কুইন্স লাইব্রেরিতে ‘শেকড়ের খোঁজ’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা


কাজী জহিরুল ইসলামের ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থ ‘শেকড়ের খোঁজ’। ২১ এপ্রিল এ গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলা বুক ক্লাব পাঠকের পাত। কুইন্স লাইব্রেরির হলিস শাখায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. বিলকিস রহমান দোলা। আলোচনা করেন ড. মাহবুব হাসান, ওবায়েদুল্লাহ মামুন, ফরহাদ ইসলাম প্রমুখ। 
শেকড়ের খোঁজ গ্রন্থটি রচিত হয়েছে বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও সাহিত্য চর্চার বিকাশ, বাংলার শাসন ব্যবস্থার ইতিহাস, মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর জীবন, ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার ধারাবাহিক ইতিহাসকে কেন্দ্র করে। গ্রন্থটির ফ্ল্যাপ থেকে জানা যায়, ‘আমি বাঙালি, বাংলা আমার ভাষা। এ ভাষাকে মহিমান্বিত করেছে একুশ। সংস্কৃত মাগধী প্রাকৃত হয়ে, চর্যাপদের লুইপা কাহ্নপার হাত ধরে, চ-ীদাসের মস্তিষ্কের কোষে কোষে বসত করে, বঙ্কিম, মাইকেল হয়ে রবীন্দ্রনাথের স্পর্শে যে ভাষা এনেছে নোবেলের সম্মান, কতটুকু আমি জানি তার শেকড়ের খোঁজ? বাংলা নববর্ষের উত্থান পুনরুত্থানের গল্পই বা কী। কীভাবে ছাব্বিশে মার্চ হলো স্বাধীনতা দিবস আর কীভাবেই বা হলো ষোলোই ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস? এসব প্রশ্নের উত্তর একটি ধারাবাহিক গল্পপ্রবাহের মধ্য দিয়ে পরিস্ফুট হয়েছে এ গ্রন্থে। মহাত্মা গান্ধীর জীবনপ্রবাহের মধ্যে যেমন রয়েছে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাস, তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনপ্রাবাহের মধ্য দিয়েই উৎসারিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। এসবই আমাদের শেকড়ের খোঁজ।’
বাংলা ভাষার জন্মকথা অনুচ্ছেদে লেখক উল্লেখ করেন, ‘প্রায়ই আমরা প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য শব্দ দুটি শুনে থাকি। এখন যে অঞ্চলের মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে অর্থাৎ বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিম বাংলা, প্রাচীনকালে এর নাম ছিল প্রাচ্য। তাই আমাদের শিল্প, সাহিত্য, অর্থনীতি ইত্যাদি বোঝাতে আমরা এখনও প্রাচ্যের শিল্প, সাহিত্য বা অর্থনীতি বলে থাকি। আর পাশ্চাত্য অর্থ হচ্ছে ইউরোপ। তাই ইউরোপের কোনো কিছু বোঝাতে পাশ্চাত্যের বলে থাকি।
মগধ রাজ্যের শাসন ও সংস্কৃতির আধিপত্য ছিল প্রাচ্যে। তাই আজকের বাংলা ভাষা মাগধী ভাষা থেকেই এসেছে বলে প-িতরা মনে করেন। এটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি ভাষা। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষারই একটি শাখা ভারতীয়-আর্য ভাষা। এই ভাষায়ই বেদ রচিত হয়েছে। তাই একে বৈদিক সংস্কৃত ভাষা বলা হয়। সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে মাগধী প্রাকৃত, যা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয় বলে প-িতরা মনে করেন। মাগধী প্রাকৃত কোনো মৌলিক ভাষা নয়। এর উৎপত্তি বৈদিক সংস্কৃত থেকে। মাগধী প্রাকৃত বলে কোনো ভাষা আজ আর ব্যবহৃত হয় না। কিন্তু ধর্মশাস্ত্র বেদ সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছে বলে সংস্কৃত ভাষার চর্চা এখনও রয়েছে। তাই আমরা বলব বাংলা ভাষার উৎস সংস্কৃত। সংস্কৃত থেকেই বাংলা ভাষা এসেছে।’
কুইন্স লাইব্রেরির পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা বুক ক্লাব গড়ে ওঠে এ
বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রতি মাসে কর্তৃপক্ষ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা বই
নির্বাচন করে; সদস্যরা বইটি লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করে সারা মাস পাঠ করেন এবং মাসের নির্দিষ্ট দিনে একত্রিত হয়ে বইটি নিয়ে আলোচনা করেন। একজন মূল আলোচক থাকেন, তিনি লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন, অন্যরা মুক্ত আলোচনা করেন। এ আলোচনা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গ্রন্থটি সম্পর্কে নিজস্ব পাঠলব্ধ ধারণা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার সুযোগ পান।
আলোচনার পাশাপাশি থাকে বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা স্বাদের পিঠার সমাহার, বৈশাখি গান ও কবিতা পাঠ। গান শোনান শারমীন মোহসীন, সূতপা ম-ল, ভায়লা সালিনা লিজা, মুক্তি জহির, কণিকা, রুমা দিলরুবা প্রমুখ। কবিতা আবৃত্তি করেন শ্যামা শ্যামলিপি, নজরুল কবীর, মোহাম্মদ মোহসীন ও রাজিয়া নাজমী। হ


আল মাহমুদ
আল মাহমুদের কবিতা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের অনেক কবিকেই প্রভাবিত করেছিল।
বিস্তারিত
বিম্বিত বিরহ পদাবলি
এখানে, এখন যেটাকে বাইপাস সড়ক বলেনÑ  ঠিক এখানেই রোপণ করেছিলাম যৌথ
বিস্তারিত
একটি বাহারি স্বপ্নের স্রষ্টা
খ্যাতির চাষাবাদে প্রলুব্ধ ফুটন্ত লাল গোলাপ অথচÑ একটি বাহারি স্বপ্নের সৃষ্টিতে
বিস্তারিত
সুবর্ণ পাতা
কাঙাল খোঁজে সুবর্ণ পাতা স্বভাব যেখানে ময়লার স্থায়ী আসন গেড়েছে পুরোটাই
বিস্তারিত
জলের আগুন থেকে
জলের আগুন থেকে তুলে নিয়ে তারার প্রকার সাজিয়ে আরেক ভেলা খুঁজেছি
বিস্তারিত
গ্রন্থমেলার নতুন বই
আলোঘর : আদিম লতাগুল্মময়। লেখক শঙ্খ ঘোষ। প্রচ্ছদ শতাব্দী জাহিদ।
বিস্তারিত