মেয়েদের পছন্দের তালিকায় অনলাইন বিজনেস

ব্যবসার প্রচলন চলে এসেছে সেই আদিমকাল থেকেই। বর্তমানে ব্যবসা আরও বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে অপেক্ষাকৃত নতুন এক মাধ্যমে। সেই মাধ্যমের নাম অনলাইন বিজনেস। এই বিজনেসের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হচ্ছে রাস্তার জ্যাম, শপিংমলের ভিড় এবং সময়ের অপচয় এড়িয়ে পছন্দের সামগ্রী ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিক্রেতারা যেমন বেশিরভাগ সময় ঘরে বসেই ব্যবসার কাজ পরিচালনা করতে পারেন, ক্রেতারাও তেমন পণ্য কেনেন ঘরে বসেই। ব্যাপারটা কিছুটা উইন-উইন গেমসের মতো, যেখানে উভয় পক্ষই লাভবান। 
অনলাইন বিজনেস কেন পছন্দ 

মারুফা তাসনীম। পড়ালেখা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অনলাইন বিজনেস। ‘মম্’স হ্যাভেন’ নামে তার একটি গ্রুপ রয়েছে, যেখানে তিনি মেয়েদের জামাকাপড়, শাড়ি থেকে শুরু করে মেটালের গহনা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিক, বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও খেলনা বিক্রি করে থাকেন। 
পেশা হিসেবে কেন অনলাইনভিত্তিক বিজনেস বেছে নিয়েছেনÑ জানতে চাইলে বলেন, তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন, যেখানে পরিবার ও সন্তানকে যথেষ্ট সময় দেওয়ার পাশাপাশি যাতে বাড়তি আয় করাও সম্ভব হয়। অনলাইন বিজনেসে বিভিন্ন দ্রব্যের অর্ডার নেওয়া ও সেগুলো ডেলিভারির ব্যবস্থা করতে পারেন ঘরে বসেই। এভাবে ব্যবসা ও পরিবার পরিচালনা করছেন একই সঙ্গে। দেশীয় পণ্য ছাড়াও কিছু পণ্য নিয়ে আসেন যুক্তরাজ্য, ভারত এবং চীন থেকে। মানসম্মত পণ্য সরবরাহের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ক্রেতাদের আস্থা জয় করে নিয়েছেন তিনি। নিজস্ব ডিজাইনের কিছু পোশাকও পেয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা। বেড়েছে ব্যবসার প্রসারও। সম্প্রতি পেয়েছেন ট্রেড লাইসেন্স। ‘চাকরি নেব না চাকরি দেব’Ñ কথাটি মূলমন্ত্র হিসেবে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন সামনের দিকে। বর্তমানে চারজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। আশা রাখেন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ব্যবসাকে এগিয়ে নেওয়ার। 
অনলাইন বিজনেসের শুরুতে
মিলি মৌসুমির নতুন একটি গ্রুপ ‘ক্যাম্পাস বিউটি’। কীভাবে শুরু করেছেনÑ প্রশ্ন করলে জানান, লেখাপড়া যখন শেষের দিকে, তখন চাকরির চেষ্টার পাশাপাশি ভালোলাগা থেকে শুরু করেন অনলাইন বিজনেস। ইমপোর্টেড বিউটি প্রোডাক্টস নিয়ে কাজ করছেন তিনি। প্রচারেই প্রসারÑ ভাবনাটি মাথায় রেখে একদম শুরুতে অন্য গ্রুপগুলোর মতো আয়োজন করেছেন মেম্বার অ্যাড কনটেস্ট। এতে শুরুর দিকে প্রচারের কাজটি হয়ে যায় সহজেই। এছাড়াও ভালোমানের প্রসাধনী সীমিত লাভে বিক্রি করছেন তিনি। এভাবেই একটু একটু করে এগোচ্ছে। ভবিষ্যতে চাকরির পাশাপাশি বিজনেসটা চালিয়ে যেতে চান সমানভাবে। 

