শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন

পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। এদিন বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও এক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন হাসিনা, মোদি ও মমতা। ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরিনাথ ত্রিপাঠিসহ বিশিষ্টরা।  এর আগে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শান্তিনিকেতনে পৌঁছানোর পর বিশ্বভারতীর আচার্য তথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধ-শত জন্মবার্ষিকীর উদযাপন ঘিরে বাংলাদেশের অর্থায়নে এ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশ্বের কাছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘মডেল’ হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠেও উঠে এসেছে বন্ধুত্ব ও সহযোগীর কথা। তিনি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, পরস্পরের বিকাশে সহযোগিতা করছে তা অন্যদের জন্যও একটি শিক্ষা, একটি উদাহরণ। শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ ঠিক করেছেন, তা অর্জনে ভারতের ‘পূর্ণ সমর্থন’ থাকবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মোদি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমাদের এ পারস্পরিক সহযোগিতার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হব এবং এর ফলে বিশ্ববাসীর সম্মুখে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মডেল হিসেবে গণ্য হবে বলে আশা করা যায়।

বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, একটা প্রতিবেশী দেশ থাকলে সমস্যাও থাকতে পারে, আমরা কিন্তু সমস্যাগুলো একে একে সমাধান করে ফেলেছি। হয়তো কিছুটা বাকি, আমি সে কথা বলে এ চমৎকার অনুষ্ঠান নষ্ট করতে চাই না। কিন্তু আমি আশা করি, যে কোনো সমস্যা আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমেই সমাধান করতে পারব। এসময় মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের সে অবদান আমরা কোনো দিন ভুলতে পারি না। আমাদের এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দিয়েছে, অস্ত্র দিয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়টিও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই, বাংলাদেশকে দরিদ্রমুক্ত করতে। মানুষের মুক্তির জন্য আমাদের সংগ্রাম।  বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে চাই। এদিন আবেগতাড়িত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কষ্টের সময় আশ্রয় দিয়েছে ভারত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর হত্যার সময় পাশে ছিলেন ইন্দিরা। সে সময় আশ্রয় না পেলে কী হতো জানি না। হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশ নির্যাতিতাদের আশ্রয় না দিয়ে পারে না। ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি আমরা। আমরা তাদের তাড়াতে পারি না। ১৬ কোটি মানুষকে যখন খাওয়াতে পারছি, বাকিদের পারব না? দরকার হলে খাবার ভাগ করে খাব। এদিন সর্বশেষে শেখ হাসিনা ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।  

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আর নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশেকে ২০৪১ সালের মধ্যে শিক্ষিত রাষ্ট্র করে তোলার যে লক্ষ্য নিয়েছেন, এ তার দূরদৃষ্টি। এ লক্ষ্য অর্জনে ভারতের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। শেখ হাসিনার পরিকল্পনাকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন মোদি। তিনি  বলেন, আমাদের লক্ষ্য এক এবং সে লক্ষ্যে পৌঁছানোর পদ্ধতিও এক। আমাদের দুই দেশের সামনেই জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এদিকে আমরাও আগামী বছরের মধ্যে ভারতের সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছি।   

বাংলাদেশ এবং ভারতের অগ্রযাত্রার সূত্র একটি সুন্দর মালার মতো উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, কিছুদিন ধরে আমাদের সামনে এক ধ্রুব সত্য এসেছে, তা হলো প্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি ও ঐক্যের জন্য দরকার ভারত এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্ব। পারস্পরিক সহযোগিতা। এই সহযোগিতার বিকাশ কেবল দুই পক্ষের কারণেই হয়েছে তা নয়, বিমসটেকের মতো একটি প্লাটফর্মও আমাদের সহযোগিতা, প্রগতি ও সংযোগকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। 

বাংলাদেশ ভবন নিয়ে পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, আমার খুব ভালো লেগেছে, এটা দারুণ হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধুর কথা মনে পড়ছে বারবার। কারণ ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশের সম্পর্ক সেই ১৯৭১ সাল থেকে। তিনি বলেন, অবিরল-অবিচল, একেবারে পদ্ম-মেঘনা-যমুনার মতো, অনেক জল গড়িয়ে গেছে, অনেক জল গড়াবে। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক আরও অনেক অনেক ভালো হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি। ভারতে কবি নজরুল ইসলামের নামে বিমানবন্দর, একাডেমি, তীর্থ প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর নামেও একটি বঙ্গবন্ধু ভবন করতে চাই, যখনই আমাদের সুযোগ দেবেন, আমরা করব।

এর আগে বাংলাদেশ ভবনের ফলক উন্মোচন করে ওই ভবনের মিলনায়তনেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন শেখ হাসিনা, নরেন্দ্র মোদি ও মমতা ব্যানার্জিসহ অনুষ্ঠানের অতিথিরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত শোনানো হয়। পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর কেশরীনাথ ত্রিপাটি, বিশ্বভারতীর ভিসি অধ্যাপক সবুজ কলি সেনসহ দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশের অর্থায়নে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাংলাদেশ ভবনে গবেষকদের সহায়তার জন্য পাঠাগার, অডিটরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া, ডিজিটাল জাদুঘর ও আর্কাইভ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। এ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি রুপির একটি স্থায়ী তহবিল গঠন করার ঘোষণা দেন অনুষ্ঠানে।


‘আমরা ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব’
বাংলাদেশে কোনো ভিক্ষুক থাকবে না বলে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি
বিস্তারিত
মালয়েশিয়া লোক নেয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত
বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা
বিস্তারিত
ফেরার পথে ভোগান্তি, যানজট বাড়তি
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলমুখী হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে
বিস্তারিত
তিন সিটিতে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত
আসন্ন রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে
বিস্তারিত
‘সুদের হার না কমালে কর
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক খাতে করপোরেট কর কমানোর যে
বিস্তারিত
একনেকে ১৫ প্রকল্প অনুমোদন
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৫টি প্রকল্পের অনুমোদন
বিস্তারিত