স্বপ্নগুলো ফলবতী হোক

বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব। বাংলা শুভ নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বাংলা সনের প্রথম দিন। এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন উৎসব। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুভ নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সঙ্গে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই বর্ষবরণ উৎসবে অংশ নেয়। বিশ্বের সব প্রান্তের সকল বাঙালি এই দিনটিতে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়, নতুন বছরকে স্বাগত জানায়; ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করে অতীতের সব ব্যথাবেদনা, দুঃখ-গ্লানি। সবার প্রত্যাশা থাকে, নতুন বছরটি সমৃদ্ধ, আনন্দময় ও সুখময় হবে। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা একে নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে বরণ করে নেয়।

 নতুন স্বপ্ন, নতুন সুখ, নতুন কিছুর প্রাপ্তির প্রত্যাশায় মেতে ওঠে বিশ্বের সব বাঙালি। চোখে স্বপ্ন, মনে আশা পুরানো জরাজীর্ণ বদলের, নতুন কিছু পাওয়ার দুর্নিবার আকাক্সক্ষাÑ যেন কুয়াশাভরা তিমির শেষে নতুন সূর্যোদয় বদলে দেবে অনেক কিছু। দুঃখ-ক্লেশ, অপ্রাপ্তি-অপূর্ণতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, হানাহানি সব দূর হবে; শান্তির সুবাতাস বয়ে যাবে সবকিছুতে, সবখানে। সব স্বপ্ন সত্যি হয়ে ধরা দেবে। নতুনের আগমন জীবনকে আরও বেশি গতিময়-ছন্দময় করে তুলবে; করবে আরও বেগবান, বর্ণিল। আগামীর নতুন সূর্য বদলে দেবে জীবনের সংজ্ঞা; বদলে যাবে চিন্তা, মনন, তরুণদের প্রতিভার শুভ বিকাশ ঘটবে। স্বপ্নগুলো হবে ফলবতী।

বাংলা নতুন বছর বরণ করে নিতে চলছে নানা আয়োজন ও প্রস্তুতি। ঘড়ির কাঁটা টিক টিক করে ১২টার ঘরে পৌঁছতে না পৌঁছতে চারিদিকে জ্বলে উঠবে নানা রঙের আতশবাজি, ঠাস-ঠুস শব্দ, উচ্ছ্বাস-কোলাহলে চারদিক মুখর হবে।

৩০ চৈত্র, ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাত সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ১৪২৪ সনের শেষ দিন সমাপ্ত হবে। দেখতে দেখতে আরও একটি বছর শেষ হয়ে গেল। শুক্রবার সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে শুভসূচনা হবে বাংলা নতুন বছর ১৪২৫ সনের। বছরের শেষ সূর্য কালের গহ্বরে হারিয়ে যাবে। আগামীর নব সূর্যোদয় হাজির হবে তরুণদের জন্য, সবার জন্য শান্তির শুভ বার্তা নিয়ে। 

নতুন বছর নতুন দিনগুলো নিয়ে আমরা অনেক চিন্তাভাবনা করি। ভাবি, এ বছর কী কী নতুনত্ব আসবে আমাদের সবার জীবনে ইত্যাদি। সময়ের হাত ধরে এগিয়ে চলে মানুষ, পৃথিবী, সভ্যতা, সমাজ, সবকিছু। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলেই জীবন ব্যর্থতার গ্লানিতে পর্যবেসিত হয়। প্রবাদ আছেÑ সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। দুর্দান্ত প্রতাপে সময় চলে তার নিজস্ব গতিতে। তাই সময়ের মূল্য এত বেশি।
মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও এর গৌরব চিরস্থায়ী। মানুষের জীবন সমুদ্রের বুদবুদের মতোই অকিঞ্চিৎকর। কিন্তু শিক্ষা ভা-ার বিশাল ও অফুরন্ত। কর্মজগতের পরিধি ক্রমবর্ধমান। তাই তরুণদের আরও বেশি সচেতনভাবে নতুন বছরের শুরু থেকেই সময়কে কাজে লাগাতে হবে। মানুষ যদি তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগায়, তাহলে একজনের শতবর্ষব্যাপী, আরেকজনের মাত্র কয়েকটি বছরেই জীবন মহোত্তর ওঠে। তাই সবার (বিশেষ করে তরুণদের) উচিত, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিংবা পাল্লা দিয়ে সময়ের সদ্ব্যবহার করা।
সময়ের কাজ সময়ে শেষ করা অবশ্যই প্রয়োজন। আজকের কাজ আগামী দিনের জন্য ফেলে রাখা উচিত নয়। কারণ গতিই জীবন। আমরা যদি অলসের বশবর্তী হয়ে বৃথা সময় নষ্ট করি, তাহলে মৃত্যুতেই তার পরিসমাপ্তি ঘটবে। তাই সময়ের ডাকে সারা দিয়ে জীবনের নানা বাধাবিঘœ উপেক্ষা করে, প্রতিবন্ধকতাকে অগ্রাহ্য করে, জীবনের নানা দুর্বিপাক ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এটাই মানুষের ধর্ম, সময়ের দাবি।

মানবজীবন ঘটনাবহুল। ইটের ওপর ইট সাজিয়ে যেমন তৈরি করা হয় সুন্দর অট্টালিকা, তেমনি মানুষের জীবনও নানা ঘটনার সমাহারে সজ্জিত। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না, মিলন-বিরহ, প্রাপ্তির সুখ, অপ্রাপ্তির ক্ষোভ, স্বপ্ন অপূর্ণতার যন্ত্রণা, আশাভঙ্গের কষ্ট, ছোট-বড় সুখ-দুঃখ মিলেই আমাদের জীবন। ভাঙা-গড়ার খেলায় দোলায়িত আমাদের জীবন। যা পাইনি তার জন্য আক্ষেপ নয়, যা পেয়েছি তা নিয়েই দৃঢ়প্রত্যয়ী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। নিজের সুখের কথা সব সময় না ভেবে অন্যের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভাবতে হবে। তাহলে মানসিক শান্তি আসবে। আমাদের (তরুণদের) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভুল অনেক সময় বৃহৎ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই সতর্কতার সঙ্গে খারাপ অভ্যাসগুলো বর্জন করে ভালো দিকগুলো ধরে রাখতে হবে, যাতে নতুন বছরের আগামী দিনগুলো নির্ভুল আনন্দের হয়। নতুন বছরে আমাদের বিগত বছরের সব ভুল যেন মুছে যায়, অস্থিরতা দূর হয়ে দেশে ও সবার মনে শান্তি ফিরে আসে।
বাংলা ১৪২৪ সন কিছু সুখের, কিছু দুঃখের, কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে বিদায় নিচ্ছে। ১৪২৫ সন সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে বলে আমরা আশাবাদী। আগামী নতুন দিনগুলো যেন সুখময় হয়। স্বাগত জানাই নতুন বছরকে, পুরানো দিনের দুঃখ-ব্যথা, না পাওয়ার বঞ্চনা, সব অতৃপ্তিতা মুছে দেবে; প্রাপ্তির সুখে ও স্বপ্ন পূর্ণতার আনন্দে আমাদের চারপাশ ভরিয়ে দেবে; আমাদের দেশকে সুখী ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেÑ এই প্রত্যাশা রইল। তরুণদের পথচলা হোক মসৃণ, আরও বেগবান। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।


ক্যারিয়ার গঠনে পরামর্শ
প্রতি বছর কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির নতুন ডিগ্রিধারীরা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির
বিস্তারিত
‘তথ্যে তারুণ্যে নিত্য সত্যে’ প্রতিপাদ্য
‘তথ্যে তারুণ্যে নিত্য সত্যে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১৯ সেপ্টেম্বর
বিস্তারিত
জাবির ২৫ শিক্ষার্থী জাপানে চাকরি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৫ শিক্ষার্থীকে
বিস্তারিত
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘টিআইবি-ডিআইইউ ইয়েস
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ
বিস্তারিত
চট্টগ্রামে ১০ দিনব্যাপী রবি-দৃষ্টির বিতর্ক
চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি অডিটরিয়ামে রবি-দৃষ্টির আয়োজনে ১০ দিনব্যাপী বিতর্ক প্রতিযোগিতা
বিস্তারিত
ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন সেমিস্টারের নবীনবরণ
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়
বিস্তারিত