বাসে তরুণদের যে আচরণ কাম্য

আজকের তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। এই তরুণ প্রজন্মই আগামীতে দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করবেন। তাই তরুণদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, হতে হবে দায়িত্ব ও নৈতিকতাবোধসম্পন্ন মানুষ। তরুণরা যদি মানবিক গুণে গুণান্বিত না হন, তাহলে তারা দেশ ও দশের সেবায় কীভাবে নিজেকে নিয়োজিত করবেন। মানুষের সেবায়, অসুস্থ ও দুর্বলের সহযোগিতায় সবার আগে তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য তাদের এখন থেকেই সব ভালো কাজ করার অভ্যাস করতে হবে; আয়ত্ত করতে হবে ভালো গুণ। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে তরুণদের বেশিরভাগ সময় বাসেই চলাচল করতে হয়। বাসেও তাদের কিছু নিয়মনীতি মেনে চলা উচিত। বাসে তরুণদের কেমন আচরণ কাম্য, সেসব নিয়েই এবারের প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন- বিউটি আক্তার হাসু

১. পাবলিক বাসে সবারই ভদ্র ও শালীন আচরণ করা উচিত। কথায় বলে- ব্যবহারেই বংশের পরিচয়। বাসে সুন্দর করে, ভদ্রভাবে বসার অভ্যাস গড়তে হবে। তরুণদের মাথায় রাখতে হবে, যেন তাদের বসার ধরন ও আদবকায়দা দেখে বাসের সবাই বুঝতে পারে তারা ভালো কোনো পরিবারের সন্তান, ভালো কোনো স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এমনকি তারা ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। পাশে বসা বা দাঁড়ানো ব্যক্তি যেন তাদের আচরণে কোনোভাবেই বিরক্ত না হন। বিশেষ করে যখন পাশের আসনটিতে কোনো পরিচিত বা অপরিচিত নারী বসেন, তখন আচরণ যথেষ্ট সংযত হওয়া উচিত। তরুণীদের আচরণও শালীন হতে হবে। একজন বয়স্ক ব্যক্তি কোনো তরুণীর পাশে বসছেন অথচ তিনি (তরুণী) অনর্গল কোনো ছেলেবন্ধুর সঙ্গে জোরে কথা বলছেন, উচ্চ স্বরে হাসছেন- এসব আচরণ মোটেও শোভন নয়। 

ছেলেদের ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায়, অনেকেই হাত-পা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসেন, যেন বাসার ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আছেন। দেখা যায়, তরুণটি পেছনের সিটে বসে আছেন, অথচ ময়ূরের মতো মেলা হাত সামনে বসা একজনের মাথায় লাগছে, কোনো নারীর খোঁপায় বা চুলে বারবার টান লাগছে। তিনি খেয়াল করছেন না কিংবা করলেও পাত্তাই দিচ্ছেন না। আবার কখনও তার কনুই পাশে বসা লোকটির গায়ে জোরে লেগে গেল। তাকে একটু দুঃখিতও বলছেন না। যদি অসচেতনভাবে এমন কোনো ভুল হয়ে যায়, তাকে সঙ্গে সঙ্গে ‘দুঃখিত’ বলা ভদ্রতা। আর দ্বিতীয়বার যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। ভুলে গেলে হবে না, পাবলিক বাসে বসে আছেন। তাই এখানে হাত-পা মেলে বসা অশোভন। 

২. বাসের সিটে বসে আছেন। আপনার পাশে বসা লোকটি মোবাইল হাতে নিয়ে ব্যক্তিগত মেসেজ আদান-প্রদান করছেন। আপনি পাশে বসে ঝুঁকে গিয়ে তার ফোন স্ক্রিনে কী লিখছেন দেখার চেষ্টা করছেন- এতে পাশে বসা ব্যক্তিটির আপনার সম্পর্কে কেমন ধারণা হতে পারে? নিশ্চয়ই ভালো ধারণা হবে না। এ অবস্থায় তিনি সরাসরি কিছু না বলায় আপনি তাকিয়েই রইলেন। এই বাজে অভ্যাস ত্যাগ করা খুবই জরুরি।

৩. অনেক সময় দেখা যায়, রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম। এতে আপনি খুব বিরক্ত ও অস্থির হয়ে উঠছেন। আর এই বিরক্তি ও অস্থিরতার কারণে (প্রকাশ করতে গিয়ে) আপনি বিরামহীন পা দোলাচ্ছেন কিংবা সজোরে সামনের সিটে দু-হাত দিয়ে আঘাত করছেন বা গুঁতা দিচ্ছেন। একবার ভেবে দেখুন, যানজটের কারণে আপনার মতো আপনার পাশের লোকটিও বা আশপাশের মানুষগুলোও তো বিরক্ত! অথচ আপনার এমন আচরণ তার বা তাদের বিরক্তি আরও কতটা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যদি এ ধরনের কোনো বদভ্যাস থেকে থাকে, তাহলে এখনই পরিহার করুন।

