খেলার সঙ্গী ভোরের মাছ

তিন বোন একসঙ্গে মাথা নেড়ে জানালোÑ বুঝেছে। তারপর ওড়নার কোঁচড়ে আম্মুর দেওয়া মুড়ি মুখে দিতে দিতে মক্তবের দিকে পা বাড়ায়। অনন্যাদের বাড়িতে ঢোকা ও বেরোনোর রাস্তা পুকুরের পাড় দিয়েই। মক্তবে যাওয়ার পথে পুকুরপাড়ে এসে তিন বোন এবার একসঙ্গে জোরে গলা খাঁকারি দিল

অনন্যা, অহনা আর ছড়া। তারা তিন বোন প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে। হাতমুখ ধোয়ার জন্য পুকুরঘাটে যায়। হাতমুখ ধুয়ে ঘরে আসে। আম্মু হাতে বিস্কুট দেয়। সঙ্গে ওড়নার কোঁচড়ে দেয় মুড়ি। সেই মুড়ি মুখে দিতে দিতে তিন বোন মক্তবে যায়। মক্তব মানে আরবি পড়ার জন্য মসজিদে হুজুরের কাছে যায়। সেখান থেকে ফিরে সকালের খাওয়া সেরে স্কুলে যায়।
সেদিন ছিল হালকা শীতের এক ভোর। তিন বোন পুকুরে যায়। অনন্যাদের ঘর থেকে পুকুর আধা মিনিটের পথ। পুকুরে সানবাঁধানো সুন্দর ঘাট আছে। তিন বোন ঘাটে নামে। তারা আজ পুকুরের পানি দেখে অবাক হয়। পুরো পুকুরের পানি তিরতির করে কাঁপছে। 
তেমন কোনো বাতাসও নেই। তাহলে পানি এরকম তিরতির করছে কেন? তিন বোন অবাক হয়। হঠাৎ অনন্যা একটা গলা খাঁকারি দেয়। গলায় কফটফ জমেছিল হয়তো। খাঁকারির শব্দের সঙ্গে সঙ্গে পুরো পুকুরের পানিতে ঝিরঝির ঝিরঝির ঝররর ঝরর ঝরর শব্দ ওঠে। তারা অবাক হয়ে দেখে। কিছু বুঝে উঠতে পারে না।
তিন বোন অবাক হয়ে চুপ মেরে যায়। বোঝার চেষ্টা করে বিষয়টাকে। পুরো পরিবেশ শান্ত আর নীরব। আধা মিনিটের মধ্যে পানি আবার তিরতির করে ওঠে। ঠিক আগের মতোই। অনন্যা এবার ইচ্ছে করেই আরেকটু জোরে গলা খাঁকারি দেয়। এবার পুরো পুকুরের পানিতে আরও জোরে ঝিরঝির ঝিরঝির ঝররর ঝরর ঝরর শব্দ ওঠে। এমন মধুর সেই শব্দ শুনে তারা অবাক হয়। খুশিতে একে অন্যের মুখের দিকে তাকায়। তারা খুশিতে হাততালি দেয়। কিন্তু গলা ঝাড়ার সঙ্গে পানিতে কাঁপন আর ঝরর ঝ-র ঝরর ঝ-র শব্দ ওঠার কারণ কী, সেটা ভেবে পায় না। 
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুকুরের পানি আবার তিরতির করে ওঠে। অনন্যা এবার অহনাকে বলেÑ তুই গলা খাঁকারি দে তো।
অনন্যার মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে অহনা বলেÑ দেব? Ñহ্যাঁ, দে না। দেখি কী হয়।
অহনা এবার জোরে গলা ঝাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে পুকুরের পানিতে ওই একই রকম শব্দ ওঠে। ঝিরঝির ঝিরঝির ঝররর ঝরর ঝরর। তিন বোনের খুশি আর ধরে না। তাদের এত খুশি দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তারা খুব মজা পাচ্ছে। 
আধা মিনিট পরে অনন্যা অহনাকে বলেÑ আবার দে।
অহনা আবার জোরে গলা ঝাড়ে। আবার সেই একই শব্দ ওঠে। কিন্তু শব্দটা অনন্যার খাঁকারির চেয়ে একটু কম।  
