ইংরেজি ভাষা শেখার উপায়

বাংলা আমাদের সবার প্রিয় মধুর মাতৃভাষা। বাংলা ভাষায়ই আমরা আমাদের মনের ভাব, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করি। তাই বাংলা ভাষার স্থান সবার উপরে। তবে আমাদের মায়ের ভাষা বাংলা আয়ত্ত করার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা জানারও প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি শেখারও প্রয়োজন আছে।
বর্তমানে ইংরেজি ছাড়া কোনোকিছু চিন্তাও করা যায় না। পড়াশোনা, ভালো চাকরিÑ সব জায়গায়ই ইংরেজিতে দক্ষ থাকা জরুরি। 
বিদেশে পড়তে যেতে প্রথম যে বিষয়টি আসে, তা হলো ভাষা। একটি দেশ থেকে অন্য আরেকটি দেশে গিয়ে পড়াশোনা করতে হলে সে দেশের ভাষায় পড়তে হয়, নয়তো আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজিতে পড়তে হয়। তাই ভাষা শেখা শুধু বাড়তি যোগ্যতাই নয়, অপরিহার্যও বলা যায়। বিদেশে পড়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হলে প্রথমে ভাষার প্রস্তুতিটা জরুরি। আর ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণের জন্য বাংলাদেশে দুইটি পরীক্ষা আইইএলটিএস ও টোফেল আছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তবে বিভিন্ন দেশের জন্য বিভিন্নটা লাগে। এই যেমন ধরুন, যে দেশে যেতে আইইএলটিএস লাগে, সে দেশে টোফেল লাগে না। 
তাছাড়া বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিতে ভালো চাকরি পেতে গেলে ভালো ইংরেজি বলতে পারার কোনো বিকল্প নেই। এমনও দেখা গেছে, সব ধরনের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধু ইংরেজিতে সাবলীলভাবে কথা না বলতে পারার জন্য অনেকেরই বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি হাতছাড়া হয়ে যায়। তাই ইংরেজি ভাষাটা শিক্ষাজীবন (শুরু) থেকেই ভালোভাবে আয়ত্ত করা জরুরি। শিক্ষার কোনো শেষ নেই। কথায় বলেÑ দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষাকাল। তরুণদের সময়কে কাজে লাগিয়ে সচেতন হয়ে ইংরেজি ভাষার প্রতি জোর দিতে হবে; ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবেÑ বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীরা, যারা দেশের বাইরে থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে চান।
আইইএলটিএস
আইইএলটিএস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। আইইএলটিএস হলো পরীক্ষার্থীর ইংরেজি ভাষাজ্ঞান যাচাইয়ের পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় চারটি অংশ থাকেÑ রিডিং, লিসেনিং, রাইটিং ও স্পিকিং। আইইএলটিএসে লিসেনিংয়ে কথোপকথন শুনে বোঝার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। সাধারণত ৪০টি প্রশ্ন থাকবে। কোনো বিষয়ে বক্তৃতা, কথোপকথন ইত্যাদি পরীক্ষার্থীদের বাজিয়ে শোনানো হয়। শোনা অংশ থেকেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। একটি বিষয় শুধু একবারই বাজিয়ে শোনানো হয়। রাইটিংয়ে পরীক্ষার্থীর ইংরেজি লেখার দক্ষতা যাচাই করা হয়। প্রথম প্রশ্নটিতে সাধারণত কোনো চার্ট, ডায়াগ্রাম থাকে। এ থেকে নিজের কথায় বিশ্লেষণধর্মী উত্তর লিখতে হয়। দ্বিতীয় প্রশ্নটিতে সাধারণত কোনো বিষয়ের পক্ষে-বিপক্ষে মত বা যুক্তি উপস্থাপন করতে হয়। সময় থাকে এক ঘণ্টা। 
রিডিং বিভাগেও ৪০টি প্রশ্ন থাকবে। সময় এক ঘণ্টা নির্ধারিত। নানা জার্নাল, বই, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন থেকে কিছু অংশ তুলে দেওয়া হবে। সেখান থেকেই বাক্য পূরণ, সংক্ষিপ্ত উত্তর, সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা ইত্যাদি থাকবে।
