সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী হাওয়া

বড় দুই দলে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

জেলার পশ্চিম সীমান্তে ঐতিহাসিক চলনবিল ঘেঁষা তাড়াশ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং রায়গঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৩ আসন। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ৩১। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে শোনা যাচ্ছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় হাই কমান্ডে গ্রুপিং লবিং শুরু করছেন। এরই মধ্যে ফেসবুক, টুইটার, ব্যানার, ফেস্টুনে জানান দিচ্ছেন। ১৯৯১ সালে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইসহাক হোসেন তালুকদার এবং ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে সামান্য ভোটে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির প্রবীণ নেতা আব্দুল মান্নান তালুকদার। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনেও তিনি (মান্নান তালুকদার) নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী গাজী ইসহাক হোসেন তালুকদার ১৯৮৬ সালে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মান্নান তালুকদারকে পরাজিত করে এবং ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর তিনি মারা যান। এ আসনে উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন তাড়াশ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডে সাফল্য অর্জনের দাবি করে আওয়ামী লীগের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি তাড়াশ উপজেলার মাগুরা বিনোদ ইউনিয়ন থেকে দুইবার ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের এমপি গাজী ইসহাক হোসেন তালুকদার মারা গেলে ২০১৬ সালে উপনির্বাচনে এ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। তিনি বলেন, দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতায় মাঠে নেমেছি এবং আগের চেয়ে বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম অনেক শক্তিশালী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রায়গঞ্জ ও তাড়াশে সুষম উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চলছে। তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, দুইটি ফায়ার স্টেশন স্থাপন, তাড়াশ উপজেলা কমপ্লেক্স স¤প্রসারণ, তাড়াশ থানা ভবন নির্মাণ, শত ভাগ বিদ্যুৎ, তাড়াশ পৌরসভা বাস্তবায়ন ঘোষণা, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ-কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এসব উন্নয়নের জোয়ার ও জনগণের ভালবাসায় আগামী নির্বাচনে আমার বিকল্প প্রার্থী নেই। এজন্য দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণের বিপুল ভোটে বিজয় নিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন। 

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এটিএম লুৎফর রহমান দিলু। তিনি রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিল ইউনিয়নের চৌধুরী ঘুঘাট গ্রামের সমাজ সেবক মরহুম আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে। তার সমর্থকরা বলছেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে রয়েছে লুৎফর রহমান দিলুর গ্রহণযোগ্যতা। এলাকায় তিনি দানশীল ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক হিসেবে পরিচিত। দিলু বলেন, ২০০১ সালের পর থেকে রায়গঞ্জ-তাড়াশ এলাকায় দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। সেই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় দলীয় সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। সমাজ সেবক হিসেবেও আমার খ্যাতি রয়েছে। অসহায় গরীবদের চিকিৎসা সহায়তা, কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন কাজেও সহযোগিতা করে আসছি। দল মনোনয়ন দিলে আসনটিতে আওয়ামী লীগের বিজয় সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা জনতা সম্প্রীতি মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক এবং রায়গঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক, তিতুমীর কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা আবুল কালাম আজাদ হৃদয়। রাজনৈতিক ও জনসেবামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে এ তরুণ নেতা এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি ও খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনিও দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি মাঠ গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার সমর্থকরা বলেন, ২০০৫ সালের শেষ দিকে খালেদা জিয়ার অবৈধ নির্বাচন প্রতিহত করতে মাঠে নেমেছিলেন। এ আন্দোলন করতে গিয়ে ঢাকার রাসেল স্কয়ার থেকে যৌথবাহিনীর হাতে আটক হন। আজাদ বলেন, রায়গঞ্জ ও তাড়াশ এলাকার মানুষের পাশে রয়েছি। আগামী নির্বাচনে জনগণ আমাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। এরই মধ্যে এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ শুরু করেছি। যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধা দিয়ে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলেছি। মনোনয়ন পেলে এ আসন থেকে বিজয়ী হওয়ায় তিনি আশাবাদী।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমরুল হোসেন তালুকদার ইমন মাঠে আছেন। তিনি এ আসনের তিনবারের এমপি প্রয়াত ইসহাক হোসেন তালুকদারের ছেলে। তার সমর্থকরা বলছেন, শিক্ষিত ও মার্জিত উদীয়মান নেতা ইমন তালুকদার এ আসনের যোগ্য প্রার্থী। ইমন বলেন, বাবা দীর্ঘদিন এমপি থাকার সুবাদে নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ গ্রামে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী-সমর্থক গড়ে উঠেছে। তাড়াশের চেয়ে রায়গঞ্জ এলাকায় ভোটার সংখ্যাও বেশি। এজন্য আমাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনের সর্বস্তরের মানুষ আমার পাশে থাকবে এবং নিশ্চিত বিজয়ী হবেন বলে তিনি দাবি করেন। 

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল মান্নান তালুকদার ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। সে সময় তার নির্বাচনী এলাকা রায়গঞ্জ ও তাড়াশে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে হামলা-মামলার শিকার দলের নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন। তাকে মনোনয়ন দিলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত। মান্নান বলেন, ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমার হাতে ধানের শীষ তুলে দেন। ধানের শীষ নিয়েই বারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছি এবং খালেদা জিয়ার নির্দেশে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। জনগণের সঙ্গেই আছি এবং নির্বাচনী এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছি। এজন্য আমার বিকল্পে কোনো প্রার্থী নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব বলে আশা করছি। তবে বর্তমান সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ আসনে বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম শিশির ছাত্রমৈত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সাবেক সদস্য। আগামী নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে তাড়াশ-রায়গঞ্জ এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়। এরই মধ্যে তিনি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। শিশির বলেন, প্রভাবশালী এনজিও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে অসহায় পরিবারকে বিনামূল্যে ঘর ও ভিটা উচুঁসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করেছি। সম্প্রতি বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছি এমন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে। জেলহাজতে থাকা অবস্থায় নির্বাচনী এলাকার শত শত নেতাকর্মী দেখতে এসেছেন এবং দোয়া করেছেন। আল্লার রহমত ও জনগণের দোয়ায় চলতি মাসের প্রথম দিন জামিনে মুক্তি পেয়েছি। মনোনয়ন পেলে ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ। 

এ আসনে রায়গঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা ভিপি আইনুল হক মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি একজন ফুটবলার ও সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। আইনুল বলেন, বিএনপির মনোনয়নে জনগণের ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। রায়গঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় আমার গ্রহণযোগ্যতা আছে। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশায় এলাকায় গণসংযোগও শুরু করেছি। দল থেকে মনোনয়ন দিলে ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয় নিশ্চিত বলে তিনি দাবি করেন।


ঘুষ, দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ.ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘আমি
বিস্তারিত
কুলিয়ারচরে বিএনপি প্রার্থী শরীফুলসহ আহত
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশ চলাকালে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা
বিস্তারিত
সারাদেশে নৌকার জোয়ার বইছে: তোফায়েল
ভোলা-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন,
বিস্তারিত
মাদানীকে সমর্থন জানিয়ে রওশনের মনোনয়ন
ময়মনসিংহের ত্রিশাল আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী সাবেক এমপি হাফেজ
বিস্তারিত
সাঈদী ফাউন্ডেশন থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার,
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন নাশকতা এবং পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের নিয়মিত
বিস্তারিত
ময়মনসিংহ-১ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন
ঋণ খেলাপির কারণে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে মনোনয়ন স্থগিত করে হাইকোর্টের
বিস্তারিত