পাখিরা স্বাধীন

একদিন সকালে শুভ বাবা, মা আর ছোট ভাইকে বারান্দায় ডেকে আনে। সবার সামনে সে টিয়া পাখিটির খাঁচার দরজা খুলে দেয়। খোলা দরজা পেয়ে টিয়া পাখিটি আকাশে 
উড়াল দেয়। হারিয়ে যায় নীল আকাশে। শুভর 
একটু মন খারাপ হয়। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে
শুভ একটি টিয়ে পাখি পোষে। পাখিটি খালামণি দিয়েছে। তখন টিয়ে পাখিটির গায়ে লালচে লালচে পশম ছিল। ঠোঁট যদিও কিছুটা লাল ছিল। মাথাটা নাড়াত। শুভ ক্লাস থ্রিতে। ভোরে উঠেই সে টিয়ের বাচ্চাটিকে মুখে পাউরুটি তুলে দেয়। পানি দেয়। এভাবে পেটটা ভরে গেলে নিশ্চিন্তে টেবিলে যায় শুভ। একটু পরে রেডি হয়ে আব্বুর মোটরসাইকেলে স্কুলে চলে যায়। কিন্তু স্কুলে গেলেও মনটা তার বাসার পাখিটির কাছেই থাকে। জং পড়া খাঁচাটি। রং করা নেই। মায়ের বকুনি। বারবার বড় আপা কত যে বকেছে। কারও কথাই শোনে না। সে টিয়ে পাখি পুষবেই। কারও নিষেধ শুনবে না।
সারাদিন বেলকনিতে থাকলেও সন্ধ্যা হলে বাসার ভেতর নিয়ে পড়ার টেবিলে রাখবে খাঁচাটি। মাঝে মাঝে রাতে ঘুম ভেঙে গেলে উঠে দেখবে। নানা চিন্তা তার টিয়ে পাখিকে নিয়ে। স্কুল থেকে আসার সময় পাউরুটি ও কলা নিয়ে আসা। টিয়ে পাখিটা কলা খুব পছন্দ করে। মাঝে মাঝে দুধ-ভাত খেতে দেয়। এমনি করে বড় হতে থাকে টিয়া। 
স্কুল থেকে এসেই শুভ টিয়ে পাখির সঙ্গে কথা বলে। আয়, কাছে আয় বলে। মাঝে মাঝে খাঁচা থেকে বের করে হাতের ওপর রেখে আদর করে আর বলেÑ তোকে আমি অনেক ভালোবাসি।
শুভর কথা শুনে ছোট ভাই সাইফ বলেÑ মা, শুভ ভাইয়া একটা বোকা। ও পাখি পালে। মানুষ যেমন স্বাধীন। পাখিরাও স্বাধীন। ওরা ইচ্ছেমতো আকাশে উড়তে ভালোবাসে। ওদের মা-বাবা আছে। ওদের সঙ্গে থাকতে ইচ্ছে করে। শুভ ভাইয়া তুমি টিয়ে পাখিকে খাঁচায় না রেখে ছেড়ে দাও। ও মুক্ত আকাশে উড়বে, ওর ভালো লাগবে। এমন কথা শুনে শুভর মন খারাপ হয়। 
বাবা, মা সবাই বলে শুভ টিয়াকে ছেড়ে দাও। দেখছ না ছোট ভাই বলল। সবার কথা শুনে শুভর ইচ্ছে জাগে টিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার। শুভও ভাবে, তাই তো। সব পাখি ওড়ে, তাহলে ওর টিয়া উড়বে না কেন? 
একদিন সকালে শুভ বাবা, মা আর ছোট ভাইকে বারান্দায় ডেকে আনে। সবার সামনে সে টিয়া পাখিটির খাঁচার দরজা খুলে দেয়। খোলা দরজা পেয়ে টিয়া পাখিটি আকাশে উড়াল দেয়। হারিয়ে যায় নীল আকাশে। শুভর একটু মন খারাপ হয়। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে।
পাখিটির জন্য মায়া লাগছে। আবার ভালোও লাগছে এটা ভেবে যে, পাখিটি এখন মুক্ত, ও অন্য পাখির সঙ্গে আকাশে উড়বে, ওর বাবা-মা, ভাই-বোনের সঙ্গে দেখা করবে, ওদের সঙ্গে থাকবে। পাখিটি যতক্ষণ দেখা গেছে, ততক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল শুভ। তারপর ঘরে ফিরে আসে। 


শীত এলে
  হিম হিম ঠান্ডা কুয়াশার চাদরে প্রকৃতি ঢেকে যায়
বিস্তারিত
নতুন বই
হাতে হাতে বই হাসি খুশির হৈ! নতুন ক্লাসে নতুন বই
বিস্তারিত
শীতের দাপট
শীত এসেছে শীতের মতো হাড় কাঁপছে লোকের সূর্য মামা ভয়
বিস্তারিত
শীতে যাব মামার বাড়ি
শীতে যাব মামার বাড়ি এম এ এইচ লবীব মায়ের সঙ্গে আমার
বিস্তারিত
শীত পিঠা
আসুন চাচি আসুন খালা  শীত পিঠার এ আয়োজনে খাইবেন সদা
বিস্তারিত
দুর্ঘটনা ও উপলব্ধি
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মিক সুস্থ হলো। ওইদিনের দুর্ঘটনায় সে
বিস্তারিত