অনন্যা এবার ছড়াকে বলেÑ একবার তুই গলা ঝাড় তো জোরে। 
আপ্পির কথায় ছড়া জোরে একটা গলা ঝাড়ি দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পানিতে আবারও সেই ঝিরঝির ঝিরঝির ঝররর ঝরর ঝরর শব্দ উঠেছে। কিন্তু এবার শব্দটা আরও কম হয়েছে। মানে অহনার চেয়ে কম। কারণ ছড়া অনেক ছোট। তারপরও জোরে গলা ঝাড়ি দিয়েছে। কিন্তু খাঁকারিটা ছোট হয়েই বেরিয়েছে। আর তাই পানির ঝরর ঝররর শব্দটাও কম হয়েছে। 
এবার অনন্যা নিজে আবার অনেক জোরে গলা ঝাড়ি দিয়েছে। এবার পুরো পুকুর কাঁপিয়ে শব্দ উঠেÑ ঝিরঝির ঝিরঝির ঝররর ঝরর ঝরর। তিন বোন খুশিতে হাতে তালি দেয়। তাদের এ আনন্দের মাঝে মক্তবের সময় যে চলে যাচ্ছে সেটা তারা টেরই পাচ্ছে না।
আম্মু হঠাৎ খেয়াল করলেন সোনামণিরা এখনও ঘরে ফিরছে না। তিনি হাতের কাজ ফেলে এক দৌড়ে পুকুরঘাটে এলেন। এসে দেখেন তার মেয়েরা গলা খাঁকারি খেলায় ব্যস্ত। আম্মুকে দেখে তিন বোনের মক্তবের কথা মনে হলো। ঘরে ফিরতে ফিরতে আম্মুর কাছে তিন বোন জানতে চাইল বিষয়টা। 
আম্মু মুচকি হেসে বললেনÑ শীতের সকালে পুকুরের মাছ সারিবদ্ধভাবে মনের আনন্দে ভেসে বেড়ায়। তখন মাছদের কানে আচমকা জোরে কোনো শব্দ গেলে তারা সারিবদ্ধভাবে একসঙ্গে ডুব মারে। তখন ঝিরঝির ঝিরঝির ঝররর ঝরর ঝরর শব্দ হয়। বুঝেছ? 
তিন বোন একসঙ্গে মাথা নেড়ে জানালোÑ বুঝেছে। তারপর ওড়নার কোঁচড়ে আম্মুর দেওয়া মুড়ি মুখে দিতে দিতে মক্তবের দিকে পা বাড়ায়। অনন্যাদের বাড়িতে ঢোকা ও বেরোনোর রাস্তা পুকুরের পাড় দিয়েই। মক্তবে যাওয়ার পথে পুকুরপাড়ে এসে তিন বোন এবার একসঙ্গে জোরে গলা খাঁকারি দিল। 
এবার পুরো পুকুরের পানি কাঁপিয়ে শব্দ হলোÑ ঝিরঝির ঝিরঝির ঝররর ঝরর ঝরর। সেই শব্দ শুনতে শুনতে তিন বোন মক্তবের দিকে পা বাড়ায়। 
সেদিনের পর থেকে ভোরে পুকুরঘাট থেকে হাতমুখ ধুয়ে অনন্যা, অহনা আর ছড়ার ঘরে ফিরতে দেরি হয়। মাঝে মাঝে আম্মু এসে বকা দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু তাতে কী। মাছেরা এখন তাদের ভালো বন্ধু, ভোরের খেলার সঙ্গী। 


মশা ও লেখক
লেখার টেবিলে বসে আছি দুই ঘণ্টা হয়। ছোট্ট টেবিলবাতি সেই
বিস্তারিত
বনপাখিটার মনটা খারাপ
  বনপাখিটার মনটা খারাপÑ ভাঙবে কীসে তাহার মান? বীথি তিথি ভেবেই
বিস্তারিত
বন্ধু
আবুল বলল, ‘আমাগো ভুল বুইঝ না ভাই। আমরা আসলে...’, ‘তোরা
বিস্তারিত
হেমন্ত দিন
হেমন্ত দিন হরেক রঙিন হরেক রঙের খেলা বনে বনে ফুল-পাখিদের
বিস্তারিত
এলিয়েন এসেছিল
হামীম বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল। বললÑ কে তুমি? -হ্যাঁ আমি
বিস্তারিত
হেমন্ত এসেছে
মাঠে মাঠে সোনা ধানে প্রাণটা ফিরে পেল সেদ্ধ চালের গন্ধ
বিস্তারিত