লক্ষ্য অর্জনে চাই একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রম

বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতিতে পৃথিবীর অনেক কিছু বদলে গেলেও কিছু জিনিস এখনও আগের মতোই আছে। মানসিক দক্ষতা, গাণিতিক যুক্তি, সমস্যা সমাধানের কৌশল, যোগাযোগ দক্ষতা, টিমওয়ার্ক নিয়ে জ্ঞানার্জন, এক সময় এগুলো ছিল সফলতার সূত্র। মানুষকে সফল হতে হলে এসব দক্ষতার প্রয়োজন ছিল। আগে এসব গুণ সফলতার পথ নির্মাণ করত। 

আর আধুনিক বিশ্বে মানুষ এসব দক্ষতা নিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করেন। ইন্টারনেটের কারণে আগে থেকেই সব জানতে পারেন; কিন্তু তারপরও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাজের দক্ষতা আর গুণ মানুষকে অভিজ্ঞ করে তোলে। নিজেকে অন্যের চেয়ে দক্ষ করে তুলতে পরিশ্রম ও একাগ্রতার বিকল্প নেই। জীবনে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে চাইলে কিছু নীতিগত শিক্ষা অর্জন সবার জন্য জরুরি। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের তরুণদের উদ্দেশ্যে কিছু বিষয় তুলে ধরতে চাই।

কঠোর পরিশ্রম : জীবনে উন্নতি করতে হলে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। পৃথিবীতে কোনো মানুষই সৌভাগ্য নিয়ে জন্মায় না। কর্মের মাধ্যমে তার নিজের ভাগ্য গড়ে নিতে হয়। পরিশ্রমই সৌভাগ্য বয়ে আনে। নিষ্ঠা, একাগ্রতা, উদ্যম, আন্তরিক প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই নিজের ভাগ্যের বদল করতে হয়। তাই বলা হয়Ñ পরিশ্রমই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কঠিন কাজও সহজ হয়। পরিশ্রম ছাড়া কেউ কখনও তার ভাগ্যকে গড়ে তুলতে পারেনি। কঠোর পরিশ্রমই হলো উন্নতির চাবিকাঠি। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী, সে জাতি তত বেশি উন্নত। যে কাজ একবার শুরু করবেন, তা নিয়ে দ্বিধান্বিত না হয়ে সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত দুর্নিবার ইচ্ছা আর পরিশ্রম দিয়ে সেই কাজ করে যান। জয় নিশ্চিত। শুধু প্রতিভা থাকলে হবে না, সেটাকে যথাযথ কাজে লাগাতে হবে। আমরা সবাই খরগোস আর কচ্ছপের গল্প জানি। কচ্ছপ একটুও আলসেমি করেনি বলেই সে জিতে যায়।

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মস্থলে, পেশাজীবনে, খেলাধুলায়Ñ সব জায়গায় অনেক প্রতিভাবান লোকের দেখা মেলে। কিন্তু প্রতিভা দিয়েই সব হয় না। সফলতার জন্য প্রয়োজন একাগ্রতা, প্রচ- ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম। বড় কিছু অর্জনের জন্য যতটা সম্ভব দৃঢ়তার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করে যান। সাফল্য এসে আপনার দরজায় কড়া নাড়বে, জয় আপনারই হবে।

নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন : নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আত্মবিশ্বাস ছাড়া কোনো কাজেই সফলতা আশা করা যায় না। বলা হয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুরু করা মানেই হলো অর্ধেক কাজ করে ফেলা। আত্মবিশ্বাস মানে নিজেকে চেনা। নিজের সৃজনশীলতার ওপর আস্থা রাখা। হীনম্মন্যতা দূর করা। দৈনন্দিন ও প্রত্যাহিক জীবনে আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করা। নিজের বন্ধু আর পরিবারকে সবসময় কাছে রাখবেন। তারাই আপনার পথচলা পরিপূর্ণ করে তুলতে পারে। ভালো সময়গুলো তাদের সঙ্গে উদযাপন করুন। আর কঠিন সময়গুলোয় পরিবার আর বন্ধুদের পরামর্শ নিন। নিজের বিশ্বাসের ওপর আস্থা রাখুন।

নিজ বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞানার্জন করুন : যে কাজটি করবেন সে বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ী হতে হবে। কাজটি সম্পর্কে আপনার স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। ভাসা ভাসা হালকা ধারণা নিয়ে কাজ করলে সফল হওয়া যায় না। মহান আল্লাহ তায়ালার ঘোষণাÑ ‘হে নবী! আপনি বলে দিন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?’ না কোনো ক্ষেত্রেই সমান হতে পারে না। তাই আপনাকে সাধারণ জ্ঞান, মৌলিক আদর্শের জ্ঞানসহ পেশার জ্ঞান সম্পর্কে শ্রেষ্ঠত্ব বা উত্তমদের কাতারে শামিল হতে হবে। আপনি যে বিষয়েই পড়াশোনা করেন আপনাকে যথাযথভাবে সেই বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে হবে। জ্ঞানকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর জন্য যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় আপনাকে আয়ত্ত করতে হবে। তাহলে আপনার পথচলা সুদৃঢ় ও পদস্খলন মুক্ত হবে। জ্ঞানের ব্যপ্তি ও গভীরতা থাকা আপনার জন্য এটা আবশ্যক।

সাহস ও আত্মপ্রত্যয় : সাহসকিতা একটি উত্তম গুণ। যে-কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সম্পাদনের জন্য যথেষ্ট সাহসিকতার প্রয়োজন রয়েছে। আপনার মধ্যে অদম্য সাহস ও সুদৃঢ় আত্মপ্রত্যয় থাকতে হবে। আপনাকে নতুন প্রযুক্তি ও ধ্যানধারণা প্রয়োগের ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। পর্যাপ্ত সাহস, মনোবল ও আত্মপ্রত্যয় থাকলে আপনার পক্ষে যে-কোনো পরিবেশ-পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

একাগ্রতা ও আন্তরিকতা: ছাত্রজীবন কিংবা চাকরিজীবনে যে কোন কাজে সফতার জন্য চাই আন্তরিক প্রচেষ্টা ও একাগ্রতা। নতুন প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো কোনো সহজ কাজ নয়। যে-কোনো উদ্যোক্তাই কঠিন সময়েও কাজ করে যাওয়ার প্রবল মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যায় এবং মাঝে মাঝে সে বড় কিছু করে ফেলে। যারা সিরিয়াস তারা যে-কোনো কিছু করতে প্রস্তুত থাকে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন। একটি বিষয়ে তারা ধাপে ধাপে এগিয়ে যায়, তারা কখনও একসঙ্গে সবকিছু করতে গিয়ে ঝামেলা তৈরি করে না।

সুতরাং যাই করুন, সেই কাজের প্রতি অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে। আন্তরিকতার সঙ্গে পরিচালনা করলে কাজের অগ্রগতি হয়। তাই কাজের প্রতি আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।

সময়ের কাজ সময়ে শেষ করা : সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তাই সময়ের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। সময়ের কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করে ফেলতে চেষ্টা করুন। অহেতুক কাজ জমিয়ে পরবর্তী সময়ে সেগুলো একসঙ্গে করতে গেলে হিমশিম খেতে হয়। যেখানে যে সময়ে যাওয়া প্রয়োজন ঠিক সেই সময়ে উপস্থিত হোন। দেরিতে উপস্থিত হয়ে নিজে বিব্রত হবেন না, অন্যদের বিরক্ত করবেন না। সময়কে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, সময়কে ব্যবহার করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। সর্বদাই সময়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে এবং সময়ের মূল্য দিতে হবে। এজন্য তরুণদের মধ্যে সময় সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন।

প্রস্তুত থাকা ও নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া : সবসময় কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কাজের রুটিন তৈরি করতে হবে। কোন কাজ, কখন, কীভাবে করবেন তার জন্য তালিকা তৈরি করে নিন। অগোছালো কাজ কারও পছন্দ নয়। তাই যতটা সম্ভব গুছিয়ে কাজ করুন। এতে আপনার কর্ম পরিবেশ সুন্দর হবে, কর্মস্পৃহা বাড়বে। বছরের শুরুতেই একটি বা দুটি ক্ষেত্র বেছে নিন, যেগুলোর প্রতি সারা বছর বিশেষ মনোযোগ রাখতে পারবেন।

সঠিকভাবে ও পরিপূর্ণভাবে কাজ সম্পন্ন করা : সফলতার পূর্বশর্ত হচ্ছে উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কাজটি করা। আপনার করণীয় কাজগুলোকে গুরুত্বের ক্রমানুসারে সম্পন্ন করুন। প্রতিদিন সকালে কাজের একটা তালিকা করুন, তারপর গুরুত্বের ক্রমানুসারে সাজান। প্রতিটি কাজ করতে কতক্ষণ সময় লাগতে পারে সেই অনুযায়ী পাশে বরাদ্দ সময় লিখুন। নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে কাজ করতে শিখুন এবং কাজ শুরু করুন। কারণ আপনার কাজের যদি কোনো টাইমলাইন বা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া না থাকে, তাহলে কখনও আপনি এটা সম্পন্ন করতে পারবেন না। তারপর ক্রমানুসারে কাজ শেষ করুন। দেখবেন আপনার সব কাজ সঠিকভাবে শেষ হয়ে গেছে। সফলতার জন্য দক্ষতার উন্নয়ন প্রয়োজন। কিন্তু দক্ষতা বিষয়টি অনেক ব্যাপক এবং একটি দক্ষতা আরেকটি দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। আপনি শুধু একটি বা দুটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে সাফল্য লাভ করবেন, এটা মনে করা ঠিক নয়। সাফল্য লাভ করার জন্য যত বেশি দক্ষতা অর্জন করা যায়, ততই ভালো। আর এজন্য প্রয়োজন বেশি বেশি কাজ করা।

কাজকে বোঝা মনে না করা : কাজকে বোঝা মনে না করে সহজভাবে গ্রহণ করুন। কাজের চাপ কমানো এক দিনের অনুশীলন নয়। আসলে কাজের চাপ আছে, না কি শুধু শুধু ঘাবড়ে যাচ্ছেন! বিষয়টি নিয়ে ভাবুন! মনে মনে ভাবছেন, যদি কাজটা ঠিকমতো না হয়! যদি ভুল হয়! সুতরাং কোনো রকম চাপ মনে না করে বারবার চেষ্টা করুন।


আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ পেলেন ৯০ প্রাণী
পোলট্র্রির বিজ্ঞানসম্মত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, সঠিকভাবে রোগবালাই নির্ণয়, চিকিৎসা এবং রোগ
বিস্তারিত
সবার উপরে বাবা-মা
যে-কোনো মানুষের গায়ে হাত তোলাই অপরাধ। আর সন্তান হয়ে বাবা-মায়ের
বিস্তারিত
স্মৃতির মানসপটে যুক্তরাজ্য সফর
বিদেশে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই হয়ে থাকে। তবে কলেজের প্রতিনিধি,
বিস্তারিত
ব্যবসার ধারণা : গড়তে চাইলে
নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে আপনাকে উদ্যোগী হতে হবে। আর উদ্যোক্তা
বিস্তারিত
৭৫ শতাংশ বৃত্তিতে আইটি ও
বিভিন্ন কারণে যারা আইটিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদের
বিস্তারিত
লক্ষ্য যখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে ক্রমাগত উর্বরা জমির পরিমাণ কমছে। জনসংখ্যার এ
বিস্তারিত