বেলাল চৌধুরীর কবিতা

মানুষের বিষয় হৃদয়

পৃথিবীর গোধূলিতে যেখানে আজও হরিণেরা
ভাঙে পিপাসিত হৃদয়ের আমলকী
তার তীরে নদী এক নদীর মতন অবিরাম
স্পন্দিত জীবন-ছন্দে কল কল্লোলিনী...

আর আমরা তখন তাঁর সেই উষ্ণ সংবেদী
দাবদগ্ধ নীল ঠোঁট থেকে
প্রবাহিত শব্দাবলির সুমুখে
ন্যস্ত করি আমাদের যত বিহ্বলতা
বোধ বোধি প্রেম প্রণয় পিপাসা;

আর শিশুর মতোন পরিষ্কার টলটলে চোখ মেলে
তিনি তার মর্মভেদী দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকেন
আমাদের এই রণরক্ত পৃথিবীর দিকে অনিমেষ
আর আমাদের হৃদয়ে তখন অঘ্রাণ হেমন্তের
যত বিপণœ বিষাদ।


বাল্যকালের গন্ধমাখা
নীল জামাটি

চোখের সামনে আজও কেমন স্পষ্ট অমলিন
বাল্যকালের গন্ধমাখা আমার নীল জামাটি,
দুরন্তপনার হাজার চিহ্ন আঁকা নীল পতাকা,
রোদে পোড়া ঘামে ভেজা হাওয়ায় ওড়াÑ
যেন অস্থির এক প্রজাপতির রঙিন প্রগলভতা;Ñ
নীল পাহাড়ের নিরুদ্দেশে মেঘের রেশম-স্বাধীনতা!

অভিমানী এক কিশোরের চোখের জলে ভেজা
অই নীল জামাটি আমার বাল্যকালের লাল দোপাটি
দাঁত-কপাটি হাবুডুবু শালুক খোঁজা, বুকের দুরুদুরু,
পায়ের নিচে পক্ষীরাজের খুরধ্বনি
চোখের সামনে তেপান্তরের সম্মোহন;
নীল জামাটির কেশর ধরে আস্তিনে চোখ মুছতে মুছতে
বনবাদাড়ে যখন-তখন ছুটাছুটি উধাও দুপুর তুমুল দাপদাপিÑ
সেই যে কবে সেই যে কবে গেছে নির্বাসনে
করীর থেকে গেছে ঝরে অনেক লোনা, ঝাপসা স্মৃতি;
চোখের সামনে আজও কেমন স্পষ্ট অমলিন
বাল্যকালের গন্ধমাখা সুদূর আমার ঐ নীল জামাটি।

 

জলবিষুবের পূর্ণিমা

মেঘ ভেসে যায় মেঘের ভেতর
ঘর ভেঙে যায় ঘরের ভেতর;Ñ
চাইছে কেউবা মেঘের ভেতর ঘরের বসত
কেউবা ঘরের ভেতর মেঘকে আনে টেনে;
মেঘের সীমা ঘরের সীমা

দুটোই সমান সুদূর এবং নিরুদ্দেশ,
মেঘের যেমন নেই ঠিকানা
ঘরেরও ঠিক নেই সীমানা;
ছেঁড়া খোঁড়া মেঘে শুধু তছনছ
ভাঙাচোরা ঘরে শুধু নয় ছয়
ঘরপোড়া গরু যে কেবলি
ডরায় সিঁদুরে মেঘে।

 

আসমুদ্রহিমাচল

খর রৌদ্র আর হাওয়ার তোড়ে শুষে নেয় আমার সমস্ত প্রতিরোধ
ভেতরে ভেতরে টের পাই ডানার কম্পন, জীবনের অবারিত সম্ভাবনা,
চঞ্চল চিত্তের যাবতীয় দ্রোহ, রোষ কষায়িত মায়ারজ্জু...
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে কোণে কোণে আত্মভোলা এক আত্মবিস্তৃতি,
হাওয়ার গহ্বরে গড়ে তুলতে চাই কীর্তিস্তম্ভ¢, স্মৃতিসৌধ,
স্পর্শ-উষ্ণ প্রস্তর ফলকÑ আসমুদ্রহিমাচল জুড়ে;
কখনও নিজেকে বিচ্ছিন্ন রেখে, কখনও স্বপ্নাবিষ্ট ঔচিত্যবোধের
গ-দেশে শালা শুয়ারের বাচ্চা বলে ক্যাত করে সজোর চপেটাঘাতে
অবগাহন করতে চাই গঙ্গা পদ্মার একই ঘোলা জল প্রবাহে
সোদরপ্রতিম পড়শি প্রতিবোধনে...


আরব ছোটগল্পের রাজকুমারী
সামিরা আজ্জম ১৯২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আর্কে একটি গোঁড়া
বিস্তারিত
অমায়ার আনবেশে
সাদা মুখোশে থাকতে গেলে ছুড়ে দেওয়া কালি  হয়ে যায় সার্কাসের রংমুখ, 
বিস্তারিত
শারদীয় বিকেল
ঝিরিঝিরি বাতাসের অবিরাম দোলায় মননের মুকুরে ফুটে ওঠে মুঠো মুঠো শেফালিকা
বিস্তারিত
গল্পের পটভূমি ইতিহাস ও বর্তমানের
গল্পের বই ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’। লেখক শাহাব আহমেদ। বইয়ে
বিস্তারিত
ধোঁয়াশার তামাটে রঙ
দীর্ঘ অবহেলায় যদি ক্লান্ত হয়ে উঠি বিষণœ সন্ধ্যায়Ñ মনে রেখো
বিস্তারিত
নজরুলকে দেখা
আমাদের পরম সৌভাগ্য, এই উন্নত-মস্তকটি অনেক দেরিতে হলেও পৃথিবীর নজরে
বিস্তারিত