একটা রঙিন স্বপ্ন

স্কুলের বিশাল মাঠ। মাঠে খেলার কথা ভাবতেই চঞ্চল হয়ে উঠছে তার মন। এক একটা দিন পার হচ্ছে, কাকুকির খুশি আরও বাড়ছে। তাকে কেউ দেখলে ভাববে, না জানি কোন সুখের দেশে যাচ্ছে সে। যদিও স্কুল খুবই আনন্দের জায়গা। জীবনের রঙিন অধ্যায় হচ্ছে স্কুলবেলা। যদি ভালো বন্ধু থাকে, তবে তো আরও আনন্দ। কাকুকি ভাবে, স্কুল একটা স্বপ্নের বাগান

জানুয়ারির ১১ কাকুকির জন্মদিন। এবার সে পাঁচ বছর পেরোবে। তার বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবার মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাবেন। তারা মনে করেন, এ বয়সে বাচ্চাকে যতটুকু শেখানোর, তা তারা করেছেন। যদিও জানার কোনো শেষ নেই। আর তা সব বয়সেই।
মানুষের প্রতি, দেশের প্রতি, ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধকে ভালোবাসা আর এসব নিয়ে মন থেকে ভাবতে শিখেছে কাকুকি। বড়দের সম্মান করার বিষয়টাও সে খেয়াল রাখার চেষ্টা করে। যদিও মাঝে মধ্যে ধন্যবাদ দেওয়া ও কুশল জিজ্ঞেস করতে ভুলে যায়। সময় সময় দুষ্টুমিও ভর করে তার মাথায়। আর তা জুজু আন্টিকে পেলে দারুণ রকম বেড়ে যায়। তবে তা খারাপ কিছু নয়।
কাকুকির বাবা-মা মনে করেন, কাকুকি এখন যা শিখবে, ভালোবেসে শিখবে। তাছাড়া সেদিনের ঘটনাটাও বাবা-মাকে দারুণ আনন্দ দেয়।
আম্মু সেদিন হঠাৎ কাকুকির রুমে ঢুকে অবাক! ঘরের ভেতর যেন একটা যুদ্ধ হয়ে গেছে। ঘরভর্তি খেলনার টুকরো টুকরো অংশ। সব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। একটা খেলনাও আর আস্ত নেই। 
কাকুকি খাটের এক কোনে গুটিসুটি হয়ে ঘুমিয়ে আছে। এসব করে হয়তো কিছুক্ষণ আগে ঘুমিয়েছে। আম্মু গিয়ে বাবাকে ডেকে আনেন। একটু আগেই অফিস থেকে ফিরেছেন বাবা। কী না কী হয়েছে ভেবে দ্রুত ছুটে আসেন। পাশের রুম থেকে কাকুও আসেন। অবাক না হয়ে পারে না কেউ! স্ক্রু ড্রাইভারটা ও পেল কোথায়Ñ প্রশ্ন করেন বাবা। আমিও তো সেটাই ভাবছিÑ বলেন আম্মু। স্ক্রু ড্রাইভারটা তো আমার টেবিলের ড্রয়ারে ছিল। সেদিন কাজ সেরে ড্রয়ারে রেখেছিলাম। কিন্তু ও কেমন করে পেল? অবাক হন ছোট কাকুও। আর কা-টা দেখেছ, সব খেলনা একটা একটা করে খুলেছে! ওর মাথায় এমন ভূত কেন চাপল? এমন তো আর আগে কখনও হয়নিÑ বিস্ময় নিয়ে বলেন বাবা।
যেই কৌতূহলী মেয়ে তোমার? এমন ভূত তো তোমার মেয়ের মাথায়ই চাপবে। তুমিই দেখো। আমি ওদিকটায় গেলাম। আম্মু চলে যান। কাকুও। 
বাবা একটা একটা করে খেলনা গোছান। একেকটা খেলনা একেক জায়গায় জমা করে রাখেন।
টুকটাক শব্দে ঘুম ভেঙে যায় কাকুকির। উঠে বিছানায় বসে। বাবাকে দেখে ভয় হয়। বাবা বুঝি তাকে বকবে। যদিও বাবা কখনোই তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন না। বকেন না। তবু ভয় হয় কাকুকির। ভাবে, হয়তো একটু বেশি অন্যায় করে ফেলেছে সে।
