পদ্মা-গড়াইয়ের সুখের সংসার

সঙ্গী ছাড়াই জীবনের ১৭ বছর কেটেছে পদ্মার। গত বছর সে সঙ্গী পেয়েছে, নাম ‘গড়াই’, বয়স প্রায় ২৮ বছর। তারও জীবনের অর্ধেকটা কেটেছে সঙ্গীহীন। পদ্মা আর গড়াইয়ের শুভদৃষ্টি হয়েছে গেল বছরের আগস্টে। তারপর থেকে তারা একসঙ্গেই আছে। এতদিনে তাদের সুখের সংসার গড়ে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রতি পদ্মা ডিম ছেড়েছে। পদ্মা আর গড়াই মিঠাপানির বিরল প্রজাতির ঘড়িয়াল। পদ্মা মাদি আর গড়াই পুরুষ। রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার একটি পুকুরে তাদের বসবাস। 

চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা জানান, তারা এখন একসঙ্গেই পুরো পুকুরে সাঁতরে বেড়ায়। একসঙ্গে মাছ ধরে খায়। আবার কখনও কখনও তারা দুজনই শরীর ছড়িয়ে শুয়ে থাকে বালুতে। দেশে এখন চিড়িয়াখানায় সংরক্ষিত ঘড়িয়ালের সংখ্যা মাত্র ১১টি। এর মধ্যে রাজশাহী চিড়িয়াখানায় দুটি, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে একটি এবং ঢাকা ও রংপুর চিড়িয়াখানায় আছে চারটি করে ঘড়িয়াল। গত বছরের আগ পর্যন্ত রাজশাহীতে থাকা ঘড়িয়াল দুটি ছিল মাদি। আর ঢাকার চারটির সবগুলোই ছিল পুরুষ। ফলে প্রজনন হচ্ছিল না বিশ্বব্যাপী মহাবিপন্ন এই প্রাণিটির। তাই গত বছর রাজশাহী থেকে একটি মাদি ঘড়িয়াল ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে একটি পুরুষ রাজশাহীতে আনা হয়। পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ও বনবিভাগ একটি গবেষণা চালিয়ে বলে, পুরুষের সঙ্গে নারী না থাকায় ঘড়িয়ালদের প্রজনন হচ্ছে না। তাই এই বিরহ কাটাতে সংস্থাটি গতবছর আন্তঃচিড়িয়াখানা ঘড়িয়াল বিনিময় করে দেয়। তারপর ঘড়িয়াল দুটির নাম রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালে চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, শরীরের অর্ধেকটা পুকুর পাড়ে তুলে রেখেছে গড়াই। আর পদ্মা শুয়ে ছিল পুকুরের মাঝে বালুর স্তূপের উপর। চিড়িয়াখানার কিউরেটর জানালেন, ডিম ছাড়া হলে মাদি ঘড়িয়াল বালুর আশপাশেই অবস্থান করে। কিছুদিন থেকে পদ্মা বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছে বালুতে শুয়ে। তাই তারা ধারণা করছেন, সে ডিম ছেড়েছে।

রাজশাহী চিড়িয়াখানার কিউরেটর ফরহাদ উদ্দিন বলেন, পদ্মা-গড়াই দীর্ঘদিন বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে পরিচয় হয়নি। তাই একে অপরের সঙ্গে মিশতে তাদের কিছুটা সময় লেগেছে। প্রথমদিকে তো তারা কাছাকাছিই যেত না। তবে এখন তাদের বোঝাপড়া হয়েছে। তারা খুব ভালো আছে। গেল জানুয়ারিতে তারা ঘড়িয়াল দুটিকে মিলিত হতেও দেখেছেন। তারা আশা করছেন, আগামী আগস্টে বাচ্চার মা হবে পদ্মা। এরমধ্য দিয়েই দেশে প্রথমবারের মতো সংরক্ষিত ঘড়িয়ালের প্রজনন হবে। তিনি আরও জানান, ঘড়িয়ালরা সাধারণত জানুয়ারিতে মিলিত হয়। মার্চ-এপ্রিলে তারা ডিম ছাড়ে। সে অনুযায়ী, এত দিনে পদ্মার ডিম ছেড়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু ঘড়িয়ালরা ডিম রাখে বালুর ভেতর। তাই তারা এখনও বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেননি। কারণ, বালু খুঁড়ে ডিম দেখার সুযোগ নেই। তবে তারা আশা করছেন, আসছে আগস্টে পদ্মার বাচ্চারা বালুর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে। ঘড়িয়ালরা সাধারণত মাছ খায়। তাই এরা মেছো কুমির নামেও পরিচিত। জলচর এই সরীসৃপ প্রাণী অত্যন্ত লাজুক ও শান্ত প্রকৃতির। ঘড়িয়ালের দেহের দৈর্ঘ্য হয় সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ মিটার। এরা সাধারণ ৫০ থেকে ৫৫ বছর বাঁচে। এক সময় পদ্মা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রে এবং সেগুলোর শাখা-প্রশাখায় প্রচুর ঘড়িয়াল দেখা যেত। কিন্তু দেশে প্রজনন সক্ষম ঘড়িয়াল এখন বিলুপ্তির পথে। গেল বছর আইইউসিএন এর গণনা অনুযায়ী, চিড়িয়াখানায় ১১টি ছাড়াও দেশের বড় নদীগুলোতে ৫৮টি ঘড়িয়াল দেখতে পাওয়া গেছে। এরমধ্যে পদ্মায় ৩৯টি, যমুনায় ১৭টি এবং ব্রহ্মপুত্র ও মহানন্দায় একটি করে ঘড়িয়াল দেখা গেছে। বাংলাদেশে ঘড়িয়াল মহাবিপন্ন বন্যপ্রাণী, যা বন্যপ্রাণী আইন দ্বারা সংরক্ষিত।


পায়ে লিখেই জীবন গড়ার স্বপ্ন
মানুষ যেকোনও লেখালেখির কাজ সাধারণত হাত দিয়েই করে থাকে। হতে
বিস্তারিত
বিরিয়ানির হাঁড়িতে লাল কাপড় থাকে
বিরিয়ানি পছন্দ করেন না এমন লোক বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া কষ্ট
বিস্তারিত
ফের প্রকৃতির বুকে বিলুপ্ত হয়ে
প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে নিশ্চিহ্ন
বিস্তারিত
সবচেয়ে বেশি হাসে যে দেশের
‘কোন দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি হাসে?’ এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে
বিস্তারিত
ভালোবেসে পালিয়ে বেড়ানো যুগলেরা
ভারতে বেশিরভাগ পরিবারই নিজেদের ধর্ম ও জাত বা বর্ণের মধ্যেই
বিস্তারিত
পৃথিবীর যে ৯টি ছবি আজও
বলা হয়ে থাকে, একটি ছবিতে যা প্রকাশ করা যায়, তা
বিস্তারিত