দৃষ্টিনন্দন শংকরপাশা শাহি মসজিদ

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রবেশ করা যায় উচাইল গ্রামে। গ্রামটি রাজিউড়া ইউনিয়নে অবস্থিত। পাখির কলতান আর সবুজে ঢাকা গ্রামের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে অনন্য স্থাপত্যশৈলী একটি প্রাচীন মসজিদ। সুলতানি আমলের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদটির নাম ‘শংকরপাশা শাহি মসজিদ’। স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামেও পরিচিত। 
বিশিষ্ট গবেষক ও ইতিহাসবিদ মো. মোশারফ হোসেন শাহজাহানের রেখে যাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, মসজিদটি নির্মাণ করেন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মজলিশ আমিন। উৎকীর্ণ শিলালিপিতে মসজিদের নির্মাণকাল ১৫১৩ সাল। এ হিসাবে ৫০০ বছরের ওপরে এর বয়সকাল। মসজিদের পাশে হজরত মজলিশ আমিন (রহ.) এর মাজার রয়েছে। মসজিদ ও মাজারকে কেন্দ্র করে ধর্মপ্রাণ মানুষের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে সেখানে। মসজিদটি পার্শ্ববর্তী কয়েক জেলার মানুষের জন্য পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। বিভিন্ন ছুটিতে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে বেড়াতে আসে। 
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, সুলতানি ও মুঘল আমলে বাংলাদেশে বহু মসজিদ নির্মিত হয়। ব্রিটিশ আমলে পৃষ্ঠপোষকতাহীনতার অভাবে সেসব মসজিদ সংস্কারহীন হয়ে পড়ে। ইংরেজদের অত্যাচারের শিকার হয় মুসলমানরা। এক সময় ওই মসজিদ সংলগ্ন এলাকা বিরান ভূমিতে পরিণত হয়ে জঙ্গল বেষ্টিত হয়ে পড়ে। কালের পরিক্রমায় মুসলমানদের জাগরণকালে এলাকাগুলোতে নতুন করে বসবাস শুরু হয়। জঙ্গলগুলো আবাদ করতে গিয়ে বের হয়ে আসে অনেক পুরানো মসজিদ। সে সময় উচাইল গ্রামের এ মসজিদটি জনসম্মুখ এলে লোকজন এটিকে ‘গায়েবি মসজিদ’ বলে প্রচার করতে থাকে। 
মসজিদটি একচালা ভবন। ভবনটি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই মাপের, যা ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি। এর সম্মুখের বারান্দাটির প্রস্থ তিন ফুটের সামান্য বেশি। এতে চারটি গম্বুজ রয়েছে। মূল ভবনের ওপর একটি বিশাল গম্বুজ ও বারান্দার ওপর রয়েছে তিনটি ছোট গম্বুজ। মসজিদে মোট ১৫টি দরজা ও জানালা রয়েছে, যা পরস্পর সমান আকৃতির প্রায়। পূর্ব-উত্তর-দক্ষিণ এই তিন দিকের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় পাঁচ ফুট এবং পশ্চিমেরটি প্রায় দশ ফুট। এতে মোট ছয়টি কারুকার্য শোভিত স্তম্ভ আছে প্রধান কক্ষের চারকোণে ও বারান্দার দুই কোণে। উপরের ছাদ আর প্রধান প্রাচীরের কার্নিশ বাঁকানোভাবে নির্মিত। মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে একটি বড় দিঘি রয়েছে। মসজিদের ভেতর ও বাইরের দেয়াল নিখুঁত কারুকার্যখচিত, যা বর্তমান সময়ে বিরল। 
বর্তমানে এলাকাবাসী আশপাশের ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার করে চারপাশে বাহারি পাতাবাহার গাছ লাগিয়েছে। প্রতিদিন এখানে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এসে মসজিদটি দেখে যান। এ ছাড়া শহরের আদলে এখানে মুসল্লিদের জন্য ওজুখানার ব্যবস্থা রয়েছে। মসজিদ দেখতে আসা পর্যটকদের অভিযোগ, মসজিদের গা-ঘেঁষে লাগানো বারান্দার জন্য এর সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। তাছাড়া মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণের বড় অভাব দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, সুলতানি আমলের এ মসজিদটিকে সংস্কার করা প্রয়োজন। তা না হলে ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিনন্দন এই মুসলিম স্থাপনা হারিয়ে যেতে পারে কালের আবর্তে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, হবিগঞ্জের শংকরপাশা শাহি মসজিদ স্থাপত্যশিল্পের অন্যতম নিদর্শন। এটি হবিগঞ্জ জেলার উচাইল গ্রামে অবস্থিত। চমৎকার নির্মাণশৈলীর মসজিদটি নির্মাণ শুরু করেন শাহ মজলিশ আমিন (রহ.)। তিনিই প্রথম মসজিদ স্থাপন করেন এখানে। পরবর্তী সময়ে এই মসজিদের সুদৃশ্য ইমারত বা ভবন নির্মাণ করা হয় বাংলার স্বনামধন্য শাসনকর্তা সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে। মসজিদটি কালের সাক্ষী। সরকারিভাবে এর রক্ষণাবেক্ষেণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 


সর্বদা আল্লাহর পর্যবেক্ষণের কথা মনে
পূর্বসূরি এক বুজুর্গকে বলা হয়েছিল, দৃষ্টি অবনত রাখতে আমি কীসের
বিস্তারিত
কোরআনে বর্ণিত নবী-রাসুলদের দোয়া
কোরআন ও হাদিসে অনেক নবির দোয়া বর্ণিত হয়েছে। দোয়াগুলো অত্যন্ত
বিস্তারিত
আশুরা ও কারবালা
মহরম মাসের দশ তারিখ আশুরা দিবস হিসেবে সুপরিচিত। এ দিনে
বিস্তারিত
আশুরার আমল কী ও কেন
আগামীকাল শুক্রবার আশুরা। শুক্রবার ও আজ বৃহস্পতিবার আশুরার সুন্নত রোজা।
বিস্তারিত
আশুরা ও কারবালার চেতনা
আশুরার দিন তিনি সেনাপতির মতো শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যূহ রচনা করেন।
বিস্তারিত
মেঘ নেমেছে কাশবনে
মুগ্ধ হয়ে দেখি শরতের মনকাড়া এসব রূপের বাহার। আশ্চর্য হয়ে
বিস্তারিত