আটা কলের ভূত

শোন হিরু, তোমার আব্বু আটা কলে কাজ করেন। তাই ওনার শরীরটা সাদা আটায় ভরে যায়। দেখ না মাথার চুলগুলোও সাদা হয়ে গেছে। হিরু শোনে জবাব দেয়। হ্যাঁ, তাই তো দেখি, আমার আব্বা আটা কলের ভূত হয়ে গেছে। হিরুর মা শুনেই খিলখিল করে হেসে 
দিয়ে বলেÑ চুপ কর, বোকা ছেলে কোথাকার
হিরুর আব্বু বোবা। কথা বলতে পারে না। আধো আধো ভাষায় ক্যাঁ ক্যাঁ করে কী বলেন, কেউ বুঝতে পারে না। শুধু হিরুর দাদুমণিই বুঝতে পারেন।
হিরুর মাও মাঝে মাঝে কিছুটা বুঝতে পারেন। হিরু বাবাকে আব্বু বলেই ডাকে। কতদিন থেকে যে তার আব্বু বোবা, তা হিরু নিজেও জানে না। যদিও হিরুর বয়স ১০ বছর হবে। বড় কাকির সঙ্গে স্কুলে যায়। বড় কাকি খালেদা আক্তার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা। বাংলা পড়ান। সবার প্রিয় বাংলা ম্যাডাম। স্কুলের অনেক দরিদ্র ছাত্রছাত্রীকে বাড়িতে এনেও পড়িয়েছেন ফ্রি ফ্রি!
হিরুও সন্ধ্যাবেলা বড় কাকির কাছে স্কুলের সব পড়া শিখে নেয়। তারপর ঘুমিয়ে পড়ে ওদের বাসায় গিয়ে। ওদের বাসার পাশেই একটি গ্রন্থাগার আছে। ওখানে বিকাল হলেই গ্রামের অনেক শিশু-কিশোর, স্কুল-কলেজপড়–য়া ছাত্রছাত্রী পড়তে আসে। দেশি-বিদেশি অনেক গল্পের বই। মাঝে মাঝে শিক্ষক, উপজেলা কর্মকর্তারাও পড়তে আসেন। হিরুর আব্বু রাতে ৮টায় আসেন। হিরুর জন্য বিস্কুট, চকলেট নিয়ে। হিরু ততক্ষণে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে রাতকানা হয়ে যায়। 
হিরুর মা মালেকা বেগম। হিরুর জন্য বিস্কুট-চকলেটগুলো দুধের ডানো কৌটার ভেতর ঢুকিয়ে রাখেন। সকাল হলেই হিরুকে খেতে দেন। হিরু হাতে নিয়ে মজা করে খেয়ে আনন্দ পায়। খাওয়া শেষে পড়তে বসে। পড়তে পড়তে যেই ঘড়িতে ৮টা বাজে, রেডি হয়ে অমনি বড় কাকির সঙ্গে স্কুলে রওনা শুরু করে। হেঁটে হেঁটেই স্কুলে যায়। 
স্কুল খুবই কাছে, শহরের দক্ষিণ পাশে। বিকালবেলা স্কুল ছুটি হলেই মাঝে মাঝে হিরু তার মাকে বাসায় এসে জিজ্ঞেস করেÑ মা, মাগো, বাবা কেন কথা বলতে পারে না? আমার আব্বু কি কখনও কথা বলতে পারবে না? আমার যে বাবার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে। বাবা আমাকে হিরুসোনা বলে ডাকবে। মাঝেমধ্যে আব্বুর সঙ্গে স্কুলে যাব, খুবই মজা করব। বাবাকে আমি বলব লাল জামা কিনে দিতে। বাবা লাল জামা কিনে দেবে, আমাকে আদর করবে। আব্বুর কাঁধে করে ঘুরব। আকাশে আমার হাত দুটি মেলে উড়ব। বাবা আমাকে নিষেধ করবেন। আমি আব্বুর নিষেধ-বারণ শুনব না। দৌড়ে পালিয়ে যাব। বাবা আমাকে খুঁজে খুঁজে বের করবেন। বল মা। আমি কি বাবার সঙ্গে ঘুরতে পারব? বাবার সঙ্গে ঘুরতে পারব না?
হিরুর মা ততক্ষণে হিরুর কথা শুনে চুপ করে থাকে। ফ্যালফ্যালিয়ে হারিকেনের আলোয় তাকিয়ে থাকেন। একটা মশা গুনগুন করে হিরুর গায়ে এসে বসতেই মা দুই হাত দিয়ে মশাটাকে তাড়িয়ে দেন। 
এ দিকে হিরু তার মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। মা বালিশে মাথা রেখে ঘুম পাড়িয়ে দেন। রান্নাঘরে ঢোকেন। তরকারি চুলোয় একটু গরম করেন, হিরুর বাবার জন্য। কিছুক্ষণ পরই হিরুর বাবা সেলিম সাহেব আসবেন বাসায়। এসেই গোসল করবেন। তারপরই বসে হিরুর মা ও বাবা দুজনই খাওয়াদাওয়া করেন। 
দরজায় নক করতেই হিরুর ঘুম ভেঙে যায়। হিরু লাফিয়ে ওঠে আর বলেÑ বাবা, তোমার একি অবস্থা। তোমার গা সাদায় ভর্তি কেন? কী হয়েছে? হিরুর আব্বা ক্যাঁ ক্যাঁ করে কী যেন বলে। হিরু কিছুই বোঝে না, হিরুর মা সবই বোঝেন। প্রায় ১০ বছর হলো সংসার করেন। হিরুকে সব বুঝিয়ে বলেন। শোন হিরু, তোমার আব্বু আটা কলে কাজ করেন। তাই ওনার শরীরটা সাদা আটায় ভরে যায়। দেখ না মাথার চুলগুলোও সাদা হয়ে গেছে। হিরু শোনে জবাব দেয়। হ্যাঁ, তাই তো দেখি, আমার বাবা আটা কলের ভূত হয়ে গেছে। হিরুর মা শুনেই খিলখিল করে হেসে দিয়ে বলেÑ চুপ কর, বোকা ছেলে কোথাকার। হিরুর আব্বা দড়ির ওপর থেকে গামছা আর লুঙ্গিটা কাঁধে নিয়ে কুপি জ্বালিয়ে গোসল করতে যান। হিরু চুপ হয়ে মায়ের সঙ্গে বসে থাকে। 


ভাইয়ের ভালোবাসা
রুহানকে ভাইয়ের ভালোবাসা বোঝানোর জন্যই মামার এই কৌশল। এ কথা
বিস্তারিত
শরৎ সাজ
শরৎ সাজ পাই খুঁজে আজ শিউলি ফোটা ভোরে পল্লী গাঁয়ের মাঠে
বিস্তারিত
মশারাজ্যে
প্যাঁপো লাফাতে লাফাতে বলল, ‘আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম, আপনি বিদেশি
বিস্তারিত
আবার শরৎ এলো
নদীর ধারে শাদা ফুলের দোলা,
বিস্তারিত
জাতীয় কবি
ছোট্টবেলায় বাবা মারা যান অসহায় হন ‘দুখু’ সংসারে তার হাল ধরা
বিস্তারিত
বিদ্রোহী নজরুল
চুরুলিয়ার সেই ছেলে তুমি  কবিতার নজরুল, রণাঙ্গনের বীর সৈনিক প্রাণেরই বুলবুল। কেঁদেছো তুমি দুখীর
বিস্তারিত