উপস্থাপনায় নতুনত্ব 
এক ভিন্ন আমেজ পাওয়া যায় ‘মি-মো’স ওয়ার্ল্ড’ গ্রুপটিতে। সুমাইয়া সাদ মিম ও দিলরুবা মোহনার যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে গ্রুপটি। মিমের মি এবং মোহনার মোÑ এই নিয়ে গ্রুপের নাম মি-মো’স ওয়ার্ল্ড। হাতের কাজের জামা নিয়ে তাদের অনলাইন বিজনেসের শুরু। অসাধারণ কাজ, ভালোমানের কাপড়, আর চমৎকার সব রঙয়ের মেলবন্ধনে তৈরি একেকটা জামা কেনার জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নামেন ক্রেতারা। সুন্দর ছবি আর প্রাঞ্জল বর্ণনায় এক ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে এই গ্রুপে। 
তাদের বিজনেস সম্পর্কে জানতে চাইলে দিলরুবা মোহনা জানান, শুরুর দিকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে জামালপুরে গিয়ে জামা নিয়ে আসতেন বান্ধবী সুমাইয়া সাদ মিম। দিলরুবা মোহনার মা এই কাজের জন্য নানা জায়গায় ঘুরেছেন। 
গড়ে তুলেছেন বেশকিছু কর্মী। এছাড়াও তার কাজিন শাম্মী ও পাপড়ি আপু এই কাজে সহযোগিতা করেছেন অনেক। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এভাবে সবার পরিশ্রম, কর্মীদের ঘাম-ঝরানো কাজ আর জামার প্রতি গ্রুপের সবার তুমুল আগ্রহের বিনিময়ে গড়ে উঠেছে বিজনেসটি। সবার দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে এভাবেই তারা এগিয়ে যেতে চান সামনের দিকে। 
পরিচালনা
বাচ্চাদের ঘরে তৈরি খাবার নিয়ে কাজ করছেন ফারজানা এলিজা। মূলত কর্মজীবী মায়েদের সময়স্বল্পতার কথা মাথায় রেখে এই প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করা, যাতে ব্যস্ত মায়েরাও সন্তানদের পুষ্টিসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে পারেন। কীভাবে পরিচালনা করছেনÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুজি, খিচুড়ি মিক্স, সেরেলাক, সেমাই-ফিরনি, গাওয়া ঘিসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার নিজেই তৈরি করেন বাচ্চাদের জন্য। ইমপোর্টেড ফুড আনেন তার মামার মাধ্যমে। এছাড়াও তার হাজব্যান্ড বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে সহযোগিতা করে থাকেন। ‘ফারজানা এলিজা-হোমমেড বেবিফুড প্রোডাক্টস’ নামে তার একটি গ্রুপ ও পেজ আছে, যার মাধ্যমে বিজনেসের কাজ করে থাকেন। এভাবে নিজস্ব উদ্যম ও পরিবার-পরিজনের সহযোগিতা ব্যবসা পরিচালনার মতো কাজকেও সহজ করে তুলতে পারে। 
সুবিধা ও অসুবিধা
যারা পরিবারকে যথেষ্ট সময় দিয়ে নিজেও কিছু একটা করতে চান, অনলাইন বিজনেস তাদের জন্য অন্যতম পছন্দের পেশা হতে পারে। ক্রেতারা আজকাল সময়স্বল্পতার কারণে এবং যানজটের ঝামেলা এড়াতে বেশিরভাগ সময় বেছে নিচ্ছেন অনলাইন শপিং। তাই স্বল্প পুঁজিতেও বেশ লাভজনক এই পেশাটি। অন্যদিকে ইন্টারনেট আর ফেইসবুকিংয়ের যুগে খুব সহজেই পণ্যের বর্ণনা পৌঁছে যাচ্ছে গ্রাহকের কাছে। এতে ব্যবসার প্রচারও হয়ে যাচ্ছে খুব সহজেই।
অসুবিধার বিষয়টি বেশিরভাগ দেখা যায় পণ্য ডেলিভারিতে। বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে গেলে কিংবা যানজট-হরতাল-বিক্ষোভের কারণে অনেক সময় ডেলিভারিতে বিলম্ব হয়। এছাড়াও কখনও কখনও পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠান, অসুস্থতা বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে সময়মতো গ্রুপে আপডেট দেওয়া, ক্রেতাদের মেসেজের রিপ্লাই দেওয়া ও ডেলিভারিম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। এতে ব্যবসার কাজ কিছুটা বিঘিœত হয়। 
ভালো-মন্দ সব মিলিয়ে অনলাইন বিজনেস বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় একটি পেশা। ঘরে বসেই ব্যবসার কাজ পরিচালনা করা যায় বলে মেয়েরা এতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের পণ্য নতুন নতুন উপস্থাপনায় চাহিদার বাজারে এনেছে আমূল পরিবর্তন। তার সঙ্গে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে সমাজের একটি বড় অংশ।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত