যাদের সেবায় ধন্য বাঙালি

ইতিহাসে ভর করে বেড়ে ওঠে প্রতিটি জাতি। যে জাতির ইতিহাস যত সমৃদ্ধ, সে জাতির শিক্ষা, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ভদ্রতা তত টেকসই এবং তার শেকড়ও গভীরে প্রোথিত। আমরা সবাই জানি, কোনো দেশকে জানতে হলে সে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন। বাংলার ইতিহাসের কথাই যদি বলি, এর ইতিহাস প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। কিন্তু আমরা এ বাংলার ইতিহাস কতটুকুই জানি। এর নৈতিক দায়িত্ব যিনি এবার নিয়েছেন ইতিহাসের ছাত্র, ইতিহাস-অন্তঃপ্রাণ, ইতিহাসের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ওঠাবসা, তিনি মো. ফজলুল হক। তিনি তার পাঠ-অভিজ্ঞতার বিস্তৃত জাল ফেলেছেন; সেজালে উঠে আসছে ‘শশাঙ্ক থেকে বঙ্গবন্ধু : যাদের সেবায় ধন্য বাঙালি।’ গ্রন্থের শিরোনাম দেখে পাঠকের আর বুঝতে বাকি থাকে না, এর অন্তর্গত বিষয়বস্তু কী। লেখক তার সূচনা-কথনে আরও স্পষ্ট করেছেন এভাবেÑ ‘বাংলার অতীত ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, যুগে যুগে কিছু প্রাগ্রসর মানুষ দেশ, জাতি ও সমাজকে আলোকিত করেছেন। বাংলার এ আলোকিত মানুষের মধ্য থেকে শতাধিক ব্যক্তিত্ব নিয়ে ‘শশাঙ্ক থেকে বঙ্গবন্ধু : যাদের সেবায় ধন্য বাঙালি।’ 
৬০০ থেকে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দÑ বাঙালির এ দীর্ঘ ইতিহাস নিয়ে আসবেন তার রচিত তিনটি খ-ে, যার প্রথম খ- অক্টোবর ২০১৭ প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে আলোঘর প্রকাশনা। আলোচ্য প্রথম খ-ে রয়েছে শশাঙ্ক থেকে মীর কাসিম পর্যন্ত ২৬ জন রাজা বা রাষ্ট্রনায়কের রাজ্য শাসন, তখনকার রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণ। বইটিতে সূচিত হয়েছেন, এদের কয়েকজন হলেন ধর্মপাল, খনা, অতীশ দীপঙ্কর, বল্লাল সেন, হজরত শাহজালাল, কৃত্তিবাস ওঝা, শ্রী চৈতন্য দেব, চন্দ্রাবতী, আলাওল, শায়েস্তা খাঁ, রানি ভবানী। প্রত্যেকের রাজ্য শাসনের ইতিবৃত্ত, সুখ-দুঃখ, পাওয়া না পাওয়া সহজসরল ভাষায় গল্পের আঙ্গিকে তুলে এনেছেন। ফলে পড়তে ক্লান্তি আসে না; বরং জানার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এই সম্পূর্ণ কৃতিত্ব লেখকের। তাছাড়া লেখক কৌশলে একজন রাজার দীর্ঘ রাজ্য শাসনের চুম্বক ঘটনাগুলো তুলে এনেছেন তিন-চার পৃষ্ঠার মধ্যে, যা লেখকের নিপুণ দক্ষতা ও মেধার পরিচয় বটে। লেখক কোথাও কোথাও নিজের ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন, পাশাপাশি উপযুক্ত যুক্তিও দিয়েছেন। যেমনÑ রাজ্যবর্ধনের মুত্যুর পর শশাঙ্ক থানেশ্বর অভিমুখে আর অগ্রসর হয়েছিলেন বলে মনে হয় না। কারণ মৌখরী রাজ্যের পরাজয়ের আর কিছু বাকি ছিল না। রাজ্যবর্ধনের ভাই হর্ষবর্ধন থানেশ্বরের সিংহাসনে অভিষিক্ত হয়েই সসৈন্য শশাঙ্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন (পৃষ্ঠা ১৩)। যেখানে গ্রন্থকারের যুক্তি জোরালো, সেখানে ইতিহাস আরও অকাট্য। ‘ষোলো চাষে মূলা, তার অর্ধেকে তুলা, তার অর্ধেকে ধান, বিনা চাষে পান।’ অথবা ‘থেকে গরু না বয় হাল, তার দুঃখ চিরকাল।’