বাবা তার পাশ ঘেঁষে বসেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। একটু একটু করে ভয় কেটে যায় কাকুকির। এসব কী করেছে, মামণি? প্রশ্ন করেন বাবা।
সবকিছু দেখছিলাম। কেমন করে জিনিসগুলো তৈরি করেছে। কিন্তু ভেতরে না কিছুই নেই। ফাঁকা। আক্ষেপের সুরে বলে কাকুকি। সত্যিকারের প্লেনের মতো না। এটা উড়তেও পারে না।
সব দেখে কী করবে তুমি? আম্মু বলেছে, প্লেন নাকি বিজ্ঞানীরা তৈরি করেন। বাবা, আমি তো বিজ্ঞানী হব! তাই সব দেখছিলাম।
কাকুকির কথা শুনে বাবার দারুণ ভালো লাগে। নিচু হয়ে কাকুকির কপালে চুমু খান। বুকে জড়িয়ে ধরেন।
বাবার অমন আদর পেয়ে ভয় কেটে যায় কাকুকির। 
বাবা-মা ভাবেন, এখন স্কুলে গেলে তার স্বপ্নগুলো আরও বড় হবে। স্কুলে নানা কিছু দেখবে, শিখবে, জানবে। নিজে আর বন্ধুরা মিলে তা সত্যি করবে।
কাকুকি ও তার স্কুলের অনেকগুলো বন্ধু। যদিও তা এখনও হয়নি। তবে কে বলতে পারে স্কুলে তার অনেকগুলো বন্ধু হবে না? বরং বলাই যায়, তার অনেকগুলো বন্ধু হবে। কাকুকি সেসব বন্ধু আর স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে উতলা হয়ে আছে।
স্কুলের বিশাল মাঠ। মাঠে খেলার কথা ভাবতেই চঞ্চল হয়ে উঠছে তার মন। এক একটা দিন পার হচ্ছে, কাকুকির খুশি আরও বাড়ছে।
তাকে কেউ দেখলে ভাববে, না জানি কোন সুখের দেশে যাচ্ছে সে। যদিও স্কুল খুবই আনন্দের জায়গা। জীবনের রঙিন অধ্যায় হচ্ছে স্কুলবেলা। যদি ভালো বন্ধু থাকে, তবে তো আরও আনন্দ। কাকুকি ভাবে, স্কুল একটা স্বপ্নের বাগান। 
আর এখন সে প্রতিরাতেই একটা রঙিন স্বপ্ন দেখে এবং স্বপ্নটাকে নিয়ে ভাবতেই বেশি ভালোবাসে। দেখে, স্কুলমাঠে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে ছাত্রছাত্রীরা। দখিনা বাতাস বইছে। উপরে হালকা হাওয়ায় পতপত করে উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা। ক্লাসের বন্ধু আর শিক্ষকদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বুকে হাত রেখে পরম আনন্দে সে গাইছেÑ ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...’। 


বন্ধু
আবুল বলল, ‘আমাগো ভুল বুইঝ না ভাই। আমরা আসলে...’, ‘তোরা
বিস্তারিত
হেমন্ত দিন
হেমন্ত দিন হরেক রঙিন হরেক রঙের খেলা বনে বনে ফুল-পাখিদের
বিস্তারিত
এলিয়েন এসেছিল
হামীম বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল। বললÑ কে তুমি? -হ্যাঁ আমি
বিস্তারিত
হেমন্ত এসেছে
মাঠে মাঠে সোনা ধানে প্রাণটা ফিরে পেল সেদ্ধ চালের গন্ধ
বিস্তারিত
বাংলা মায়ের সবুজ প্রাণ
ইস্টি কুটুম মিষ্টি পাখির দুষ্ট ছানা আকাশ নীলে মেলছে খুশির নরম
বিস্তারিত
হেমন্তের নেমন্ত
ধানের ছড়ায় ঝুলছে সোনা আসলো ঋতু হেমন্ত শিশির কণা চিঠি
বিস্তারিত