ইসলামি সভ্যতার বিশ্বজনীনতা


ইসলামি সভ্যতা মানবিক কল্যাণপ্রবণ। বিস্তৃতি ও ব্যাপকতায় বিশ্বজনীন। কোনো ভৌগোলিক অঞ্চল, কোনো মানবগোষ্ঠী বা ইতিহাসের কোনো পর্যায়ের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামি সভ্যতা সব জাতি ও মানবগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তার ফল ও প্রভাব সব এলাকা ও সব ভূখ-ের প্রতি বিস্তৃত। এই সভ্যতার ছায়ায় সব মানুষ প্রশান্তি পেয়েছে
 

প্রত্যেক সভ্যতার অনন্য, স্বতন্ত্র ও পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিকে মহিমান্বিত করে তোলা গ্রিক সভ্যতার অনন্য বৈশিষ্ট্য। দোর্দ- প্রতাপ ও ক্ষমতার বিস্তার রোমান সভ্যতার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। পারসিক সভ্যতার বিশেষ চরিত্র ছিল শারীরিক উপভোগ, সমরশক্তি ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব। ভারতীয় সভ্যতা আধ্যাত্মিক শক্তিতে স্বাতন্ত্র্যের অধিকারী ছিল। ইসলামি সভ্যতারও রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য, স্বকীয় চরিত্র ও স্বতন্ত্র গুণাবলি, যা একে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সভ্যতাগুলোর মধ্যে বিশিষ্ট ও অসামান্য করে তুলেছে। ইসলামি সভ্যতার ভিত্তি হলো আসমানি পয়গাম, অর্থাৎ ইসলামের মিশন। এই পয়গাম ও মিশন মানবিক, সর্বজনীন এবং বিশ্বাসের ক্ষেত্রে নির্ভেজাল একত্ববাদের অনুসারী। ইসলামি সভ্যতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তার ব্যাপক বিস্তৃতি ও তার মিশনের বিশ্বজনীনতা। পবিত্র কোরআন কর্তৃক মানবশ্রেণির একত্ব ও ঐক্য ঘোষণার মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেনÑ ‘আল্লাহপাক বলেন, ‘হে লোকসকল, আমি তোমাদের নারী ও পুরুষে বিভক্ত করে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে ভাগ করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর চিনতে পার। তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে পরহেজগার সেই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত।’ (সূরা হুজুরাত : ১৩)।
ইসলামি সভ্যতা মানবিক কল্যাণপ্রবণ। বিস্তৃতি ও ব্যাপকতায় বিশ্বজনীন। কোনো ভৌগোলিক অঞ্চল, কোনো মানবগোষ্ঠী বা ইতিহাসের কোনো পর্যায়ের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামি সভ্যতা সব জাতি ও মানবগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তার ফল ও প্রভাব সব এলাকা ও সব ভূখ-ের প্রতি বিস্তৃত। এই সভ্যতার ছায়ায় সব মানুষ প্রশান্তি পেয়েছে; যেখানেই এই সভ্যতার অবদান পৌঁছেছে সেখানকার মানুষ তার ঊষ্ণতা উপভোগ করেছে। তার কারণ, ইসলামি সভ্যতার ভিত্তি এই নীতিÑ আল্লাহ তায়ালার সব সৃষ্টির মধ্যে মানুষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত; বিশ্বজগতে যা কিছু আছে সবকিছু মানুষের বশীভূত; সব মানবিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা তার সুখ, সৌভাগ্য ও স্বস্তি বিধানের জন্য। যেসব কর্মকা-ের উদ্দেশ্য এই পরিণতিকে নিশ্চিত করা তাই প্রথম পর্যায়ের মানবিক কাজ। 
বিশ্বজনীনতার নীতি সব মানুষের মধ্যে সত্য, কল্যাণ, ন্যায়পরায়ণতা ও সমতার মূল্যবোধ দৃঢ়মূল করে। তাদের বর্ণ, গোত্র, শ্রেণি, স্তর এখানে ধর্তব্য নয়। জাতিগত কৌলীন্য বা উপাদানগত আভিজাত্যের ধারণার প্রতি কোনো বিশ্বাসও নেই। মুহাম্মদ (সা.) এর নবুয়ত ও রিসালাত পৃথিবীর সব মানুষের জন্য রহমত। আল্লাহ তায়ালা তার রাসুলকে সম্বোধন করে বলেছেনÑ ‘আমি আপনাকে জগৎবাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া : ১০৭)। আল্লাহ তায়ালা আরেক আয়াতে বলেন, ‘আমি আপনাকে সব মানুষের উদ্দেশে প্রেরণ করেছি।’ (সূরা সাবা : ২৮)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর হাদিসগুলো ও তার অবস্থান ছিল কোরআনের এই চিন্তাধারার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ ও অনুকূল। জাবের বিন আবদুল্লাহ আল-আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘আমাকে তিনটি জিনিস দেওয়া হয়েছে যা আমার আগে আর কাউকে দেওয়া হয়নি। প্রত্যেক নবী এককভাবে তার কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছে আর আমি লাল ও কালো সব মানুষের প্রতি প্রেরিত হয়েছে।’ (বোখারি : হাদিস ৩২৮)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এর জীবন ও কর্মরাশি ছিল নবুয়ত ও রিসালাতের বিশ্বজনীনতার মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি তার সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেছেন, ‘নেতা কখনও তার পরিবারের সঙ্গে মিথ্যা বলেন না। আল্লাহর কসম, আমি যদি সব মানুষের সঙ্গে মিথ্যা বলি, তারপরও তোমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলব না। যদি আমি মানুষদের ধোঁকা দিই, তোমাদের ধোঁকা দেব না। আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসুল বিশেষভাবে তোমাদের প্রতি এবং সমগ্র মানবের প্রতি।’ (আলি বিন বুরহান উদ্দিন হালবি, আস-সিরাতুল হালবিয়্যাহ, ২য় খ-, পৃষ্ঠা ১১৪; সালেহি, সুবুলু হুদা ওয়ার রাশাদ, ২য় খ-, পৃষ্ঠা ৩২২)।
রাসুলে আকরাম (সা.) যেদিন দাওয়াতের মিশন শুরু করেছিলেন সেদিনই তার বিশ্বজনীনতার মূলনীতি ঘোষণা করেছিলেন। 
একইভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) রোমের কায়সার, পারস্যের কিসরা, মিশরের সম্রাট মুকাওকি ও হাবশার বাদশা নাজ্জাশির কাছে পত্র প্রেরণ করেছিলেন। পারস্য সম্রাট কিসরার (খসরু পারভেজের) কাছে প্রেরিত চিঠিÑ ‘পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে পারস্য সম্রাট কিসরার (খসরু পারভেজের) নামে। সালাম তার ওপর যে সত্যের অনুসারী এবং আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছে এবং সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তার বান্দা ও আল্লাহর রাসুল। আমি তোমাকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান জানাই। আমি সমগ্র মানবজাতির প্রতি আল্লাহর রাসুল, যারা জীবিত আছে তাদের সতর্ক করার জন্য। কাফেরদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ইসলাম গ্রহণ করো (সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে), নিরাপদ থাকবে। আর যদি তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তোমাকে অগ্নিপূজক জাতির পাপ বহন করতে হবে।’ (মুত্তাকি আল-হিন্দি, কানজুল উম্মাল : হাদিস ১১৩০২)।
এটাই ইসলামি সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্য ইসলামি সভ্যতাকে অন্যান্য সভ্যতার মাঝে স্বতন্ত্র অবস্থান ও বিশেষ মর্যাদা দান করেছে। সত্যসত্যই তা হয়ে উঠেছে বিশ্বজনীন শ্রেষ্ঠ সভ্যতা।


মাদকের বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোরতা
‘হে ঈমানদাররা! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং তির দ্বারা ভাগ্য
বিস্তারিত
হজ তথ্য কর্নার
ষ নিজের দায়িত্বের আধীন সব হাজির ফোন নম্বরসহ ঠিকানা সংগ্রহ
বিস্তারিত
বাইতুল্লাহর পথিকদের সমীপে
শুরু হলো পবিত্র হজের মৌসুম। প্রতি বছরের মতো এ বছরও
বিস্তারিত
ফজরের কাজা নামাজ আদায়
প্রশ্ন : ফজরের নামাজ কাজা হলে তা কখন আদায় করতে
বিস্তারিত
হজ থেকে মানুষ নিষ্পাপ হয়ে
হজ ইসলামি সমাজব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। এটা শারীরিক ও আর্থিক ইবাদতের
বিস্তারিত
হজ তথ্য কর্নার
মদিনায় গমন ও করণীয়   ষ পুরুষ হজযাত্রীদের জন্য কমপক্ষে ১ সেট
বিস্তারিত