অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে হলে...

আধুনিক বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর। বিজ্ঞানের বিস্ময়কর সাফল্য মানুষের জীবনযাত্রাকে করছে সহজ থেকে সহজতর। উন্নত বিশ্বও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবকিছু ইন্টারনেটনির্ভর হয়ে পড়ছে। ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রও তার বাইরে নয়। বর্তমানে ক্যারিয়ারের জন্যও ইন্টারনেটের দ্বারস্থ হচ্ছে এ প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা। চাকরি খোঁজা থেকে শুরু করে পদোন্নতি, নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি, নিজের মেধা ও প্রতিভা প্রকাশ করার সব কাজই এখন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়। কাজেই এখন আপনার সুন্দর ও উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে অন্যতম প্রধান মাধ্যম অনলাইনের সহযোগিতা। সঠিকভাবে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইন্টারনেটের সাহায্যে আপনি পৌঁছে যেতে পারেন কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে। এটাই আপনার ক্যারিয়ারের জন্য হতে পারে লাকি চান্স। এ বিষয়টি নিয়ে লিখেছেনÑ তনিমা রহমান।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সচেতন ও দক্ষ হয়ে উঠেছে সবাই। এখন তরুণরা অনেক আগে থেকেই ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন। 
বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এখানে জনসংখ্যার তুলনায় কাজের সুযোগ অপ্রতুল। একটা সময় পর্যন্ত পরিস্থিতিটা এমন ছিল যে, আপনি ভালো বা মোটামুটি ভালো কোনো বিষয় নিয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাস করলেই চাকরির সুযোগ ছিল উন্মুক্ত। অনার্স-মাস্টার্স করা কেউ চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না, এমন চিত্র আগে তেমন একটা দেখা যেত না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশ জনসংখ্যার ভারে যেমন ন্যুব্জ হয়েছে, তেমনি কমতে শুরু করেছে চাকরির সুযোগ। এখন অনার্স-মাস্টার্স করা তরুণরাও চাকরি খুঁজে না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন। এমন উদাহরণের শেষ নেই।
এসব কারণেই সচেতন তরুণরা পড়ালেখা করা অবস্থায়ই চাকরি নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন। আবার অন্যদিকে ক্যারিয়ারের ক্ষেত্র কিংবা ক্যারিয়ার গড়ে তোলার ধাপগুলোয়ও পরিবর্তন এসেছে। একটা সময় চাকরির জন্য ওই দৈনিক সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনই ছিল ভরসা। এখন আর সেই সময় নেই। এখন চাকরির খোঁজে মানুষ সবার আগে ঢুঁ মারে অনলাইন জব পোর্টালগুলোয়। শুধু তা-ই নয়, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের রমরমা এই সময়ে আপনি যত বেশি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন, আপনার ক্যারিয়ারও ততই সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। ইন্টারনেট ক্যারিয়ারকে কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তার কিছু দিক এই লেখায় তুলে ধরা হলো।

জব পোর্টালে চাকরির সন্ধান : জব পোর্টালগুলোর মাধ্যমে চাকরির সন্ধান নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এখনও সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে নিয়োগের জন্য। তবে বহুজাতিক থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও কিন্তু ক্রমেই ঝুঁকে পড়ছে অনলাইন বিজ্ঞাপনের দিকে। এখন বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই আবেদন করার জন্য আর হাতেকলমে লেখা বা প্রিন্ট করা জীবনবৃত্তান্ত কিংবা আবেদনপত্রের প্রয়োজন হয় না। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই এখন অনলাইন আবেদন সমর্থন করে। অনেক প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব অনলাইন আবেদন সিস্টেম নেই। তারা এক্ষত্রে জব পোর্টালগুলোর ওপরই নির্ভর করছে। কাজেই ইন্টারনেটের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠুন শুরু থেকেই।

