নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া জরুরি

সামগ্রিক উন্নয়নে নৈতিকতা শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও নৈতিকতা একে অপরের পরিপূরক। বড় বড় মনীষীর জীবনী পাঠ করলে দেখা যায়, তাদের জীবনগড়ার ক্ষেত্রে নৈতিকতা শিক্ষা বিশাল অবদান রেখেছে। 

নেপোলিয়ান বলেছিলেন, ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।’ কিন্তু বর্তমান সময়ের শিক্ষিত মা পাওয়া গেলেও নৈতিক ও আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত সন্তানের খুব অভাব! অথচ উন্নত দেশ গড়তে হলে প্রয়োজন উন্নত জাতি। আর উন্নত জাতি গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষা ও নৈতিকতা শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণসমাজ। 
বর্তমান সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছেÑ আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, যে মায়ের সন্তান প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত। যে সন্তান শুধু নিজের কথা না ভেবে দেশ ও দশের কথা ভাববে। (স্বার্থহীনভাবে) দেশকে ভালোবাসবে, অন্যের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।
দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা নানাভাবে বিভক্ত। বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা ছাড়াও মাদ্রাসা শিক্ষা দেশে চালু রয়েছে। সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পাশাপাশি আছে কিন্ডারগার্টেন ও এনজিও পরিচালিত স্কুল। আজকাল বিদ্যালয়ে নৈতিক শিক্ষা তথা সুস্থ-সুন্দর জীবনযাপনের পথনির্দেশ তেমনভাবে দেওয়া হয় না। আরও স্পষ্ট করে বললে, যথার্থ মানুষরূপে গড়ে উঠার জন্য চরিত্র গঠনের ওপর তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শুধু কোনোরকমে দায়সারা পাঠদানেই তারা ভারমুক্ত হতে চান। দুঃখজনক হলেও এটাই নির্মম বাস্তবতা! তবে সব শিক্ষকই এক নন।
একশ্রেণির শিক্ষক-শিক্ষিকা শুধু পুস্তক দেখে পাঠদান কিংবা মাল্টিমিডিয়ার সাহায্যে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শিক্ষাদান করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করতে চান। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের বিষয়ে তারা মোটেও মনোযোগী বা যতœশীল নন। অথচ ছেলেমেয়েদের চিত্তবিকাশ না ঘটলে, ভালো ও মন্দের বিচারবোধ না জন্মালে কারও পক্ষে যথার্থ শিক্ষিত হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই হলো সুপ্ত মানবিক গুণাবলির সম্যক বিকাশ ঘটানো। 
বর্তমানে নৈতিক শিক্ষার ব্যাপারটি একেবারে উঠেই যাচ্ছে বলা যায়। একটা সময় ছোটরা গুরুজন দেখে উঠে দাঁড়াত বা সালাম দিত। গুরুজনদের দেখে উঠে দাঁড়ানো বা সালাম দেওয়াÑ এসব এখন আর চোখে পড়ে না। বিশেষ করে পাবলিক বাসে যাতায়াত করার সময় নৈতিক অবহেলার চরম অবক্ষয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। বয়স্ক গুরুজনদের দেখে এখন আর কেউ বাসের আসন ছেড়ে দাঁড়ায় না। অনেক সময়, বয়স্ক লোকদের ধাক্কা দিয়ে আসন দখল করে নিতেও দেখা যায়। এ ব্যাপারে কাউকে প্রতিবাদ করতেও দেখা যায় না। এভাবে নৈতিকতার অবক্ষয় হতে থাকলে সভ্যতা-ভদ্রতা বলে কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। তাই নৈতিকতা শিক্ষার ব্যাপারটিতে গুরুত্ব দেওয়ার এখনই সময়। পরিবার থেকেই এটি প্রথম শুরু হতে হবে। 
আজকাল বাবা-মায়ের ব্যস্ততার কারণে পারিবারিকভাবেও নৈতিক মূল্যবোধ এবং মানবিক গুণাবলি বিকাশের তেমন শিক্ষা দেওয়া হয় না। নৈতিকতা ও সুকুমার বৃত্তির অনুশীলনের ক্ষেত্রে পরিবারের পরই বিদ্যালয় কার্যকর অবদান রাখতে পারে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। 
নৈতিকতায় শিক্ষার শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। কারণ শিক্ষকরাই মানুষ গড়ার কারিগর। দিনের অনেকটা সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সংস্পর্শে কাটায়। তাই শিক্ষকরা ইচ্ছে করলে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার ব্যাপারটি এগিয়ে নিতে পারেন। মনে রাখতে হবে, কোমল বয়সে শিক্ষার্থীরা যা কিছু শেখে বা ভালো যা কিছু তাদের মনে দাগ কাটে সারাজীবন তারা সেটি ধরে রাখে।
তরুণদের দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। সবসময় সত্য কথা বলার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। বড়দের সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ ও আদর করতে হবে। ধর্মীয় সদুপদেশগুলো মেনে চলতে হবে। কোনো ধর্মেই মিথ্যা, অসততা ও কপটতার আশ্রয় নেই। 
শিক্ষার্থীদের শুধু ক্লাসের পড়ায় ভালো হলে, মনোযোগী হলে চলবে না। সামাজিক ও সেবামূলক কাজে যোগদান করার অভ্যাসও করতে হবে। দেশ পরিচালনার গুরুভার ভবিষ্যতে কিন্তু তরুণদের ওপরই বর্তাবে। কাজেই ভালো কাজ করা, মানুষের উপকার করা, অন্যের অনিষ্ট সাধন না করাÑ এসব গুণ তরুণ শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই আয়ত্ত করতে হবে।
বন্ধুবান্ধবদের আচার-ব্যবহারে উৎকর্ষ সাধনের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ভালো আচরণ আর ভালো গুণ মানুষকে অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখে। প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে ভালো কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নেতিবাচক চিন্তাচেতনা থেকে দূরে থাকতে হবে এবং অন্যকেও খারাপ চিন্তা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিতে হবে। দুর্নীতি, মাদকাসক্তি, পরীক্ষার নকলপ্রবণতা ইত্যাদি খারাপ কাজে কেউ যেন জড়িত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করতে হবে। 
খারাপ কাজের পরিণতি ধ্বংস ছাড়া আর কিছু নয়Ñ এ নিরেট সত্যটুকু তরুণদের অনুধাবন করতে হবে সময় থাকতেই। খারাপ মানুষ সমাজে সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে না। সমাজের সর্বত্র তারা ঘৃণিত ও অপমানিত হয়। তাদের জীবন হয় তিরস্কারের ও অসম্মানের। খারাপ লোকদের সঙ্গে কেউ সুসম্পর্ক করতে চায় না। তাই ভালো গুণ বা ভালো আচরণ আয়ত্ত করতে হবে। ভালো ব্যবহার দিয়ে মানুষকে সহজে আকৃষ্ট করা যায়।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত