বাঁচনের সাঁঝকীর্তন

সাহেব যেদিন মরল ভিড় পড়ছিল বাড়িতেÑ ব্যাপক ভিড়Ñ কী হইহুল্লোড়
এসির বাড়িটা আমার চৈতমাসের ঘরের মতো দাউ দাউ বাতাসে মাতছিল
মানুষ কাঁদল, ইংলিশে এইডা-ওডা কত বাতচিত, সমস্ত বাড়িতে একটা গুমোট পড়ছিল সেদিন
এই আবেগ অভিনয়ের কিচ্ছা দেইখা তো চোখের পাতা হুহায় গেছিল!

কার বাড়ি থেইক্কা যেন একটা ধোয়া চাদর দিয়া উত্তর-দক্ষিণ কইরা পশ্চিমে মুখ কইরা শোয়াইছে বারান্দায়
রাবেয়ার মা ছাড়া এহন আর কেউই নাই, হকালে যারা আইছিল কামে গেছে গা 
আমার কিন্তু এহন খুব ভাল্লাগতাছে, একটা বছর কী যে যন্ত্রণায় কাটাইছি! 
বুকের ব্যথাডাও নাই, ঘাম ছাইড়া খুব পাতলা লাগতাছে অ্যাহন। 

পোলাডারে নিয়া খুব চিন্তাও নাই এহন, বাপ জুয়াড়ি হইলে কি অইবো
মায়ের দোয়ায় পোলাডা কর্মঠ অইছেÑ
ধারদেনা কইরা মাটি দিতে পারলেই শ্যাষ, মায়েরে ঠিকই চালায়া নিতে পারব।
রাবেয়ার শ্বশুরের গিরস্তি আছে, মাইয়া মায়ের মতোই উঁচা-লম্বা ডকের হইছে, আল্লা ঠেকাইব না।
জামাই ফরেজগার, পুতে নিজে মোটরসাইকেল না কিন্না দুলাভাইরে কিনা দিছে; 
বিয়ার সময় আমি কইছিলাম দিমু, পারি নাই।
সাহেব মরার পর ছোট সাহেব পুরানো হগলরে খেদায় দিছে।

মিথ্যা কমু ক্যানÑ বেতন, তেল চুরি এইডা ওইডা মিলাইয়া ভালোই কামাই ছিল
কাশেমের বোর্ডের জুয়া আর কাশেমের বউয়ের ফুলছাপা সালোয়ারের গোছে সব গ্যাছে। 
হায়রে জোয়ান বয়স, আল্লার কাছে মাফ চাইছি অনেকবার;
রাবেয়ার মার কাছে পারি নাই।
পোলাডার কাছেও মাফ চাওয়া উচিত আছিল, শরমে কুলায় নাই 
সংসারের জন্য যা করল! আমার বিে বক বুদ্ধিতে ধরে না অর ভালোমানুষি, বুদ্ধিপানা নিয়া।

উপকূলে বারো নাম্বার বিপদ সংকেত চলতাছে, জামাই কইলো ঠেইকা গ্যাছে, আইতে পারব না
বাবু রাবেয়ারে কইতে না করছিল, আর আটকায় রাখতে পারে নাই
এই পেত্তম চিৎকার কইরা কান্দন দিছেÑ
রাবেয়ার বিয়ার সময়ও মায়ে-মাইয়া এমনেই কানছিল, 
আমরা বাপ-পুতেও কানছিলাম হগলে, পাথর বাইন্দা বুকে। 
আইজকা অনেক বছর পর পোলারে বাবু ডাকলাম, ছোটসময় যেমন ডাকতাম
গরিবের পোলাপাইন তো বড় হইলে আর বাবু থাহে না, বাবু তো সাহেবি তকমা।

বাবুর কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব, মহল্লার বেকার চিন-পরিচয়জন আর কয়েকজন অচেনা মুখ
মোয়াজ্জেম হুজুর সব তাড়াতাড়ি সারতে চায়, বাতাস বইতাছে খুবÑ
সবাই কইতাছে লাগাতার বৃষ্টি হইব দুই-তিন দিন, আবহাওয়ায় খবর হইছে।
বাবু কিন্তু এহনো শক্ত, নিজের বুদ্ধিতেই করতাছে সব 
ভাদাইম্মার পোলা হইলে কী হইবÑ মহল্লার লোক, আত্মীয়স্বজন বেবাকে তারিফ করে। 
বিছানায় পইড়াই বাবুর হাতে মারে তুইলা দিছিলাম, একলা থাকতে কষ্ট হইলেও, 
পেটের কষ্ট হইব না আমি নিশ্চিন্ত। 
বাবুরে বিয়া করাইয়া নাতি বড় করার নতুন সংগ্রামে কাইটা যাইব বাকিটা জীবন
আল্লা সবাইরে ভালো রাখুক, সুখে রাখুক, ইমানে রাখুক!

এহন ঘুমাই, বড় ক্লান্ত লাগতাছে
ফেরেশতার একজন আইসা তাগিদ দিলÑ
‘এবার খামোত দেন দুনিয়াবি বাতচিত, এখানকার
সব নিয়মকানুন বুঝাইয়া দেই আফনেরে, আজকে সংখ্যায় আপনারা বেশি।’ 

তুমি ভালো থাইক, এখানকার নিয়মকানুন আমি বুইঝা নিমুনে
চিন্তা কইরো না, না খাইয়া থাইকো না, সবাই ঘুমাইলে
বালিশে মুখ দিয়া কাইন্দো না, অনুরোধ রইল। 
বাবুর উপর বেবাক বোঝা চাপায় দিয়া আমি নিরচিন্ত হইলাম
তুমি ঠ্যাকবা না জানি, সাবধানে থাইকো, আগলাইয়া রাইখো বাবুরে।
এহন থিকা তুমিই অর মা, তুমিই বাপ। 

আল্লায় ব্যাবাকের মোঙ্গল করুক, আমিন! 


আরব ছোটগল্পের রাজকুমারী
সামিরা আজ্জম ১৯২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের আর্কে একটি গোঁড়া
বিস্তারিত
অমায়ার আনবেশে
সাদা মুখোশে থাকতে গেলে ছুড়ে দেওয়া কালি  হয়ে যায় সার্কাসের রংমুখ, 
বিস্তারিত
শারদীয় বিকেল
ঝিরিঝিরি বাতাসের অবিরাম দোলায় মননের মুকুরে ফুটে ওঠে মুঠো মুঠো শেফালিকা
বিস্তারিত
গল্পের পটভূমি ইতিহাস ও বর্তমানের
গল্পের বই ‘দশজন দিগম্বর একজন সাধক’। লেখক শাহাব আহমেদ। বইয়ে
বিস্তারিত
ধোঁয়াশার তামাটে রঙ
দীর্ঘ অবহেলায় যদি ক্লান্ত হয়ে উঠি বিষণœ সন্ধ্যায়Ñ মনে রেখো
বিস্তারিত
নজরুলকে দেখা
আমাদের পরম সৌভাগ্য, এই উন্নত-মস্তকটি অনেক দেরিতে হলেও পৃথিবীর নজরে
বিস্তারিত