রোজাদারের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা

ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান ‘রোজা’। মহান প্রভুর সান্নিধ্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের উজ্জ্বল সোপান। রোজাব্রত পালনের ফজিলত ও প্রতিদান আল্লাহ নিজেই দিয়ে থাকেন। অন্যসব আমলের সওয়াব ফেরেশতাদের মাধ্যমে পৌঁছান কিংবা আমলের সওয়াব পূর্বনির্ধারিত থাকে। কিন্তু রোজাই একমাত্র আমল যার সওয়াব আল্লাহ নিজেই দান করবেন। কেননা মানুষের সব আমল তার নিজের জন্য। কিন্তু রোজা আল্লাহর জন্য। নবীজি (সা.) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ বলেন, ‘রোজা আমার জন্যই। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দেব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশগুণ।’ (বোখারি : ১৮৯৪)।

মানুষের মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের লক্ষ্য হলো জান্নাত। সুষ্ঠু-শুদ্ধ জ্ঞানীমাত্রই আশা করে জান্নাত লাভের। আল্লাহপাক নবীদের দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন মানুষের জন্য। মানুষের কল্যাণের জন্য। সৎ পথ দেখিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য। মানুষ তার আমল দ্বারা জান্নাতে যাবে। আল্লাহর সন্তুষ্টিচিত্তে জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামত ভোগ করবে। বান্দার আমল রবের সন্তুষ্টি তাকে আটটি জান্নাতের একটিতে বাসিন্দা বানাবে। কোনো বিশেষ আমলের জন্য জান্নাতের নির্ধারিত প্রবেশদ্বার নেই। তবে রোজাই একমাত্র আমল, যার জন্য রয়েছে নির্ধারিত জান্নাতের দরজা, যার নাম ‘রাইয়্যান’। যে দরজা দিয়ে শুধু রোজাব্রত পালনকারী ব্যক্তি প্রবেশ করবে। 
রাসুল (সা.) বলেন, ‘জান্নাতের রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কেয়ামতের দিন রোজা পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাদের ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেওয়া হবে, রোজা পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে করে এ দরজাটি দিয়ে অন্য কেউ প্রবেশ না করে।’ (বোখারি : ১৮৯৬)। 
ইবনে হিব্বান কিতাবে আছে, আবু উমামা (রা.) রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন যার কারণে আমি জান্নাতে যেতে পারি। তিনি বলেন, তুমি সিয়াম পালন করো। কেননা এর সমমর্যদার কোনো আমাল নেই।’
মানুষের পেটে দীর্ঘ সময় ধরে খাবার না পৌঁছলে, পেটে এক ধরনের বাষ্প তৈরি হয়। বাষ্প থেকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। সেই বাষ্প যখন ঢেঁকুর অথবা ‘হাইয়ের’ সঙ্গে মুখ দিয়ে বের হয়, তখন সেটা দুর্গন্ধ হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। একজন রোজাদার ব্যক্তি দিনের পুরোটা সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার দরুন তার মুখের শ্বাসপ্রশ্বাসে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এই দুর্গন্ধটা আমাদের কাছে যদিও বিষাদ ও অস্বস্তি লাগে; কিন্তু আমাদের মালিক আল্লাহর কাছে অতিপ্রিয়। এই গন্ধে আল্লাহ বিমোহিত হন। এই ঘ্রাণে সুভাসিত হন। ঘ্রাণের মোহে আন্দোলিত হয়ে বান্দার প্রেমে পড়েন। আল্লাহর পছন্দের কথা হাদিসে এভাবে রাসুল (সা.) ব্যক্ত করেনÑ ‘রোজাদার ব্যক্তির মুখের গন্ধ আল্লাহ তায়ালার কাছে কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।’ (মুসলিম : ১১৫১; ইবনে মাজাহ : ১৬৩৮)।
মানুষ গোনাহের ভেতর জীবনযাপন করে। স্বাদে-অস্বাদে গোনাহ করে। পাপ পঙ্কিলতায় জীবনের দেয়ালে কলঙ্কের শ্যাওলার আবরণ ফেলে দেয়। তখন জীবন থেকে শুদ্ধ সভ্য জীবন পালিয়ে বেড়ায়। গোনাহের বোঝাকে সরিয়ে জীবনকে পবিত্রতার সমুদ্দুরে স্নাত করে রোজা। রোজা মানুষের গোনাহকে ধুয়ে মুছে দেয়। গোনাহকে ক্ষমা করে দেয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানসহ সওয়াবের আশায় রমজানে সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সব গোনাহ মাফ হয়ে যাবে।’ (বোখারি : ১৯০১)। 
জাহান্নাম শাস্তি দেওয়ার প্রধান জায়গা। জাহান্নাম অপরাধীর আবাসস্থল। সুস্থ বিবেকবান মানুষ দৃঢ়ভাবে প্রার্থনা করে, জাহান্নাম থেকে মুক্তির। জাহান্নামের নিকৃষ্ট আজাব থেকে পরিত্রাণ। রোজা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়। নরকের সম্মুখে ঢাল হয়ে প্রতিরোধ গড়ে। ব্যক্তিকে জাহান্নামের ভয়াবহ আজাব থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যুদ্ধের মাঠে ঢাল যেমন তোমাদের রক্ষাকারী, রোজাও তদ্রƒপ জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার ঢাল।’ (ইবনে মাজাহ : ১৬৩৯; বায়হাকি : ৪/২১০)। 


ব্যক্তি ও সমাজ সংশোধনে লোকমান
প্রজ্ঞাময় কোরআনের উপদেশগুলোতে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষা। রয়েছে মহান আল্লাহর
বিস্তারিত
ইসলামে খাদ্য গ্রহণে পরিমিতিবোধ
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামান্য বেশি খাদ্য গ্রহণও ইসলামে কাম্য নয়। এতে 
বিস্তারিত
বাউল গানের নামে অপব্যাখ্যা কাম্য
যে কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে হলে প্রথমে ওই বিষয়ে পরিপূর্ণ
বিস্তারিত
শীত মৌসুমের দান ও উপহার
প্রচণ্ড গরমের পর কষ্টদায়ক শীতের আগমন ঘটেছে। তাপদাহের পর শীতের
বিস্তারিত
যে দশ আমলে জান্নাতে ঘর
পৃথিবীতে একটি ঘর তৈরি করতে মানুষ জীবনে কত চেষ্টা ও
বিস্তারিত
নবী ঈসা (আ.) এর প্রতি
‘তারা বলে, ‘পরম দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন!’ তোমরা তো এক
বিস্তারিত