অনলাইনেই দক্ষতার প্রমাণ : অনলাইনে না হয় চাকরির সন্ধান মিলল। কিন্তু প্রশ্ন জাগতে পারেÑ আপনার কাজের নিজস্ব দক্ষতা কীভাবে অনলাইনে দেখাবেন? এখন সময়টা এমন যে, সবাই ফেইসবুক, টুইটারসহ নানা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। লিংকএডইনের মতো প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোয়ও রয়েছে সবার সরব উপস্থিতি। এখনকার সময়ে প্রায় সব আধুনিক প্রতিষ্ঠানই আবার সামাজিক যোগাযোগের এসব সাইটে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রেখেছে অ্যাকাউন্ট কিংবা ফ্যানপেজ খোলার মাধ্যমে। এসব সোশ্যাল নেটওয়ার্কে তাই আপনার বন্ধুদের তালিকায় যারা রয়েছেন, তারাই হয়ে উঠতে পারেন আপনার ক্যারিয়ারের নির্ভরশীল গাইড। হয়তো আপনার ফেইসবুকের বন্ধুদের তালিকায় রয়েছেন একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা। ফেইসবুকে আপনার কোনো কাজ তার ভালো লেগেই যেতে পারে। আর সেই কাজের উপযোগী কোনো পদ তার প্রতিষ্ঠানে খালি থাকলে আপনার শরণাপন্ন হতে পারেন তিনি। হয়তো আপনি খুব ভালো কার্টুন আঁকতে পারেন বা ছবি তুলতে পারেন। আপনার ফেইসবুক বা টুইটারে আপনার আঁঁকা কার্টুনের অ্যালবাম কিংবা ছবির অ্যালবাম রয়েছে। দেখা গেল, আপনার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত কেউ সেই কার্টুন বা ছবি দেখে মুগ্ধ। তিনি হয়তো তার প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য একজন কার্টুনিস্ট খুঁজছেন। কিংবা তারই কোনো বন্ধু তার কাছে পরিচিত কোনো আলোকচিত্রীর রেফারেন্স চেয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে কিন্তু আপনার ওই কার্টুনের অ্যালবাম কিংবা ছবির অ্যালবামটি হয়ে যেতে পারে আপনার আয়ের উৎস। 
আবার ধরা যাক, আপনি খুব ভালো লেখেন এবং লেখাটাই আপনি পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান। আপনার ফেইসবুকের বন্ধুতালিকায় রয়েছেন ভালো কোনো প্রকাশক। আপনি ফেইসবুকে বা লিংকে আপনার কোনো লেখা শেয়ার করলেন। তিনি আপনার লেখাটা পড়ে আপনার বই প্রকাশ করতে আগ্রহ দেখালেন। এখানে থেকেই শুরু হয়ে গেল আপনার লেখক হওয়ার শুভ সূচনা।

অন্যের মতামতের গুরুত্ব দিন : অনলাইন হোক আর এর বাইরের কিছু, কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু সবাই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী। তারপরও যথাসম্ভব আপনার বন্ধুর সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই। একটা বিষয় এড়িয়ে চলবেন, কখনোই আপনাকে অনলাইনে অন্য সবার চেয়ে বড় ভাববেন না। বাস্তব জীবনের জন্যও এটি সমানভাবে প্রযোজ্য অবশ্য। অনলাইনে যেসব বন্ধু রয়েছেন, তাদের মতামতের গুরুত্ব দিন। অন্তত একবার মন দিয়ে শুনুন তাদের কথা। বার্ডস আই অবজারভেশনের কোনো বিকল্প নেই।

সফলদের অনুসরন করুণ : অনলাইনে আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি মাধ্যম হতে পারে সফলদের সঙ্গে যোগাযোগ। যারা জীবনে সফল হয়েছেন, তাদের নিজের নেটওয়ার্কে যুক্ত করুন। দেখুন তারা কী করে কাজ করেন, কী করে কথা বলেন, কী করে মানুষকে প্রভাবিত করেন। কেউ সাফল্যের দিকে এগিয়ে গেলে তাকে ঈর্ষা না করে দেখুন কী করে তিনি সাফল্যের পথে এগিয়ে গেলেন। অনলাইনে সবার কথপোকথন থেকে আপনি কিন্তু আপনার যোগাযোগের দক্ষতা, ভাষার দক্ষতাও বাড়িয়ে তুলতে পারবেন। তাই এক্ষেত্রে অনলাইনই আপনার শিক্ষক।

নিজের সুপ্ত প্রতিভা প্রকাশ করুন : নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে চেপে না রেখে অনলাইনে নিজেকে পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশ করুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার পূর্ণ রূপটা প্রকাশ করতে পারলে এর চেয়ে বড় সুযোগ আসতে পারে, যা আপনার জীবনের গতিই বদলে দিতে পারে; এনে দিতে পারে বহু কাক্সিক্ষত সাফল্য।


ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে উচ্চশিক্ষা
মো. সাইফুল ইসলাম খান এইচএসসি পরীক্ষা শেষে মাথায় নতুন ভাবনাÑ কোন
বিস্তারিত
পড়তে চাইলে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ
আজকাল শিক্ষিত, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, অথবা নিম্নবিত্ত কারোর জীবনেই মিডিয়ার অনুপস্থিতি
বিস্তারিত
সম্ভাবনাময় বিষয় মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ
মো. সাইফুল ইসলাম খান মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি ও সৃজনশীল আর্টসের মধ্যে সমন্বয়
বিস্তারিত
ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘এন্ট্রাপ্রেনারশিপ
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইউকে অ্যালুমনাই নেটওয়ার্কের (ইটকঅঘ) ব্যানারে
বিস্তারিত
পড়ার বিষয় যখন পুষ্টি ও খাদ্য
মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য যে পাঁচটি মৌলিক উপাদান রয়েছে তার
বিস্তারিত
যুগোপযোগী শিক্ষা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং
মানুষের জীবিকার জন্য প্রয়োজন একটি নিশ্চিত এবং নিরাপদ কর্মসংস্থান। নিশ্চিত
বিস্তারিত