এ খনার বচনগুলো আমরা মুখে মুখে শুনি বা জানি; কিন্তু এর লেখক জ্যোতিষশাস্ত্রে নিপুণা খনা একজন বিদুষী নারী। তার আবির্ভাবকাল ৮০০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যেÑ এ তথ্য আমরা আলোচিত গ্রন্থ থেকে পেয়ে যাই (পৃষ্ঠা ২২)।
প্রাচীনকালে রাজারা শুধু রাজ্য জয় আর যুদ্ধবিগ্রহ নিয়েই ছিলেন না, তারা সাহিত্যচর্চায়ও নিবেদিত ছিলেনÑ এ তথ্য পাওয়া যায় গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে। যেমন ‘সুলতান গিয়াসউদ্দিন নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন। তাই তিনি বিদ্বানদের সমাদর করতেন। মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা রচনা করতেন। পারস্যের কবি হাফিজের সঙ্গে তিনি পত্র যোগাযোগ করতেন (পৃষ্ঠা ৬৬)।’ আর মহাকবি আলাওলের নাম তো আমরা সবাই জানি; কিন্তু তার নামের বানান নিয়ে যে মতপার্থক্য আছে, সেটা আলোচ্য গ্রন্থ থেকে জানা যায় (পৃষ্ঠা ১০০)। এভাবে অনেক ছোট ছোট ঘটনা, অজানা তথ্য বইটিতে সন্নিবেশিত হয়েছে। 
বইটিতে ফটোফিচার নামে একটি অধ্যায় রাখা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন রাজার ছবি এবং তাদের শাসনকাল উল্লেখ করা হয়েছে। ছবিগুলো যে দুর্লভ, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।
সবশেষে এ কথা বলতেই হয়, মো. ফজলুল হক মেধা, মনন ও সময় দিয়ে একটি পরিশ্রমী কাজ করেছেন। যারা ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করছেন বা গবেষণা করতে চান, বইটি তাদের রেফারেন্স হিসেবে কাজে আসবে। আলোঘর প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ করেছেন শতাব্দী জাহিদ। দাম ২৭০ টাকা।


আরব ছোটগল্পের রাজকুমারী
সামিরা আজ্জম ১৯২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আর্কে একটি গোঁড়া
বিস্তারিত
অমায়ার আনবেশে
সাদা মুখোশে থাকতে গেলে ছুড়ে দেওয়া কালি  হয়ে যায় সার্কাসের রংমুখ, 
বিস্তারিত
শারদীয় বিকেল
ঝিরিঝিরি বাতাসের অবিরাম দোলায় মননের মুকুরে ফুটে ওঠে মুঠো মুঠো শেফালিকা
বিস্তারিত
গল্পের পটভূমি ইতিহাস ও বর্তমানের
গল্পের বই ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’। লেখক শাহাব আহমেদ। বইয়ে
বিস্তারিত
ধোঁয়াশার তামাটে রঙ
দীর্ঘ অবহেলায় যদি ক্লান্ত হয়ে উঠি বিষণœ সন্ধ্যায়Ñ মনে রেখো
বিস্তারিত
নজরুলকে দেখা
আমাদের পরম সৌভাগ্য, এই উন্নত-মস্তকটি অনেক দেরিতে হলেও পৃথিবীর নজরে
বিস্তারিত