৪. অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে একসঙ্গে একঝাঁক ছেলেমেয়ে বাসে ওঠেন। উঠেই তারা চিৎকার করে কথা বলা শুরু করেন। কেউ বিরক্তিতে তাকালে বা কোনোরকম বিরক্তি প্রকাশ করলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, এমনকি তাকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন। যে তরুণরা থাকবেন বিনয়ী, নম্র-ভদ্র তারা যদি নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যস্ত থাকেন, তা খুবই দুঃখজনক। চলার পথের এই স্বল্প সময়ে আপনার সুন্দর আচরণে চারপাশের মানুষকে আকৃষ্ট করে বুঝিয়ে দিন আজকের তরুণই দেশে আগামীর যোগ্য কর্ণধার। 

৫. অনেক সময় দেখা যায়, কোনো ছেলে ও মেয়ের একটি জুটি একসঙ্গে বাসে উঠেছেন। পাশাপাশি সিটে বসে আছেন। তাদের ঘাড়ের ওপর দাঁড়ানো অনেকেই। কিন্তু সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে অশালীন আচরণ করছেন, কখনওবা খেয়াল না করে বিভিন্ন উপমায় ডাকছেন (বাবু, সোনা, জাদু বলে), নানা রকম কথা বলছেন, যা শুনতে এবং দেখতেও অস্বস্তিকর। যেখানে-সেখানে এত সস্তাভাবে প্রেম-ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ অশ্লীলতারই নামান্তর। প্রেম-ভালোবাসা অনেক মূল্যবান! সেটাকে জনসম্মুখে এত নগ্নভাবে প্রকাশ করে নিজেকে ব্যক্তিত্বহীন প্রমাণ করার দরকার আছে কি! আদর, সোহাগ, আহ্লাদের জন্য পাবলিক বাস কোনোভাবেই যথাযথ জায়গা নয়। পশ্চিমা দেশগুলোর সংস্কৃতি আলাদা। সেসব দেশে বাসে-ট্রামে অনেক কিছু হতে পারে; কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শালীনতাই আমাদের ঐতিহ্য, অহংকার। এ বিষয়ে তরুণ-তরুণীদের সচেতনতা খুব জরুরি।

৬. একসময় আমাদের দেশের একটা আদর্শ ছিল- বাসে দাঁড়িয়ে থাকা বয়োজ্যেষ্ঠ বা নারী কোনো যাত্রীর সম্মানে নিজের আসনটি ছেড়ে দেওয়া। বাসে উঠলেই সেই সুন্দর দৃশ্য খুব চোখে পড়ত। কোনো মেয়ে বাসে আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, সঙ্গে সঙ্গে আসন থেকে উঠে তরুণ কেউ তাকে বসতে দিতেন। এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যেত। কিন্তু এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে দাঁড়িয়ে থাকা ক্লান্ত মেয়েটির দিকে সিটে বসে থাকা কেউ তাকিয়েও দেখেন না; বয়স্ক বা অসুস্থ কেউ দাঁড়িয়ে আছেন অথচ কেউ তার দিকে ফিরেও তাকান না; স্কুলফেরত শিশুটি তার মার হাত ধরে বাসে দাঁড়িয়ে থাকে, কেউ উঠে তাদের বসতে দেয় না। এই যে দেখেও না দেখার ভান, এটা তরুণদের মানসিকতারই বিপর্যয় বলতে হয়। এটা আমাদের দেশের রীতিবিরুদ্ধ। আমাদের তরুণরা এমন শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে না। মানুষের সাহায্য ও সব ধরনের সহযোগিতায় সবার আগে তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

পাবলিক বাসে উঠে কীভাবে থাকতে হবে, আচরণ কেমন হবে- এসব শিখিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। আমরা মানুষ, সৃষ্টির সেরা জীব। সমাজবদ্ধ মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করবে- এটাই স্বাভাবিক। এটুকু ভাবলেই সুন্দরভাবে চলা যায়। এই সহযোগিতা করার মনোভাবটা তরুণদের বাস থেকেই শুরু হোক। বাইরের দুর্ঘটনা এড়ানোর পাশাপাশি বাসের ভেতরের সব ধরনের পরিস্থিতিতে আচরণ সুন্দর হওয়া খুব জরুরি। 


‘ট্রেনিং দ্য ট্রেইনার্স’ কর্মসূচিতে কানাডার
একজন উচ্চ-আশাবাদী মানুষ হিসেবে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য পৃথিবীব্যাপী
বিস্তারিত
পথশিশুদের জন্য ‘এক টুকরো হাসি’
‘এক টুকরো হাসি’ মূলত একটি পরিবার। যে পরিবারটি বিভিন্ন স্থান
বিস্তারিত
ড্যাফোডিল পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের জন্য জব
৮ অক্টোবর ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে
বিস্তারিত
কর্মক্ষমতা বাড়ানোর উপায়
নিজেকে আরও কর্মঠ করে তোলার ক্ষেত্রে একটু চটপটে হওয়া ও
বিস্তারিত
ভ্রমণেও শেখার আছে অনেক
বর্তমানে তরুণ সমাজের মাঝে ভ্রমণের নেশাটা বেশ জেঁকে বসেছে, যা
বিস্তারিত
অনলাইন ব্যবসায় প্রচারণা কৌশল
ব্যবসা অনলাইন হোক বা অফলাইনে প্রচারণা খুবই জরুরি। তবে অফলাইনের
বিস্তারিত