স্পিকিংয়ে তিনটি অংশে ১১ থেকে ১৪ মিনিটের পরীক্ষা হয়। প্রথম অংশে পরীক্ষার্থীকে কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হয়, যেমনÑ পরিবার, পড়াশোনা, কাজ, বন্ধু ইত্যাদি। দ্বিতীয় অংশে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ২ মিনিট কথা বলতে হয়। তৃতীয় অংশে ৪ থেকে ৫ মিনিটের কথোপকথন হয় পরীক্ষকের সঙ্গে।
আইইএলটিএসের ক্ষেত্রে একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং দুভাবে অনুষ্ঠিত হয়। স্নাতক, স্নাতকোত্তর অথবা পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য একাডেমিক মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়। ইমিগ্রেশনের জন্য সাধারণত জেনারেল ট্রেনিং মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়। প্রস্তুতির শুরুতেই আপনার লক্ষ্য ঠিক করে নিন। এজন্য প্রথমেই মক টেস্ট দিয়ে নিলে ভালো হয়। এতে বুঝতে পারবেন, আপনি লক্ষ্য থেকে কত দূরে আছেন। তারপর সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন। প্রতিদিন নিয়ম করে পড়াশোনা করুন। কত দিন ধরে প্রস্তুতি নেবেন, এটা আপনার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। এছাড়া স্পিকিংয়ের জন্য বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস করুন। এটাও বেশ কিছুদিন ধরে চর্চা করা উচিত। ক্যামব্রিজ থেকে প্রকাশিত আইইএলটিএস পরীক্ষার পুরানো প্রশ্নপত্রের বই কিনতে পাওয়া যায়। এগুলো সমাধান করুন।
আইইএলটিএস সম্পর্কে যে কোনো তথ্য পেতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং আইডিপি বাংলাদেশ। ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিতে প্রস্তুতির জন্য প্রচুর ভালো বই পাবেন। তবে এগুলো ব্যবহারের জন্য লাইব্রেরির সদস্য হতে হবে। বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপির আয়োজনে আইইএলটিএস পরীক্ষা দেওয়া যায়। প্রতি মাসেই নির্দিষ্ট তারিখে দুই বা তিনবার পরীক্ষা দেওয়া যায়। ওয়েবসাইটে অথবা ফোন করে পরীক্ষার তারিখ জেনে নিতে পারেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের আয়োজনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটে পরীক্ষা দেওয়া যায়। 
যোগাযোগ : ব্রিটিশ কাউন্সিল ঢাকা-০২৮৬১৮৯০৫, চট্টগ্রাম-০৩১৬৫৭৮৮৪-৬, সিলেট-৮২১৮১৪৯২৫। 
ওয়েবসাইট www.ielts.org, www.britishcouncil.org/bangladesh এবং আইডিপি বাংলাদেশwww.bangladesh.idp.com
টোফেল
প্রাতিষ্ঠানিক ইংরেজি বোঝার ক্ষমতা এ পরীক্ষার মাধ্যমে নেওয়া হয়। টোফেল পরীক্ষায় ফল ২ বছরের জন্য কার্যকর হয়। ২০০৫ সাল থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। মোট ৪ ঘণ্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় চারটি ভাগে। এর মধ্যে আছে রিডিং, লিসেনিং, রাইটিং ও স্পিকিং। রিডিংয়ে থাকে তিন থেকে পাঁচটি প্যাসেজ। শব্দ এবং বাক্য স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। লিসেনিংয়ের ক্ষেত্রে তথ্য আলোচনার ভেতরের চিন্তাধারা ও কথা বলার ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ছয়টি প্যাসেজ আসে, যেখানে দুইজন ছাত্রের কথোপকথনসহ কিছু আলোচনা থাকবে সেখানে। মাত্র একবার শোনার সুযোগ পাবে। এক্ষেত্রে পরীক্ষার সময় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। রাইটিংয়ে ৫৫ মিনিটের পরীক্ষা হয়। যে-কোনো বিষয়ের ওপর শুনে সেই বিষয়ে সারসংক্ষেপ লিখতে হবে। এছাড়া নিজস্ব মতামত দিয়ে রচনা লিখতে হবে। স্পিকিংয়ে ছয়টি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। না থেমে কথা বলার ক্ষমতা যাচাই করা হয় এ পরীক্ষায়।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত