্দায় এসে হাজির। দাদুর অপেক্ষা। যদিও আজকাল দাদুর শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। কিন্তু তিনি কোনো কথা দিলে তা রক্ষা করেন। এর ব্যত্যয় কখনও দেখেনি আশিক। বিকাল সাড়ে ৪টায় দাদু এসে সবার সঙ্গে যোগ দিল। দাদু প্রথমে সবার দিকে একবার ভালো করে তাকিয়ে নিলেন। যদিও এ পাঁচজনকে তিনি ভালো করেই চেনেন। 
দাদু বললেন, সবাই নিজের পরিচয় দাও। 
‘আমি আশিক, আমি সাকিব, আমি নয়ন, আমি বিশাল, আমি রহমান’Ñ একে একে সবাই বলল।
দাদু খেয়াল করলেন, নিজের নামটি বলার সময়ও রহমান চোখ তুলে চায়নি। 
দাদু এবার বললেন, গল্প শুনতে কার না ভালো লাগে। আমারও লাগে। কিন্তু আজ তোমরা আমার কাছেই গল্প শুনতে চেয়েছ। যদিও তোমাদের সময়ে কেউ গল্প শোনে না বললেই চলে। এখন তোমাদের বয়সি বেশিরভাগই ভিডিও গেমস, নয়তো মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত থাকে। কিন্তু তোমরা গল্প শুনতে চাও, তা জেনেই আমার ভালো লাগছে। আসলে গল্প হচ্ছে জীবনের প্রতিচ্ছবি, জীবন থেকে নেওয়া কিছু কিছু ঘটনা জোড়া দিয়েই গল্প হয়। গল্প এক ধরনের পাঠ। শুধু বই-পুস্তক নয়, তোমাদের পড়তে হবে গল্প-কবিতা ও ভ্রমণের বইও। যদিও অনেকে এসবকে বাড়তি ঝামেলা ভাববে। কিন্তু এসব হচ্ছে জীবনের পাঠ। জীবনকে বুঝতে, জানতে এসবের দরকার আছে। 

দাদু খেয়াল করলেন, এসব ভারি কথা কারও 
ভালো লাগছে না। কঠিন গণিতের ক্লাসের লেকচার শোনার সময় সবার মুখে যেমন কাঠিন্য চলে আসে, এখন সবাইকে ঠিক তেমন দেখাচ্ছে।
দাদু পরিবেশটা হালকা করার জন্য এবার বললেন, পরিচয় দিতে গিয়ে তোমরা শুধু তোমাদের নাম বলেছ। নাম দিয়ে কী পুরো মানুষটাকে বোঝা যায়? এবার নিজের সম্পর্কে ছোট ছোট গল্প বলবে। আগে শুনব, এরপর আমার গল্প। 
দাদু সবার দিকে আবারও তীক্ষè দৃষ্টি দিয়ে দেখলেন। তিনি রহমানের দিকে আঙুল তুলে বললেন, রহমান তুমি এবার নিজের গল্প বলো। 
রহমান কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। ক্লাসে হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়া ছাত্রের স্যারের চিৎকারে আচমকা জেগে উঠার মতো অবস্থা। গল্প শুনতে এসে এ কোন বিপদ! কিছু বলার আগে সে দেখল, সবাই খুব উৎসাহ নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।  
চুপচাপ রহমান আরও গম্ভীর হয়ে গেল। যেন কেউ তার ওপর শীতের রাতে গায়ে বরফ ঢেলে দিয়েছে। যদিও নিজেকে নিয়ে গল্প বলার মতো কিছুই নেই। আছে সংসারে টানাপড়েন, দরিদ্রতা ও বাবা-মার নিত্যকার হা-হুতাশ। এমন গল্প কে বলতে চায়। বন্ধুদের এমন গল্পের কথা শুনিয়ে কী লাভ!
রহমান চুপ করে রইল। দাদু ও আশিক বেশ বিব্রত হয়ে পড়লেন। কিন্তু কেউ রহমানকে দ্বিতীয়বার আর বলল না। 
দাদু বুঝতে পারলেন আজ গল্প বলার দিন নয়, গল্প শোনারও নয়। দাদু পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা খাম বের করে দিয়ে রহমানের দিকে এগিয়ে ধরে বললেন, এটা নাও। এর ভেতরে কিছু গল্প আছে। আশা করি এ গল্প একদিন অনেকগুণে আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে। সেদিন তোমার গল্প শুনব। 

খামটা বেশ চেনাচেনা লাগল আশিকের। দাদু এমন খামে ভরেই ঈদে বকশিশ দেয় আশিককে। 
অনেকটা তৃপ্তি নিয়ে দাদু বললেন, সবাই গল্প বলতে পারে না। গল্প লিখতেও পারে না। কিন্তু কেউ কেউ পল্পের নায়ক হয়। তবে যে গল্পে জীবনের কথা নেই সে গল্প কী কাজের? 
সবাই চুপ হয়ে বসে রইল।
দাদু চেয়ার ছেড়ে নিজের ঘরে চলে গেলেন। 
অনেকদিন পরে রহমানকে ভারমুক্ত মনে হলো আশিকের। 
তীক্ষè দৃষ্টি ফেলে দাদুর রুমের দিকে তাকিয়ে থাকে রহমান। বারবার রহমানের মনে হচ্ছে দাদু আবার ফিরে আসবে, হয়তো তাদের গল্প নিয়ে। যে গল্পটি দাদু কাউকে বলেনি। হ


ভাইয়ের ভালোবাসা
রুহানকে ভাইয়ের ভালোবাসা বোঝানোর জন্যই মামার এই কৌশল। এ কথা
বিস্তারিত
শরৎ সাজ
শরৎ সাজ পাই খুঁজে আজ শিউলি ফোটা ভোরে পল্লী গাঁয়ের মাঠে
বিস্তারিত
মশারাজ্যে
প্যাঁপো লাফাতে লাফাতে বলল, ‘আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম, আপনি বিদেশি
বিস্তারিত
আবার শরৎ এলো
নদীর ধারে শাদা ফুলের দোলা,
বিস্তারিত
জাতীয় কবি
ছোট্টবেলায় বাবা মারা যান অসহায় হন ‘দুখু’ সংসারে তার হাল ধরা
বিস্তারিত
বিদ্রোহী নজরুল
চুরুলিয়ার সেই ছেলে তুমি  কবিতার নজরুল, রণাঙ্গনের বীর সৈনিক প্রাণেরই বুলবুল। কেঁদেছো তুমি দুখীর
বিস্তারিত